সফল রাজশাহীর সাইবার ক্রাইম ইউনিট ছয়মাসে পাচার হওয়া ১২২ জনের মধ্যে উদ্ধার ১১৪ নারী

আপডেট: জুলাই ২৬, ২০২১, ১২:২৩ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতারণা, পাচার ও পর্নোগ্রাফি এখন দেশব্যাপি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাথা ব্যথার কারণ। এসব অপরাধ দমনে পুলিশের বিশেষ টিম এনে কাজও করা হচ্ছে। রাজশাহীতে সাইবার ক্রাইম ইউনিটে গেলো ছয়মাসে শতাধিক অভিযোগ এসেছে; যার প্রায় সবগুলো নিষ্পত্তি করেছে এই ইউনিটটি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচয়, তারপরে সম্পর্কের জেরে নিখোঁজ হয়েছেন অনেকেই। এমন অপরাধ দেশজুড়ে বেড়েছে। প্রতারণা, পাচার ও পর্নোগ্রাফির মতো অভিযোগগুলো প্রতিনিয়তই আসছে রাজশাহী জেলা ও নগর পুলিশের কাছে। তবে মানবপাচারের মতো ঘটনায় অভিযোগ জেলায় বেশি। আর পর্নোগ্রাফি ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলার সংখ্যা বেশি নগরে।
পুলিশ বলছে, রাজশাহী জেলা ও মহানগরে গেলো ছয় মাসের (২০২১ সালে জানুয়ারি-জুন পর্যন্ত) প্রতারণার মাধ্যমে ১২২ নারীকে পাচারের অভিযোগ এসেছে পুলিশের কাছে। এর মধ্যে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে ১১৪ জনকে। রাজশাহী জেলা ও মহানগর মিলে- পর্নোগ্রাফি ২৬টি ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে ৩১টি। এছাড়া রাজশাহী জেলা পুলিশের থানাগুলোতে নারী পাচার (মানবপাচার) ১১৭টি, পর্নোগ্রাফি দুইটি ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে ৪টি। রাজশাহী নগরের থানাগুলোতে নারী পাচার (মানবপাচার) ৫টি, পর্নোগ্রাফি ২৪টি ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে ২৭টি।
অভিযোগ রয়েছে পাচার কাজে সংশ্লিষ্টরা টার্গেট করে প্রলোভন দেখিয়ে হাতিয়ে নেয় বিপুল অঙ্কের টাকা। কখনও কখনও সামাজিক মাধ্যমে ছবি ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনাও কম নয়।
সাইবার ক্রাইম ইউনিট রাজশাহীর ইনচার্জ উৎপল চৌধুরী জানান, ক্লু সেল যে কোনো ঘটনার অপরাধীকে শনাক্ত করে দেওয়া আমাদের কাজ। আমরা অপরাধীকে শনাক্ত করে সংশ্লিষ্ট থানায় জানিয়ে দেই। পরে থানা সেই অনুযায়ী ব্যবস্থাগ্রহণ করে।
রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র ইফতেখায়ের আলম জানান, সাধারণত নিখোঁজ যারা হয়, তাদের পরিবার ও স্বজনরা থানায় জিডি বা সাধারণ ডায়েরি করেন। পরবর্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তিনি আরও বলেন- আমরা সফল হচ্ছি বিশেষ করে পর্নোগ্রাফি, সাইবার ক্রাইমের মতো অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে।