সন্ত্রাসে মদত, পাকিস্তানি ব্যাঙ্ক বন্ধ করে দেয়ার নির্দেশ দিল আমেরিকা

আপডেট: সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৭, ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


এ বার আমেরিকার কোপে পাকিস্তানের বৃহত্তম বেসরকারি ব্যাঙ্ক। হাবিব ব্যাঙ্ককে নিউইয়র্ক থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বলল মার্কিন প্রশাসন। হাবিব ব্যাঙ্কের কোনও লেনদেন যেন সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের সহায়ক না হয়ে ওঠে, ২০০০ সালেই নির্দেশ দিয়েছিল আমেরিকার ডিপার্টমেন্ট অব ফিনানশিয়াল সার্ভিসেস (ডিএফএস)। কিন্তু বার বার সতর্ক করা সত্ত্বেও হাবিব ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ উপযুক্ত পদক্ষেপ করেনি বলে মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে। ওই ব্যাঙ্কের নিউইয়র্ক দফতর বন্ধ করার নির্দেশ জারি হয়েছে। শুধু দফতর বন্ধ করলেই হবে না, হাবিব ব্যাঙ্ককে লাইসেন্সও জমা দিয়ে দিতে হবে।
১৯৭৮ সাল থেকে আমেরিকায় ব্যবসা করেছে হাবিব ব্যাঙ্ক। কিন্তু ২০০০ সাল নাগাদ মার্কিন প্রশাসন ওই ব্যাঙ্ককে সতর্ক করে। ব্যাঙ্কটির বিভিন্ন লেনদেন সন্দেহজনক এবং সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে সে সব লেনদেনের যোগ রয়েছে বলে মার্কিন প্রশাসন অভিযোগ করে। হাবিব ব্যাঙ্কের কোনও লেনদেনই যাতে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের সহায়ক না হয়, তা নিশ্চিত করতে লেনদেনগুলির উপর কড়া নজর রাখা হোক। নির্দেশ দিয়েছিল ডিএফএস। কিন্তু হাবিব ব্যাঙ্ক যে উপযুক্ত পদক্ষেপ করেনি, তথ্যপ্রমাণ তুলে ধরে তা এ বার স্পষ্ট করে দিয়েছে আমেরিকা।
ডিএফএস জানিয়েছে, হাবিব ব্যাঙ্ক প্রায় ১৩ হাজার এমন লেনদেন হতে দিয়েছে, যে সব লেনদেন যথেষ্ট সন্দেহজনক। সৌদি আরবের যে ব্যাঙ্কটির সঙ্গে আল কায়দার যোগ রয়েছে বলে মনে করা হয়, সেই আল রাঝি ব্যাঙ্কের সঙ্গে কয়েকশো কোটি ডলারের লেনদেন করেছে হাবিব ব্যাঙ্ক, জানিয়েছে ডিএফএস। এক জন চিহ্নিত সন্ত্রাসবাদী এবং এক জন কুখ্যাত আন্তর্জাতিক অস্ত্র কারবারিকেও হাবিব ব্যাঙ্ক নির্বিঘ্নে লেনদেন চালিয়ে যেতে দিয়েছে বলে ডিএফএস সূত্রের খবর।
হাবিব ব্যাঙ্ককে প্রথমে প্রায় ৬৩ কোটি ডলার জরিমানা করেছিল ডিএফএস। পরে সেই অঙ্ক কমিয়ে ২২ কোটি ৫০ লক্ষ ডলার করা হয়েছে। হাবিব ব্যাঙ্ককে নিউইয়র্ক থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নিতেও বলা হয়েছে। পাকিস্তানের বৃহত্তম বেসরকারি ব্যাঙ্কটি তাদের নিউইয়র্ক দফতর বন্ধ করে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছে বলেও খবর। তবে এই ব্যবসা গোটানোর প্রক্রিয়াও ডিএফএস-এর দেওয়া নির্দেশিকা মেনেই করতে হবে এবং সব শেষে লাইসেন্স জমা দিয়ে দিতে হবে বলে পাকিস্তানি ব্যাঙ্কটিকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ