সঞ্চয়পত্রে মুনাফা অর্ধেক : বিশেষজ্ঞরা বলছেন সংবিধানবিরোধী

আপডেট: February 17, 2020, 12:56 am

সোনার দেশ ডেস্ক


শেয়ারবাজারের অবস্থা বেশ আগে থেকেই বিনিয়োগের জন্য অনুপযোগী। ব্যাংকে আমানত রাখলেও মুনাফা কমতে কমতে ছয় শতাংশে নেমেছে। দেশে হুট করে অল্প পুঁজিতে ব্যবসা শুরু করারও কোনো পরিবেশ নেই। সে তুলনায় সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ অনেকটা নিরাপদ।
সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করে এতদিন ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ পর্যন্ত মুনাফা পেতেন গ্রাহক। তাই অনেক অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবীর আয়ের একমাত্র উৎস এই সঞ্চয়পত্র। এই টাকায়ই তাদের সংসার চলে। কিন্তু ডাকঘর সঞ্চয়পত্রের মুনাফাও এক লাফে কমিয়ে অর্ধেক করে দিয়েছে সরকার।
মুনাফা কমায় সঞ্চয়পত্রের ওপর নির্ভরশীল সীমিত আয়ের মানুষের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে হতাশা। আর সরকারের এ ধরনের সিদ্ধান্তকে সংবিধানবিরোধী বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ডাকঘর সঞ্চয়পত্রে সর্বোচ্চ মুনাফা ৬ শতাংশ করে বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব স্বাক্ষরিত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এদিন থেকেই এটি কার্যকর হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। এতদিন তিন বছর মেয়াদে ডাকঘর সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করে গ্রাহক সুদ পেতেন ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ। নতুন প্রজ্ঞাপন হওয়ার পর এখন পাবেন ৬ শতাংশ।
সুদহার কমানোর বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় তাদের পাওয়া যায়নি।
তবে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংকিং খাতের ঋণে আগামী ১ এপ্রিল থেকে ৯ শতাংশ সুদহার বাস্তবায়ন করতে চায় সরকার। এ জন্য চলতি মাসের ১ তারিখ থেকে ব্যাংকগুলো আমানতে সুদহার ৬ শতাংশে নামিয়েছে। সঞ্চয়পত্রে যদি সুদহার ১১ শতাংশের বেশি হয়, তাহলে আমানতকারীরা ব্যাংকে আমানত না রেখে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করবে।
এতে করে ব্যাংকিং খাতে আমানতে সংকট দেখা দেবে। তাই আমানতকারীদের ব্যাংকমুখী করতে সঞ্চয়পত্রে সুদহার কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এছাড়া সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ বেড়ে যাওয়ায় এ খাতে সুদবাবদ অনেক বেশি ব্যয় করতে হতো সরকারকে। তাই চলতি অর্থবছরের শুরুতে সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের আয়ের ওপর উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয়।
এছাড়াও ব্যাংকিং খাতে আমানতের তুলনায় সঞ্চয়পত্রে সুদহার বেশি হওয়ায় সঞ্চয়পত্রে কালো টাকার বিনিয়োগ হয়েছে। তাই সঞ্চয়পত্রে অবৈধ বিনিয়োগ ঠেকাতে গত ১ জুলাই থেকে বেশ কিছু কড়াকড়ি আরোপ করে সরকার।
হঠাৎ করে ডাকঘর সঞ্চয়পত্রে মুনাফা অর্ধেকে নামিয়ে আনার বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমি মনে করি এটা বাংলাদেশের সংবিধানবিরোধী। একইসঙ্গে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বর্ণিত যে অর্থনীতি তার সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক।’
তার এ বক্তব্যের পক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি বলেন, ‘কারণ আমাদের সংবিধানে রয়েছে মানুষের মধ্যে যে সম্পদবৈষম্য এবং সামাজিকবৈষম্য রয়েছে তা কমিয়ে আনতে হবে। এছাড়া অঞ্চলে অঞ্চলে যে উন্নয়ন বৈষম্য রয়েছে সেটাও কমিয়ে আনতে হবে।’