সড়ক দুর্ঘটনায় জীবনের করুণ পরিণতি

আপডেট: মে ২৬, ২০২৪, ১২:১০ পূর্বাহ্ণ

আইন তৈরির চেয়ে বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিতে হবে


প্রত্যেকদিনই কোন না কোন এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষের জীবনের করুণ পরিণতি ঘটছে। করুণ পরিণতি হতে পারে মৃত্যু অথবা দুর্বিষহ জীবন। এতে করে পরিবার থেকে সর্বক্ষেত্রে এর প্রভাব পড়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেসব কারণে দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে যানবাহনের বেপরোয়া গতি। বেপরোয়া গতির কারণে সড়ক-মহাসড়কে প্রায়ই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটছে।

যানবাহনের গতি বেশি হলে দুর্ঘটনায় আঘাতের মাত্রাও তীব্র হয়। দেশের সড়ক-মহাসড়কে কোন ধরনের যানবাহন কত গতিতে চলবে সেটা নির্ধারণ করা হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ গত রোববার ‘মোটরযানের গতিসীমা-সংক্রান্ত নির্দেশিকা, ২০২৪’ জারি করা হয়েছে। কিন্তু এই নির্দেশিকা আদৌ সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন হবে কি না? তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

নির্দেশনায় সিটি করপোরেশন, পৌরসভা এবং জেলা শহরের মধ্যে মোটরসাইকেল ও ট্রাকের সর্বোচ্চ গতি নির্ধারণ করা হয়েছে। মোটরসাইকেল ও ট্রাকের গতিসীমাও বেঁধে দেয়া হয়েছে। এছাড়া এক্সপ্রেসওয়ে ও জাতীয় মহাসড়কে নিষিদ্ধ করা হয়েছে তিন চাকার যানবাহন। সড়ক-মহাসড়কে যানবাহনের গতিসীমা বেঁধে দেয়া হয়েছে সেটা ভালো। এখন জরুরি হচ্ছে বেঁধে দেয়া গতিসীমা কার্যকর করা।

কোনো যানবাহন গতিসীমা না মানলে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে শুধু গতিসীমা বেঁধে দিয়ে সড়ক দুর্ঘটনা কতটা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে সেটা একটা প্রশ্ন। সড়ক-মহাসড়কে চলা অনেক গাড়িরই নেই ফিটনেস। চালকদের প্রশিক্ষণ, দক্ষতা, লাইসেন্স নিয়ে আছে নানা প্রশ্ন। বিপজ্জনকভাবে ওভারটেকিং করা, নির্ধারিত স্টপেজ ছাড়া যাত্রী ওঠানো-নামানো, অবৈধ পার্কিং বিষয়গুলো সড়ক-মহাসড়কের নিত্য চিত্র।

আমরা মনে করি, সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করতে হলে এসব সমস্যারও টেকসই সমাধান হওয়া জরুরি। মহাসড়কে তিন চাকার যান চলাচল প্রশ্নে শুধু নিষেধাজ্ঞা জারি করা বা আইন করাই যথেষ্ট নয়। সেগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। তিন চাকার যানবাহন চলাচলের বিকল্প সড়ক তৈরি করতে হবে। না হয় পরিস্থিতির উন্নতি হবে না। সড়ক-মহাসড়কে তিন চাকার যানবাহন চলাচল বন্ধ হবে না।

অভিযোগ আছে, সড়ক-মহাসড়কের চলাচলকারী তিন চাকার যানবাহন ও নানান অবৈধ যানবাহনকে ঘিরে নিয়মিত চাঁদা ও মাসোহারা বাণিজ্য বেশ আলোচিত বিষয়। এজন্যই সড়ক-মহাসড়কে তিন চাকার যানবাহন চলাচল বন্ধ হচ্ছে না। এ অভিযোগের সুরাহা হওয়া দরকার। সড়কে নসিমন, করিমন ও ভটভটি চলাচল বন্ধে হাইকোর্টের রায় বাস্তবায়নের সময় বেঁধে দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নোটিশ দিয়েছেন এক আইনজীবী। এ নোটিশে সাত দিনের মধ্যে সড়ক-মহাসড়কে উল্লিখিত যানবাহন বন্ধে আদালতের রায় বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।

সেটা করা না হলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে নোটিশে জানানো হয়েছে। এ নিয়ে গণমাধ্যমে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। সড়ক ও মহাসড়কে নসিমন, করিমন ও ভটভটি চলাচল বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ-এইচআরপিবি ২০১৪ সালে একটি রিট আবেদন করে। কিন্তু রায় বাস্তবায়ন হতে দেখা যায় নি। এসব যানবাহনের কারণে মহাসড়কে প্রায়ই যানজট তৈরি হয়। সড়ক দুর্ঘটনাও ঘটে। এছাড়া ড্রাম ট্রাকগুলোর বেপরোয়া গতি বর্তমানে সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম একটি কারণ। এই বাহণের গাতিও নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। আইন তৈরির চেয়ে বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিতে হবে।