সপ্তমী: নবপত্রিকা স্নানের পর দেবীর প্রাণ প্রতিষ্ঠা

আপডেট: অক্টোবর ৩, ২০২২, ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ

মনীষা আক্তার:


সপ্তমী থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এদিনই পূজা শুরু। লক্ষ্মী, সরস্বতী, গণেশ, কার্তিককে নিয়ে মা দুর্গার পিতৃগৃহে প্রবেশ। ভোরে পদ্মার ঘাটে নবপত্রিকা স্নানের পর দেবীর প্রাণ প্রতিষ্ঠা। তারপর শাস্ত্রমতে ষোড়শ উপচারে শুরু সপ্তমীর পূজা।

পুরোহিতরা জানান, নবপত্রিকা শব্দটির আক্ষরিক অর্থ ন’টি গাছের পাতা। তবে বাস্তবে নবপত্রিকা ন’টি পাতা নয়, ন’টি উদ্ভিদ। কৃষিপ্রধান বাংলার প্রতীক। এগুলি হল, কলা, কচু, হলুদ, জয়ন্তী, বেল, ডালিম, অশোক, মান ও ধান। কলাবউকে সিঁদুর দিয়ে সপরিবার দেবী প্রতিমার ডান দিকে দাঁড় করিয়ে পূজা করা হয়। সপ্তমীতে এভাবেই প্রকৃতি আরাধনার মধ্যে দিয়ে শুরু মাতৃ বন্দনা। সপ্তমীর সকাল থেকেই ভিড় জমতে শুরু করেছে বিভিন্ন মন্ডপে। ঢাকের বাদ্যতে জমজমাট সপ্তমীর পূজা।

জানা গেছে- সপ্তমীর ভোরে ঘাটে ঘাটে ভিড় ঊষালগ্নে নবপত্রিকা স্নান। দেবীকে ন’টি বৃক্ষরূপে কল্পনা। নবপত্রিকার মধ্যে দিয়েই প্রকৃতির সঙ্গে দেবীর এক চিরন্তন সম্পর্ক স্থাপন হয়। নব পত্রিকা স্নানের পরে একে একে চক্ষুদান, প্রাণপ্রতিষ্ঠা করা হয়।পদ্মা ঘাটে সকাল থেকেই ভিড়। কলাবউকে স্নান করিয়ে মন্ডপে বা বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পালা শুরু হয়। কলাবউকে স্নান করিয়ে নতুন বস্ত্র পরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় মন্ডপে।
রোববার (২ অক্টোবর) নগরীর পূজা মন্ডপগুলোতে দর্শনার্থীদের ভিড় দেখা গেছে। তবে দিনের অন্য সময়ের চেয়ে সন্ধ্যার পরে বেশি ভীড় দেখা গেছে পূজামন্ডপগুলোতে। দুর্গাপূজা উপলক্ষে নগরীর মন্ডপগুলো সেজেছে বর্ণিল সাজে। ডিজিটাল আলোকসজ্জা, তোরণ, মন্ডপের নান্দনিক ডেকোরেশনে মন্ডপগুলোতে যেন চলছে প্রতিযোগিতা।

নগরীর ফুদকিপাড়া কালি মাতা মন্দিরে দর্শনার্থী শ্রী প্রিয়া সাহা বলেন, ‘বাসার কাছেই মন্দির। সপ্তমীর দিনে সকাল বেলা গনেশ ঠাকুরের পাশে কলা গাছ স্থাপন করার মধ্যদিয়ে দিনটি শুরু হয়। মূলত এটাই সপ্তমীর বিশেষত্ব। সন্ধ্যার পর থেকে মূল পূজা শুরু হয়।’
মৌণি সাহা এবং অদ্রিজা জয়সোয়াল দুই বান্ধুবী মিলে দেখতে এসেছেন পূজা। তারা বলেন, ‘এবার পূজা গত দু’বছরের তুলনায় অনেকটাই ভিন্ন। কারণ আমরা মনখুলে আনন্দ করতে পারছি। কোনো রকম কোনো বাঁধা নেই, সামাজিক দূরত্ব নেই। মায়ের আশীর্বাদে এবার আমরা করোনার প্রকোপ অনেকটাই কাটিয়ে উঠতে পেরেছি।’

কালিমাতা মন্দিরে প্রতিবারের ন্যায় এবারেও দুর্গাপূজার জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন করা হয়েছে। এবছর কোন বিধিনিষেধ না থাকায় অত্যন্ত খুশি সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। এছাড়া মন্দিরে সর্বত্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা জন্য রয়েছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। একারণে কোন ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে না বলে দাবী মন্ডপে আসা দর্শনার্থীদের।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ