সবজিতে স্বস্তি, পেঁয়াজে সেঞ্চুরি

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৪, ৯:২০ অপরাহ্ণ


নিজস্ব প্রতিবেদক:শীতের অজুহাতে কয়েক সপ্তাহজুড়ে ভরা মৌসুমেও চড়া দাম ছিল সবজির। এই সপ্তাহে কিছুটা কমেছে সবজির দাম। কেজিপ্রতি ১০-২০ টাকা কমেছে প্রায় প্রত্যেকটি সবজির দাম। তবে এখনও স্বস্তি ফিরেনি।দুদিনে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ২০ টাকা। বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১১০ টাকা দরে। কয়েকদিন আগেও ছিল ৮০ থেকে ৯০ টাকা।
শুক্রবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাজশাহীর নগরীর সাহেববাজার, সাগরপাড়া, তালাইমারী, ভদ্রা ও শিরোইল কাঁচাবাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, মুড়ি কাটা পেঁয়াজের মৌসুম শেষ। বেশির ভাগ এলাকার কৃষকরা ওই পেঁয়াজ তুলে ফেলেছেন। আর হালি পেঁয়াজের ভরপুর মৌসুম শুরু হতে কিছুদিন বাকি রয়েছে। মাঝখানের এ সময়ে চলছে সরবরাহ ঘাটতি। যে কারণে বাজারে দাম বাড়ছে।

আমদানির সবচেয়ে বড় বাজার ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ। আমদানি না থাকায় কয়েক মাস ধরে আগাম জাতের এ পেঁয়াজ দিয়ে চাহিদা মেটানো হচ্ছে। ফলে দেশীয় এ পেঁয়াজের সরবরাহ প্রায় শেষ পর্যায়ে। অন্যান্য বছরের এ সময়ের সঙ্গে তুলনা করলে এখন পেঁয়াজের দর থাকার কথা ৩০ থেকে ৩৫ টাকার মধ্যে। কিন্তু সে চিত্র এখন আর নেই। এত চড়া দামে পেঁয়াজ কিনতে বিরক্ত ক্রেতারা। তাদের বেশির ভাগ পেঁয়াজের এ বাড়তি দামে উষ্মা জানিয়েছেন।

এসব বাজারে লম্বা বেগুন প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০-৭০ টাকা, গোল বেগুন ৭০-৮০ টাকা, ফুলকপি ৪০-৫০ পিস, একই দামে বাঁধাকপি। শিম ৭০-৮০ টমেটো ৫০-৬০, পেঁপে ৪০-৫০ টাকা, করলা ৭০-৮০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০-৭০ টাকা, ঢেঁড়শ ৭০-৮০ টাকা মান ও সাইজভেদে লাউ ৭০-১০০ টাকা, শসা ৫০-৬০, মূলা ৪০-৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। যা গত সপ্তাহজুড়ে কিছুটা ১০-২০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হয়েছে।
এছাড়াও শাকের মাঝে সরিষা শাক আঁটি ১৫ টাকা, ডাটা শাক ১৫ টাকা, পালং ১৫-২০ টাকা, লাল শাক ১৫ টাকা, বথুয়া শাক ১৫-২০ টাকা, লাউ শাক ৪০-৫০ টাকা আঁটি বিক্রি হচ্ছে। তবে বাজারে দোকানের তুলনায় ভ্যানে কিংবা ফুটপাতের দোকানগুলোতে প্রত্যেক সবজির দাম ৫-১০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে সপ্তাহের ব্যবধানে আলুর দাম কিছুটা কমেছে। গত সপ্তাহে ৪০-৪৫ টাকা কেজি বিক্রি হলেও আজ তা ৩৫-৪০ টাকায় নেমেছে। তবে কমেনি পেঁয়াজের দাম। ১০০-১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ।
অপরদিকে অস্বস্তি রয়েই গেছে মাছ-মাংসের বাজারে। আবারও ২০০ টাকা ব্রয়লার মুরগির দাম। সোনালি ৩০০-৩৩০ টাকা। আবারও গরুর মাংস ৭০০-৭৫০ টাকায় দাম উঠেছে।

মাছের বাজারে সাইজ ভেদে তেলাপিয়া ২২০-২৩০ ও পাঙাশ ১৮০ থেকে ২২০ টাকা। যা গত সপ্তাহেও একই দামে বিক্রি হয়েছে। অন্য মাছের মধ্যে মাঝারি ও বড় আকারের চাষের রুই, কাতলা ও মৃগেল মাছের দাম প্রতি কেজি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। এছাড়াও ৬০০ টাকার নিচে নেই পাবদা, টেংরা, কই, বোয়াল, চিতল, আইড় ও ইলিশ মাছ। মাছ যত বড় তার দাম ততো বেশিতে বিক্রি হচ্ছে।
একজন বিক্রেতা বলেন, এখন কম দামের মাছের চাহিদা বেশি। দামি মাছ মানুষ কম খায়। ব্যয়ের লাগাম টানতে খরচ সাশ্রয়ের জন্য অনেকে অন্যান্য মাছের উপর প্রাধান্য দিচ্ছে পাঙাশ মাছকে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Exit mobile version