সঙ্গীত জগতের উজ্জ্বল এন্ড্রু কিশোর

আপডেট: জুলাই ১১, ২০২১, ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ

মুহম্মদ এলতাসউদ্দিন:


এই উজ্জ্বল নক্ষত্রটি আপনাদের সকলের অতি পরিচিতি এবং আপনজন এন্ড্রু কিশোর। এন্ড্রু কিশোর রাজশাহীর এক কৃতী সন্তান এবং আমি তাকে বাল্যকাল থেকেই চিনি এবং জানি। তাঁর জন্ম নভেম্বর, ১৯৫৫, আর আমার জ্যেষ্ঠ পুত্র গোলাম মুক্তাদিরের জন্ম ১৯৫৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। তারা একই বয়সের এবং বন্ধুও বটে। কিশোরের পিতার নাম ক্ষিতীশচন্দ্র বারুই তার মাতার নাম মীনা বারুই। তাঁরা দু’জনই রাজশাহীর মিশন হাসাপাতালে কর্মরত ছিলেন। এন্ড্রু কিশোর লেখাপড়ায় মোটামুটি ভালই ছিলেন। কিন্তু তার প্রতিভার স্ফুরণ ঘটে সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে। কিশোর এসএসসি পাস করেন রাজশাহী কোর্ট একাডেমি থেকে এবং এরপরই ভর্তি হন রাজশাহী সিটি কলেজে কমার্স গ্রুপে। এই কলেজ থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে এইচএসসি পাস করেন এবং ভর্তি হন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগে। সেখান থেকে এম.কম.ও পাস করেছিলেন। কাজেই লেখাপড়ার দিক থেকেও তিনি পিছিয়ে ছিলেন না। উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করেও তিনি তা কাজে লাগাতে পারেন নি বা কাজে লাগাবার চেষ্টাও করেন নি। প্রবেশ করলেন সঙ্গীত জগতে। সেখান থেকে তাঁকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।
জন্মের সময় প্রতিটি শিশু সুপ্ত প্রতিভা দিয়ে জন্মগ্রহণ করে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা বিকশিত হতে থাকে। আর ক্রমশ সেই প্রতিভা দৃশ্যমান হয়। শিক্ষার দ্বারা সেই সব সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটানোর সহায়তা করা হয়। একই মানুষের মধ্যে সব কিছুরই অস্তিত্ব পাওয়া যায় না। কেউ হয়তো বা হয় কবি, দার্শনিক, শিল্পী, সাহিত্যিক, অন্যরা হয়তোবা হন বিজ্ঞানী, ভাল খেলোয়াড় বা অন্যান্য গুণাবলির অধিকারী। কাজেই েেচষ্টা করে শিল্পী, সাহিত্যিক, কবি বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী হওয়া যায় না, যদি না তাঁর ভেতরে সেই প্রবণতা বা অ্যাপটিচুড না থাকে। মাইকেল মধূসুদন দত্ত ছিলেন বিস্ময়কর এক প্রতিভা। তিনি যা আমাদেরকে দিয়ে গেছেন শত চেষ্টা করেও তা অন্য কেউ দিতে পারবে না। এই প্রতিভা সৃষ্টিকর্তার প্রদত্ত। শত চেষ্টা করেও তা অর্জন করা সম্ভব নয়। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, চিত্রশিল্পে জয়নুল আবেদিন, নেতৃত্বদানে শেরেবাংলা এ.কে. ফজলুল হক, আব্দুল হামিদ খান ভাষানী, হোসেন শহীদ শোহরাওয়ার্দী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, এদের কোনো বিকল্প আছে কি? ফকির লালন শাহ ছিলেন নিরক্ষর। অথচ তিনি আমাদেরকে যা দিয়ে গেছেন, তার কি কোনো তুলনা হয়? “কে কথা কয়রে দেখা দেয় না, নড়ে চড়ে হাতের কাছে খুঁজলে জীবনভর মিলে না, কে কথা কয়রে দেখা দেয় না।” তাঁর এই গানটি শোনার সঙ্গে আমার মনে পড়ে, আমি হলে এরই প্যারোডি লিখে ফেলতাম “কে দেখা দেয়রে, কথা কয়না” স্ত্রীরা যখন স্বামীর উপর গোষ্মা করে তখন তারা চোখের সামনেই ঘোরাফেরা করে কিন্তু কথা কয়না। পাঠকবৃন্দ আমি কি অন্যায় কিছু বললাম? এ কালের সিলেটবাসী শাহ্ আবদুল করিমের অনুষ্ঠানিক শিক্ষা তেমন ছিল না, অথচ তিনি যে সব গান গেয়ে গেছেন, তা ভাবলে আশ্চর্য লাগে। কাজেই চেষ্টা করলেই যে সবকিছু করতে পারবেন বা হতে পারবেন এমনটি চিন্তা করার কোনো কারণ নেই। আমি কবি বন্দে আলী মিঞাকে খুব কাছ থেকে দেখেছি, কবি কাদের ওয়াজকেও দেখেছি, খান মইনউদ্দিনকে এবং কবি শামসুর রাহমানকে দেখেছি। তাঁরা জাত কবি অর্থাৎ সৃষ্টিকর্তার অপূর্ব সৃষ্টি।
আশির দশকের শেষের দিকে প্রখ্যাত সঙ্গীত শিল্পী হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, ঢাকা এসেছিলেন। তাঁকে নিয়ে বাংলাদেশ টেলিভিশন একটি সাক্ষাৎকার প্রচারিত হয়েছিল। সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন, সঙ্গীত শিল্পী, সাহিত্যিক, আমার ¯েœহভাজন আবুহেনা মোস্তফা কামাল। সেখানে তিনি বললেন, “সঙ্গীতের ব্যাপারে আমি নির্লিপ্ত ছিলাম। স্কুলে পড়ার সময় স্কুলের অনুষ্ঠানে প্রায় গানবাজনা হতো। অথচ আমাকে কেউ চিনতোনা বা গানের কথা বলতোও না। আমি শ্রোতা হিসেবেই উপস্থিত থাকতাম। আমাদের এক মুরুব্বি বললেন, “হেমন্ত তুমি মনে হয় গান গাইতে পারবে। তুমি কোনো গানের একটি কলি গেয়ে আমাকে শুনাওতো” আমি অবশ্য একটি গানের কয়েক লাইন গাইলাম, খালি গলায়। তিনি আমার গান খুব পছন্দ করে ফেললেন এবং মন্তব্য করলেন, তুমি খুব ভাল শিল্পী হবে। কিছুদিন গানের তালিম নিলাম। আমার মুরুব্বি আমাকে নিয়ে গেলেন সোজা “হিজ মাস্টার ভয়েস” কম্পানিতে অডিশন দিতে। আমি অডিশনে টিকে গেলাম। এই গান গাওয়া শুরু হলো। পেছনে আর তাকাতে হয়নি। তরতর করে উপরে উঠে গেলাম একেবারে খ্যাতির শীর্ষ স্থানে।” তিনি বিশেষ করে একটি কথা বলেছিলেন, “দেখুন এই গানের জন্য আমার কোনো কৃতিত্ব নেই, সকল কৃতিত্ব ঈশ্বরের। যিনি আমাকে সুকণ্ঠের অধিকারী করেছেন। আমি কিছুই নই। ঈশ্বর যদি আমাকে এইটুকু দয়া না করতেন, তবে কি আমি এতো বড় শিল্পী হতে পারতাম। তাঁর মন্তব্য প্রণিধানযোগ্য। বাংলা গানের সঙ্গীত শিল্পী হেমন্ত মুখোপাধ্যায় ও সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়, হিন্দি গানে মোহাম্মদ রফি ও লতা মুঙ্গেশকার, উর্দু গানে কোকিল কণ্ঠী নূরজাহান সেকালে কিংবদন্তীতে পরিণত হয়েছিলেন। তাঁদের সেই খ্যাতি এখনো অম্লান রয়েছে। বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী মান্নাদে এক সাক্ষাৎকারে বললেন, “মোহাম্মদ রফি যে হাইটে গান গেয়ে গেছেন আমরা সেটা পারব না।”
আমি ব্রিটিশ আমলে মুর্শিদাবাদ নিবাসী কবি গুমানী দেওয়ান বিশ্বাসের কবিগান শুনেছিলাম সেই ১৯৪৫ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জে। তাঁর দাড়ি ছিল না, কিন্তু লম্বা গোঁফ ছিল, যার ব্যবহার করে তিনি আসর মাৎ করে রাখতেন। তিনি সেই আমলে যে কবিগান পরিবেশন করেছিলেন তা এক কথায় বিস্ময়কর। তাঁর অভিনব উপস্থাপনে শ্রোতা দর্শকেরা দারুণভাবে আকৃষ্ট হয়েছিল। শিক্ষা সম্পর্কে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বললেন, “আরে শিক্ষার কাজ তো বাগানের মালির মতোরে। ফুলের বাগানের বিভিন্ন রং এর ফুলের গাছকে মালি পরিচর্যা করে, দুর্বল গাছকে সবল ও সতেজ করে তোলে, ফলে আপনা থেকে ফুলের গাছে ফুল ফোটে। তেমনি জন্মগতভাবে শিশু সুপ্তপ্রতিভা নিয়ে পৃথিবীতে আলোর মুখ দেখে, সেগুলোর পূর্ণ প্রস্ফুটিত করে বিকশিত করতে শিক্ষার প্রয়োজন হয় এবং শিক্ষকেরা সেই দায়িত্ব পালন করে থাকেন।” আমার মতে শ্রেণিকক্ষে এবং শ্রেণিকক্ষের বাইরে শিক্ষকগণ সেই অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে শিশুর সুপ্ত প্রতিভার পূর্ণবিকাশ ঘটান। কাজেই আমরা শিশুর ভেতরে নতুন কিছু দিতে পারিনি, তার মধ্যে প্রতিভার যে বীজ আছে সেগুলোকে বিকাশের সহায়তা করি মাত্র। বট গাছের বীজ একেবারে ছোট, অথচ এই বীজকে মাটিতে রোপণ করে একে পরিচর্যা করে বিরাট মহীরূহে পরিণত করা হয়। একটা প্রবাদ আছে, “ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুর অন্তরে।” এই প্রবাদটি প্রণিধানযোগ্য।
কাজেই এন্ড্রু কিশোরের মধ্যেও সঙ্গীতের সুপ্ত প্রতিভা নিহিত ছিল, তা বিকশিত করার ব্যাপারে রাজশাহীবাসীর অবদান নেহাৎ কম নয়। এই সঙ্গীত জগতে প্রবেশে তাঁর হাতে খড়ি হয় রাজশাহীর কৃতী সন্তান ওস্তাদ আবদুল আজিজ বাচ্চুর হাত ধরে। কিশোর তাঁর কাছ থেকেই তালিম নিতে থাকেন। তাঁর বড় বোনও এই ওস্তাদের কাছে গান শিখতেন। রাজশাহীতে আরও কয়েকজন সঙ্গীত শিল্পী ছিলেন, যেমন রবীন্দ্র সঙ্গীত শেখাতেন শামসুজ্জামান, শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের তালিম দিতেন বাবু হরিপদ দাস। শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের আরও কয়েক জন শিল্পী ছিলেন, যথা: অমরেশ রায় চৌধুরী, আমার প্রিয় ছাত্রী কুমারী মঞ্জুশ্রী রায়। মঞ্জুশ্রী রায় রবীন্দ্র সঙ্গীত ভাল গাইতেন। বিশেষ করে, “আনন্দধারা বহিছে ভুবনে” গানটি তার কন্ঠে খুব ভাল উঠতো। তার বোন বিজয়া রায় ভাল পল্লীগীতি ও ভাওয়াইয়া গাইতেন। তাছাড়াও ছিলেন আবদুল মালেক খান, মুসাদ আলী, অধ্যাপক সারওয়ার জাহান, সারওয়ার জাহানের অনুজ মো. রফিকুল আলমও ভাল গান গাইতেন। ছিলেন খালেক, জাহাঙ্গীর, রিজিয়া পারভীন। আরও ছিলেন হারুন আর রশীদ, পরবর্তীকালে ভারত থেকে সঙ্গীতে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন এবং ফারুক নাজ। এখানে উল্লেখ্য যে, বাবু হরিপদ দাসের প্রিয় ছাত্র ছিলেন আব্দুল জব্বার। আবদুল জব্বারকে হরিপদ বাবু পুত্রবৎ স্নেহ করতেন। তাঁকে তিনি নিজ হাতে গড়ে তুলেছিলেন। জব্বার খুব ভাল ফুটবলও খেলতেন। বড়ই দুর্ভাগ্য জব্বার অত্যন্ত অল্প বয়সে তাঁর পরিবারের সদস্যদের শোক সাগরে ভাসিয়ে ইহলোক ত্যাগ করেন। যা ছিল অত্যন্ত দুঃখের এবং কষ্টের। অথচ তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারের খোঁজ খবর নেয়ার কেউ ছিল না। শিল্পী, সাহিত্যিক, কবি ও বিশিষ্টজনের ভাগ্যে এই রকমই জোটে। আমরা গান শুনি, আনন্দ পাই হাত তালি দিয়ে বাহবা জানাই, অথচ দুঃসময়ে কেউ কাছে যাই না। রাজশাহীতে থাকাকালীন আমি এই সব শিল্পীদের জন্য একটি কল্যাণ তহবিল গঠনের চেষ্টা করেও তেমন সাড়া পাইনি। কী লজ্জা! আরও কয়েকজন সঙ্গীত শিল্পী ছিলেন যাঁদের নাম মনে করতে পারছিনা। তবে রাজশাহ টিচার্স ট্রেনিং কলেজের মিলনায়তনটি ছিল রাজশাহীর অঞ্চলের যাবতীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের কেন্দ্রবিন্দু। আমিও ১৯৭২ সাল থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত এই কলেজে অধ্যক্ষের পদে নিয়োজিত ছিলাম। ব্যক্তিগতভাবে আমিও ছিলাম সঙ্গীত প্রেমী এক ব্যক্তি। আর আমাদের কলেজের মাঠে হতো নানা ধরনের খেলাধুলা। কলেজটি ছিল রাজনীতি মুক্ত এবং ধুমপান মুক্ত, ফলে সেখানে নির্বিঘেœ সবকিছু করা সম্ভব হতো। এই মিলনায়তনে সভা করেছিলেন ১৯৫৮ সালের সামরিক আইন জারির পর তৎকালীন গভর্নর জাকির হোসেন সাহেব। পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ফিল্ড মার্শাল মো. আইয়ুব খান। সত্তরের দশকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় নেতা শহিদ আ.হ.ম. কামারুজ্জামান। তিনি প্রায়ই রাজশাহী আসতেন এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগদান করতে এই মিলনায়তনেই উপস্থিত থাকতেন। পরবর্তীকালে শহিদ জেনারেল জিয়াউর রহমান সাহেবও এই মিলনায়তনে একাধিকবার সভা করেছেন। কাজেই সবদিক থেকেই এই মিলনায়তনটি ছিল একটি আদর্শ মিলনায়তন। এর শব্দ নিয়ন্ত্রণও ছিল খুব ভাল ।
যা হোক, সেই আমলের এমন কোনো শিল্পী ছিলেন না যাঁরা এই মিলনায়তনে সঙ্গীত পরিবেশন বা অভিনয় করেন নি। কুষ্টিয়ার বিশিষ্ট লালন গীতি বিশেষজ্ঞ শিল্পী মোকসেদ আলী সাঁই, ফরিদা পারভিন, বগুড়ার আঞ্জুমান আরা বেগম, তাঁর আত্মীয় স্বজন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের বুলা গোস্বামী ও কুতুবুল আলম এই মিলনায়তনে তাঁদের নিজ নিজ গান পরিবেশন করে দারুণভাবে প্রশংসিত হয়েছিলেন। শিল্পী মোকসেদ আলী সাঁই গেয়েছিলেন এই গানটি ‘সত্য বল, সুপথে চল ওরে আমার মন”। এন্ডু কিশোরের গান এই মঞ্চেই প্রথম শুনলাম। গানটি ছিল রবীন্দ্রসঙ্গীত “তুই ফেলে এসেছিস কারে মন মনরে আমার, তাই জনম গেলো শান্তি পেলি নারে মন মনরে আমার।” কিশোর তখন তরতরে যুবক। তাঁর কণ্ঠে গানটি খুবই ভাল লেগেছিল। তাঁর গানের গলায় ছিল আলাদা। ঢাকায় শুনেছিলাম জাহেদুর রহিমের কণ্ঠে রবীন্দ্রসঙ্গীত। অপূর্ব কণ্ঠস্বর। দরাজ কণ্ঠে গাইলেন, “শ্রাবণেরই গগনেরই, গায় বিদ্যুৎ চমকিয়ে যায়, ক্ষণে ক্ষণে শর্বরী শিহরিয়া উঠে হায়, শ্রাবণেরই গগনেরই গায়,” সঙ্গে ছিলেন আমাদের ছাত্রী বিলকিস নাসিরউদ্দিন। তিনিও জাহেদুর রাহিমের সঙ্গে একাধিক ডুয়েট গান পরিবেশন করেছিলেন। বড়ই দুর্ভাগ্য জাহদুর রহিম দীর্ঘ জীবন পাননি।
(চলবে)