‘সন্ত্রাস মোকাবিলায় ইতিবাচক পদক্ষেপ নিচ্ছে বাংলাদেশ’

আপডেট: আগস্ট ২৮, ২০১৭, ১২:৫৬ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা ও জঙ্গিবাদ দমনে বাংলাদেশ সরকারের নেয়া পদক্ষেপগুলোকে ইতিবাচক বলে অভিহিত করেছে হোয়াইট হাউস। এমনকি জঙ্গিবাদের উত্থান ও প্রভাবের বিষয়গুলো ঢাকা এখন অতীতের তুলনায় অনেক বেশি স্বীকার করছে এবং এসব দমনে পদক্ষেপ নিচ্ছে। হোয়াইট হাউসের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনের কাছে এসব কথা বলেছেন।
বাংলা ট্রিবিউনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ওই মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, আমার মনে হয় একদিকে, বাংলাদেশে জঙ্গি তৎপরতা নিয়ে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন, তবে হলি আর্টিজান হামলার পর বাংলাদেশ সরকারের নেয়া পদক্ষেপে আমরা মোটামুটি সন্তুষ্ট।
ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্ক কেমন হবে এমন প্রশ্নে হোয়াইট হাউসের এই সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা দেখতে পারছি যে বাংলাদেশে সন্ত্রাসী চক্রকে ভেঙে দিতে সক্ষম হয়েছে সরকার। এছাড়া সমস্যাটি চিহ্নিত করতে পারাটাও বড় কিছ্।ু’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা অনেকদিন ধরেই দেখছিলাম যে সরকার সন্ত্রাসের বিষয়টা অস্বীকার করে আসছিল। আইএস কিংবা আল-কায়েদার উপস্থিতির বিষয়টি উড়িয়ে দিচ্ছিল তারা। তবে এখন তারা সেটা স্বীকার করেছে এবং সমাধানে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিয়েছে।’
সন্ত্রাস মোকাবিলায় বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র একযোগে কাজ করতে প্রস্তুত জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ যদিও মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ তবে ঐতিহ্যগতভাবেই বাংলাদেশে ধর্মনিরপেক্ষ সমাজ ব্যবস্থা বিদ্যমান। এটা যেন সন্ত্রাসীরা নষ্ট করতে না পারে তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের পাশে সবসময় থাকবে যুক্তরাষ্ট্র।
তিনি বলেন, ‘ইসলামের নামে এমন উগ্রপন্থা ও সন্ত্রাস আমরা আর কোথাও এভাবে দেখি না। বাংলাদেশে সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যে এটা হুমকিস্বরূপ। আমরা খুবই খুশি যে সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে এবং সমাধানে চেষ্টা করছে।’
শনিবার মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর জানায়, দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার ভারপ্রাপ্ত সহকারী মন্ত্রী ও আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের বিশেষ দূত অ্যালিসন ওয়েলস ঢাকা আসবেন। ২৮ আগস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বরের এই সফরে তিনি পাকিস্তানের ইসলামাবাদ ও শ্রীলঙ্কার কলোম্বোতেও যাবেন। এসময় সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী ও সুশীল সমাজের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তারা।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশে অনেক সুযোগ দেখছি। বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট এখন অনেক পাল্টেছে। এই মুহূর্তে বোধহয় প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশ বা এর কাছাকাছি। এটা মার্কিন ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার জন্য বড় সুযোগ। আমরা এমন সুযোগ নিতে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে চাই।’ ওয়েলসের আসন্ন বাংলাদেশ সফরে এই বিষয়গুলোই উঠে আসবেন বলে জানান তিনি।
এসময় বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়েও কথা বলেন হোয়াইট হাউসের ওই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন আসছে। আমরা চাই এ নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে এবং প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনে অংশ নেবে। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। সব রাজনীতিবিদই এটা নিয়ে ভাবছেন। নির্বাচনের জন্য এটাও ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ।’
তথ্যসূত্র: বাংলা ট্রিবিউন