সপ্তায় এক কোটি মানুষ টিকা পাবে! দ্রুততার সাথে সবার জন্য টিকা নিশ্চিত করতে হবে

আপডেট: জুলাই ২৯, ২০২১, ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ

বুধবার (২৮ জুলাই পর্যন্ত দেশে করোনায় মৃত্যু ২০ হাজার ছড়িয়ে গেছে। একই সাথে শনাক্তের সংখ্যাও ১২ লাখ ছড়িয়েছে। করোনায় মৃত্যু ও শনাক্তের সংখ্যার ক্রমগতিই বলে দেয় পরিস্থিতিটা মোটেও ভাল নয়। এই মুহূর্তে চূড়ান্ত কার্য ব্যবস্থা কী হওয়া বাঞ্ছনীয় এবং পরিকল্পনা ও কৌশল নিয়ে এখনই প্রতিরোধ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার সময়। কাল বিলম্ব হলে ভয়ানক পরিণতির মুখে পড়া অসম্ভব কিছু নয়।
নিশ্চয় বিষয়টিকে অধিক গুরুত্ব দিয়েই দেখছে সরকার। ইতোমধ্যেই কর্মপরিকল্পনার মধ্যে যেসব ত্রুটি-বিচ্যুতি তা সামলে ওঠা সম্ভব হয়েছে। একদিকে স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টিকে কঠোর বিধি-নিষেধে রেখে টিকাকরণের উদ্যোগকে দ্রুততার সাথে এগিয়ে নেয়ার কৌশল ইতোমধ্যেই গ্রহণ করা হয়েছে।
এটা আশাপ্রদ যে, সরকার এক সপ্তাহে এক কোটি মানুষকে টিকা দেয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে। এজন্য আগামী ৭ আগস্ট থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ে টিকা দেয়া হবে। এ কার্যক্রম চালাতে ইউনিয়ন পরিষদে কেন্দ্র তৈরি করে টিকা দেয়া হবে। শহরাঞ্চলে মডার্নার আর গ্রামাঞ্চলে দেয়া হবে সিনোফার্মের টিকা। সংক্রমণ প্রতিরোধ করার জন্য কম সময়ে বেশি সংখ্যক জনগোষ্ঠীকে টিকার আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে সরকার। সেই সঙ্গে পরবর্তী ভ্যাকসিনের (টিকা) চালান পৌঁছানোর আগেই বিদ্যমান মজুত টিকা দ্রুত ব্যবহার করে কোল্ড স্পেস ও ড্রাই স্টোর স্পেস ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। সারাদেশে ক্যাম্পেইন আকারে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করতে কৌশল নেয়া হবে।
স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী টিকা নেয়ার জন্য দেশবাসীকে উদ্বুদ্ধ করছেন এবং সাহস যোগাচ্ছেন। তিনি অভয় দিচ্ছেন- যত অর্থ ব্যয় হোক না কেন সরকার দেশের মানুষকে করোনাভাইরাস থেকে মুক্ত করতে বদ্ধ-পরিকর। প্রথম দিকে সাধারণ মানুষের মধ্যে টিকা নিয়ে যে ভয়ভীতি ছিল বর্তমানে তা আর নেই। দেশের মানুষ স্বতস্ফুর্তভাবে টিকা পেতে নিবন্ধন করে চলেছে। এই মুহূর্তে টিকার প্রয়োজনীয়তা আর কেউ অস্বীকার করতে পারছে না। সরকারও নানাভাবে টিকার বন্দোবন্ত করতে তৎপর হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইতোমধ্যেই ধাপে ধাপে ২১ কোটি টিকার সংস্থানের কথা বলেছেন। তাই গণটিকাদান বলতে যেটা বোঝায় এ পর্যায়ে সেটাই প্রত্যাশা করা যাচ্ছে। তবে টিকা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বয়সসীমা দ্রুততার সাথে কমিয়ে এনে দেশের সকল মানুষকে টিকার আওতায় আনার অপরিহার্যতা দেখা দিয়েছে। সরকার করোনা মোকাবিলায় সম্মুখ যোদ্ধাদের স্বজনদের জন্য ১৮ বছর বয়সীরাও টিকার প্রাপ্যযোগ্য হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে। এই শর্ত থাকাটা বৈষম্যের সামিল। একই সাথে এটা জটিলতারও সৃষ্টি করতে পারে। বরং ১৮ বছর থেকে উর্ধ বয়সীদের জন্য টিকা প্রাপ্তি সকলের জন্য নিশ্চিত করার দ্রুত ঘোষণা দেয়াই বাঞ্ছনীয় হবে। এ পর্যায় দ্রুত শেষ করে সকল বয়সীদের টিকার আওতায় আনার পরিকল্পনা ও কৌশল এখনই নিতে হবে। তবেই এই করোনা ভাইরাসের ভয়াবহ আগ্রাসন থেকে দেশের মানুষ মুক্তি লাভ করবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ