সন্তানের সাফল্যে গর্বিত সম্মাননা পেলেন বাঘার উত্তম কুমার পাল

আপডেট: জুন ২১, ২০২২, ১:০৬ পূর্বাহ্ণ

বাঘার উত্তম কুমার পাল’র হাতে অ্যাওয়ার্ড তুলে দিয়ে উত্তরীয় পরিয়ে দেন অতিথিরা

বাঘা প্রতিনিধি:


দেশে প্রথমবারের মতো বাবাদের সম্মাননা জানাতে গর্বিত বাবা অ্যাওয়ার্ডের আয়োজন করেছে একটি সংগঠন। রোববার (১৯ জুন) রাজধানীর অভিজাত এক হোটেলে জমকালো আয়োজনে ২৫ জন বাবার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে এ পুরস্কারটি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, দেশ বরেণ্য ব্যক্তিবর্গসহ শোবিজ অঙ্গনের অনেক তারকা। আর এই অনুষ্ঠানে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার উচ্চশিক্ষিত দরিদ্র পরিবারের সন্তান অমিত কুমার পাল ও মৃনাল কুমার পালের বাবা উত্তম কুমার পাল’কেও সম্মাননা দেয়া হয়।

সংগঠন ‘বাবা ফাউন্ডেশনে’র উদ্যোগে বাবাদের হাতে অ্যাওয়ার্ড তুলে দিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল এমপি এবং উত্তরীয় পরিয়ে দেন বিশেষ অতিথিরা। অনুষ্ঠানে গর্বিত বাবা ফাউন্ডেশনের সভাপতি দিলীপ কুমার আগারওয়ালা বলেন, আপনারা আমাদের সাথে থাকুন। সমর্থন দিন। এ সংগঠগনকে আমরা অনেক দূর নিয়ে যাব।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ্, নিটল-নিলয় গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুল মাতলুব আহমাদ এবং পদ্মা ব্যাংকের চেয়ারম্যান ডক্টর চৌধুরী নাফিজ সারাফাত।

রাজশাহীর বাঘায় পিতার ফুটপাতে মিষ্টির দোকানে ছুটিতে এসে বিসিএস ক্যাডারসহ দুই ভাই দোকানদারি করছেন। এমন খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়। এরপর ১৯ জুন বিশ্ব বাবা দিবসে গর্বিত বাবা ফাউন্ডেশনের উদ্দ্যোগে এই সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।

জানা যায়, অমিত কুমার পাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিদ্যা বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণিতে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। পরে তিনি ৩৫ তম বিসিএস পরীক্ষায় পাশ করে সান্তাহার সরকারি কলেজে যোগদান করেন। এই কলেজ থেকে তিনি ১৬৪ তম বিসিএস শিক্ষা ক্যাডার চার মাস মেয়াদে বুনিয়াদী প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করে দেশ সেরা হিসেবে নির্বাচিত হয়ে চেয়ারম্যান অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন।

এদিকে মৃনাল কুমার পাল মিঠন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টানি করছেন। তিনি ৪৪তম বিসিএসের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তারা রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী পৌর বাজারের স্বর্গীয় হিতেন কুমার পালের নাতি ও বাবু উত্তম কুমার পাল ও বাসনা রানী পালের ছেলে। তাদের বাবা উত্তম কুমার পাল আড়ানী বাজারের ফুটপাতের ক্ষুদ্র মিষ্টি বিক্রেতা। মা গৃহিণী।

বোন মিতা রানী পাল সম্প্রতি সরকারি একটি অফিসের অফিসার পদে যোগদান করেছেন। তারা দুই ভাই ছুটিতে বাড়িতে এসে পিতার ফুটপাতের মিষ্টির দোকানে বসে দোকানদারি করেন। তারা দুই ভাই আড়ানী উচ্চ বিদ্যালয় ও ডিগ্রি কলেজে থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন।

এ বিষয়ে অমিত কুমার পাল বলেন, আমরা অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের সন্তান। বাবা ফুটপাতে মিষ্টি বিক্রি করে দুই ভাই ও এক বোনকে মানুষ করেছেন। আমি ৩৫তম বিসিএস শিক্ষা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে একটি কলেজে যোগদান করেছি। সেখান থেকে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডার বুনিয়াদী প্রশিক্ষণ পরীক্ষায় দেশ সেরা হয়েছি। আমরা কোনো কিছুকে খাটো করে দেখি না।

সুযোগ পেলেই দুই ভাই বাবার ফুটপাতের দোকানে বসে সহযোগিতা করি। এই নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে আমাদের নিয়ে লেখালেখি করা হয়েছে। তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। তবে আমার বাবাকে বাবা দিবসে সম্মানিত করায় আমরাও সম্মানিত হয়েছি।

এ বিষয়ে মৃনাল কুমার পাল মিঠন বলেন, বাবার ব্যবসা ছোট হলেও ছুটিতে এসে দুই ভাই সহযোগিতা করি। অনেক সময় ফুটপাতে দোকান হলেও ভিড় হয়। বাবা একা মানুষ কোন দিকে যাবে! তাই বাবার অন্য ব্যস্ততায় দোকান সামলাতে দুই ভাই সহযোগিতা করি। সুযোগ পেলেই সহযোগিতা করি। এতে বাবাকে সংবর্ধিত করা হয়েছে। আমার বাবা গর্বিত বাবা হিসেবে সম্মাননায় ভূষিত করেছেন। এতে আমরাও গর্বিত।

পিতা বাবু উত্তম কুমার পাল বলেন, আমার ছেলে মেয়েদের কখনো ভালো প্রাইভেট, ভালো পোশাক, খাদ্য, ঘুমানোর ভালো জায়গা দিতে পারেনি। আমার ও আমার স্ত্রী বাসনা রানীর সার্বিক প্রচেষ্টায় আজ ছেলে ভালো জায়গায় এসেছে। আমাকে সম্মানিত করেছেন। এতে আমি অনেক অনেক গর্বিত।