সন্ত্রাসবাদ দমনে ব্যর্থ, এফএটিএফ’র গ্রে তালিকাতেই পাকিস্তান

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২১, ৫:১১ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


একে রামে রক্ষা নেই দোসর রাবণ। একদিকে করোনায় পর্যদস্তু অবস্থা। তার সঙ্গে মড়ার উপর খাড়ার ঘা’য়ের মতো এখনও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ব্যর্থতার জন্য ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন ট্যাক্স ফোর্সের গ্রে তালিকাভূক্ত হয়ে রয়েছে পাকিস্তান।
জানা গিয়েছে, প্যারিস ভিত্তিক এই আন্তর্জাতিক সংস্থার সমস্ত বিধিনিষেধ মেনে চলতে ব্যর্থ ইমরানের দেশ। শুধু তাই নয়, সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের জন্য এফএটিএফ ২০১৮ সালের জুন মাসে পাকিস্তানকে গ্রে তালিকাভুক্ত করেছিল। তারপর কেটে গিয়েছে অনেকটা সময় তবুও নিজেকে শোধরাতে পারেনি ইসলামাবাদ। ফলে জঙ্গি সংগঠন গুলিকে অর্থ প্রদান এবং অন্যান্য হিংসাত্মক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পুরোপুরি ব্যর্থ হওয়ায় পাকিস্তানকে এখনও ধূসর তালিকাভুক্ত করে রাখছে এফএটিএফ।
বৃহস্পতিবার ফের পাকিস্তানকে গ্রে তালিকাভুক্ত রাখার কথা ঘোষণা করেছেন এফএটিএফ’এর প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল প্লেয়ার। শুধু তাই নয়, এফএটিএফ এর সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছে ফ্রান্স সহ অন্যান্য দেশ গুলি।
জানা গিয়েছে, ২০১৯ সালে পাকিস্তানের কাছে জঙ্গিদের অর্থ প্রদান, টাকা পাচার সহ সন্ত্রাসবাদী প্ররোচনা মূলক কার্যকলাপ বন্ধের জন্য আবেদন জানানো হয়েছিল। করোনা পরিস্থিতির কারণে সেই অনুরোধের সময়সীমা বাড়ানো হলেও তা বাস্তবায়নে পুরোপুরি ব্যর্থ পাকিস্তান সরকার৷ আর বর্তমানে এফএটিএফ’এর দেওয়া নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ায় ফের পাকিস্তানকে গ্রে তালিকাভুক্ত করে রাখা হচ্ছে।
এই বিষয়ে গত তিন দিন ধরে অনুষ্ঠিত একটি ভার্চুয়ালি বৈঠকে এফএটিএফ’এর প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল প্লেয়ার জানিয়েছেন যে, সন্ত্রাসবাদ দমন করতে পাকিস্তানকে ২৭ টি শর্ত পূরণ করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তার মধ্যে মাত্র ২ টি শর্ত পূরণ করতে পেরেছে পাকিস্তান। ফলে এখনও ধূসর লিস্টেই জায়গা থাকবে পাকিস্তানের।
প্লেয়ার আরও জানান, জঙ্গি কার্যকলাপ বন্ধ করতে পাকিস্তানকে দেওয়া সময়সীমা ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গিয়েছে। ফলে দ্রুত ইসলামাবাদকে এই ধরনের সমস্যা সমাধানের জন্য দৃষ্টিপাত করার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। নচেৎ ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আরও বড় কোনও সমস্যায় পড়তে পারে পাকিস্তান।
শুধু তাই নয়, জাতিসংঘ মনোনীত সন্ত্রাসবাদকে প্ররোচনা দেওয়া দেশগুলির মধ্যে পাকিস্তান অন্যতম। জঙ্গি কার্যকলাপ রোধে তেমন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি ইমরান সরকারকে।
এফএটিএফ আরও বলেছে, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানকে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। জঙ্গি কার্যকলাপে যুক্ত সংগঠন গুলির বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে। পাক আদালতের দ্বারা তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। যেটা পাকিস্তান একদমই করে না। ফলস্বরুপ বলা যায়, ২০০২ সালে আমেরিকান সাংবাদিক ড্যানিয়েল হত্যা কান্ডের মূল হোতা ওমর শাহেদ শেখকে বিনা বিচারে খালাস করে দিয়েছিল পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্ট।
শুধু তাই নয়, জাতিসংঘের দ্বারা ঘোষিত জঙ্গিদের মধ্যে সর্বাধিক সন্ত্রাসবাদীরা রয়েছে পাকিস্তানের। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য জঙ্গি হল জইশ-ই মহম্মদ মাসুদ আজহার, লস্কর ই তৌবার প্রতিষ্ঠাতা হাফেজ সায়েদ এবং জাকিউর রেহমান লখভি। এরা প্রত্যেকেই ভারত সরকারের মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গি।
২৬/১১ মুম্বই হামলা, ২০১২ সালে সিআরপিএফের বাসে বোমা হামলা, জম্মু কাশ্মীরের পুলওয়ামা সেক্টরে হামলা সহ একাধিক সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে জড়িত থাকার জন্য বর্তমানে ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গির তালিকায় রয়েছে আজহার সায়েদ লখভি।
সন্ত্রাস ফিনান্সিং ওয়াচ ডগ এই বিষয়ে জানিয়েছে, ধূসর তালিকা থেকে সরতে পাকিস্তানকে তিনটি শর্ত পূরন করতে বলা হয়েছে। এরমধ্যে সেই শর্ত যদি পূরন না হয় তবে আগামী জুন মাসে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তথ্যসূত্র: kolkata24x7

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ