সফটওয়্যার ব্যবসার আড়ালে চলতো জঙ্গি অর্থায়ন || রাজশাহীর নাহিদসহ গ্রেফতার ১২

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৪, ২০১৭, ১২:৩৯ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


জঙ্গি অর্থায়নের অভিযোগে রাজশাহীর হোটেল নাইস ইন্টারন্যাশনালের ম্যানেজার নাহিদুদ্দোজা মিয়া ওরফে নাহিদসহ ১২ জনকে দেশের বিভিন্ন স্থান এবং স্পেন থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নাহিদ ২০১৫ সালে জঙ্গি অর্থায়নের অভিযোগের এক মামলার জামিনপ্রাপ্ত আসামি। নাহিদের বাড়ি নগরীর বোয়ালিয়া থানার বেলদারপাড়া এলাকায়। তার বাবার নাম বদরুদ্দোজা। এক বছর ধরে নাহিদ সাহেববাজার এলাকায় আভিজাত হোটেল নাইস এ কর্মরত। এর আগে ঢাকায় ‘আইসিংকটেল’ নামের একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের জড়িত ছিল নাহিদ।
এদিকে অনলাইন নিউজপোর্টাল বাংলা ট্রিবিউন র‌্যাবের উদ্ধৃতি দিয়ে এক সংবাদে জানায়, জঙ্গি অর্থায়নের অভিযোগে বাংলাদেশে ১১ জন ও স্পেনে মূল হোতা আতাউল হক সবুজকে গ্রেফতার করা হয়। নিউজপোর্টালটি তার প্রকাশিত সংবাদে বলে- সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান ‘ওয়াইমি’। সবার দৃষ্টিতে যাবতীয় সফটওয়্যারের কাজ করলেও এই ব্যবসার আড়ালে তারা বিদেশ থেকে আসা অর্থ গ্রহণ করতো ও দেশে অবস্থান করা জঙ্গিদের কাছে পৌঁছে দিতো। স্পেনে প্রতিষ্ঠিত একই মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ‘সিনটেল’ এর মাধ্যমে টাকাগুলো দেশে আসতো।
শনিবার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাবের মুখপাত্র মুফতি মাহমুদ খান। তিনি বলেন, ‘এই দুই প্রতিষ্ঠানের মালিক আতাউল হক সবুজ। যে ২০১৫ সালে ১০ ডিসেম্বর সিরিয়ায় বোম্বিংয়ে নিহত জঙ্গি শিপুল হক সুজনের ভাই। বিদেশ থেকে এই জঙ্গি অর্থায়ন আনার কাজ শুরুতে সেই করতো। তার মালিকানায় আন্তর্জাতিক সফটওয়্যার কোম্পানি ছিল ‘আইবেক’। বাংলাদেশসহ বিশ্বের নয়টি দেশে তার শাখা ছিল। আইবেকের প্রধান কার্যালয় ছিল আমেরিকায়।’
তিনি জানান, ২০১৫ সালের ৪ ডিসেম্বর আইবেকের ৫০ হাজার ডলার জঙ্গি অর্থায়নের কাজে ব্যবহারের আগেই র‌্যাবের হাতে আটক হয়। যা জঙ্গি বাশারুজ্জামান ওরফে চকলেটের মাধ্যমে তামীম চৌধুরীর কাছে পৌঁছানোর কথা ছিল। জঙ্গি অর্থায়নে সম্পৃক্ততার অভিযোগে বাংলাদেশে ২০১৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর থেকে আইবেক শাখা বন্ধ করে দেয়া হয়। পরে যুক্তরাষ্ট্রের শাখাও বন্ধ করে দেয় সে দেশের কর্তৃপক্ষ। আইবেক বাংলাদেশ শাখায় দেখভালে দায়িত্ব ছিল সিরিয়ায় নিহত জঙ্গি শিপুল হক সুজনের ভাই আতাউল হক সবুজ।
শিপুল সিরিয়ায় মারা যাওয়া ও আইবেক বন্ধ হওয়ার পর আতাউল হক সবুজ দেশ ছেড়ে স্পেনে চলে যায়, জানিয়ে র‌্যাবের এই কর্মকর্তা জানান, সবুজ সেখানে গিয়ে সিনটেল নামক আরেকটি প্রতিষ্ঠান চালু করে। যার শাখা হিসেবে বাংলাদেশে খোলা হয় ওয়াইমি। আইবেক বন্ধের ছয়মাসের মাথায় এই দুটি প্রতিষ্ঠান চালু করা হয়। স্পেন থেকে সিনটেলের মাধ্যমে ওয়াইমিতে প্রচুর টাকা আসে। যার ৪৭ ভাগ অফিসের বেতন ও কাঠামোগত কাজে ব্যয় হতো। বাকি টাকা জঙ্গিবাদের কাজে ব্যয় করা হতো বলে উদ্ধার হওয়া নথিপত্র ও গোয়েন্দা তথ্যে জানা গেছে বলে জানান র‌্যাব মুখপাত্র।
এদিকে র‌্যাব জানায়, আইবেক বন্ধের পর থেকে এ বিষয়গুলো নজরদারিতে রাখা হয়েছিল। সেই নজরদারি ভিত্তিতের শুক্রবার রাত থেকে ভোর পর্যন্ত ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা ও স্পেনে একযোগে অভিযান পরিচালিত হয়।
এই অভিযানকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে মুফতি মাহমুদ খান বলেন, ‘ওয়াইমি ও সিনটেল এর মালিক স্পেনে অবস্থান করছিল। এদিকে বাংলাদেশে ওয়ামির সংশ্লিষ্টরা দেশের বিভিন্ন জায়গায় ছিল। তাদের আটক করতে একযোগে অভিযান চালানো হয়। প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি সাপেক্ষে স্পেনের গোয়েন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পরবর্তীতে আলোচনা ও তথ্য যাচাইয়ের পর দুই দেশে একযোগে অভিযান চালানো হয়। বাংলাদেশে ১১ জন ও স্পেনে মূল হোতা আতাউল হক সবুজকে গ্রেফতার করা হয়।’
অভিযানে গ্রেফতারকৃতরা হলো- মো. হেলাল উদ্দিন (২৯), আল আমিন (২৩), ফয়সাল ওরফে তুহিন (৩৭), মঈন খান (৩৩), আমজাদ হোসেন (৩৪), নাহিদ (৩০), তাজুল ইসলাম (২৭), জাহেদুল্লাহ (২৯), আল মামুন (২০), আল আমিন (২৩) ও টলি নাথ (৪০)।
তাদের কাছ থেকে ১১টি ল্যাপটপ, ১২টি মোবাইল, হটি কার্ড পাঞ্চিং মেশিন, পাসপোর্ট, ভোটার আইডিসহ প্রচুর নথিপত্র উদ্ধার করা হয়। এইসব নথিপত্র প্রাথমিকভাবে যাচাই করে অনেক অর্থ লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব। তবে ঠিক কি পরিমাণ অর্থ লেনদেন হয়েছে তা সঠিকভাবে জানাতে পারেননি তারা।
র‌্যাব ধারণা করছে এই অর্থ অস্ত্র-বিস্ফোরক ক্রয়, ট্রেনিংসহ অন্যান্য কাজে তারা ব্যয় করতো। দেশে আটককৃতদের সঙ্গে অন্য আর কারও যোগাযোগ রয়েছে তা বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ শেষে জানানো যাবে, বলেও জানান র‌্যাব মুখপাত্র মুফতি মাহমুদ খান।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ