সন্তান নিয়ে প্রবেশ করায় তিন মাকে ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠান থেকে বের করার অভিযোগ

আপডেট: অক্টোবর ২৫, ২০২১, ৯:৩১ অপরাহ্ণ

রাণীভবানী সরকারি মহিলা কলেজ

নাটোর প্রতিনিধি :


নাটোরের রাণী ভবানী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ এবং অপর এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে কলেজের অনার্স পড়ুয়া তিনজন মা শিক্ষার্থীকে সন্তান নিয়ে অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ায় অনুষ্ঠান থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ হলে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে ফেসবুক জুড়ে। তবে কলেজ অধ্যক্ষ বলছেন,একটি মহলের ষড়যন্ত্র, কারো ইন্দনে ঐ কজন শিক্ষার্থী এ ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে।
গত রোববার দুপুরে ওই কলেজেরই হজাবিন ময়ুরী এবং উম্মে হাবিবা নামে দুজন শিক্ষার্থী তাদের ব্যক্তিগত আইডি থেকে দুই শিক্ষকের ছবিসহ ‘ এমন শিক্ষকের হাত ধরে কিভাবে এগুবে নারী শিক্ষা’ শিরোনামে পোস্ট দিলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদ ও নিন্দার ঝড় ওঠে। এছাড়া কমেন্টস বক্সে অনেকে এর প্রতিবাদ করতে সবাইকে আহবান জানান। এছাড়া ঘটনাটি জানার পর ক্যাম্পাস জুড়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে চাপা ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।শিক্ষার্থী উম্মে হাবিবা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, গত২১ অক্টোবর ওই কলেজে অনার্স ২০২০-২১ শিক্ষা বর্ষের একটি ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে বাচ্চা নিয়ে প্রবেশ করায় তাদের ৩জন মা ছাত্রীকে অনুষ্ঠান থেকে বের করে দেন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রফেসর কলেজের অধ্যক্ষ মঞ্জুরা বেগম ও একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাসলিমা খাতুন। এরপর ওই তিন ছাত্রী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করলেও শুধু সাথে বাচ্চা থাকায় তাদের সেখানে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি।

ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের এ বিষয়ে সহকারী অধ্যাপক তাসলিমা খাতুন বলেন, ওই অনুষ্ঠানে খুবই ছোট্ট বাচ্চারা কান্নাকাটি করায় অনুষ্ঠান বিঘœ হচ্ছিল তাই আমি তাদের সেখান থেকে বের হয়ে একটু ঘুরে আসতে বলেছি। তাদের সাথে ছবিও উঠেছি। বের করে দেয়া ঠিক না। আমি তাদের অনুরোধ করেছি মাত্র। তবে এখনো পোস্টটি দেখিনি তাই এই বিষয়ে কিছু বলতে পারছি না।

অধ্যক্ষ মঞ্জুরা বেগম বলেন, এমন কোনই ঘটনা ঘটেনি। আমি অল্পদিন হলো কলেজটিতে যোগদান করেছি। একটি মহল আমাকে নিয়ে ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। আপনি নাম ঠিকানা দেন। তাদের সাথে কথা বলি। তারা যে ভাষায় ফেসবুকে পোষ্ট দিয়েছে তা কোনও শিক্ষার্থীর ভাষা হতে পারেনা। কারো ইন্দনে ঐ কজন শিক্ষার্থী ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। আপনারা ষড়যন্ত্রের কারণ খুঁজে বের করেন।

নাটোরের জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ জানান, বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জেনেছি। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের যোগাযোগ করতে বলেছি। তাদের কাছে ঘটনা শুনে বিষয়টি খতিয়ে দেখবো।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ