সবজির দাম ও ফলনে খুশি কৃষক

আপডেট: আগস্ট ১৯, ২০২২, ১২:৫০ পূর্বাহ্ণ

জাতীয়..

হাসান পলাশ:


রাজশাহীতে কাঁচামালের চড়া বাজার মূল্যে কৃষকের মুখে হাসি ফিরেছে। মাঠে-ঘাটে সবজির বাড়তি পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছে চাষীরা।

চাষীরা বলছেন, খরিপ-১ মৌসুমের পটল, বেগুন, ঢেরস, করলা, কাঁচা মরিচসহ সকল আবাদ লাভজনক হলেও ঝুঁকিপূর্ণ। ব্যয় বহুলও। কিন্তু অনেক সময় আবাদ করে উৎপাদন খরচ তুলতে পারেন না। এ মৌসুমে এখন পর্যন্ত যে দাম আছে তা কৃষকবান্ধব।
সরেজমিনে বৃহস্পতিবার (১৮ আগস্ট) সকালে রাজশাহীর পবা উপজেলার সাইরপুকুর, দর্শনপাড়া বিল, বিল নেপালপাড়া, বিল ধর্মপুর, বাগধানী, বড়গাছী, পূর্ব পুঠিয়াপাড়াসহ বেশ কিছু এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ধানের পাশাপাশি উচুঁ জমিতে বিভিন্ন সবজির আবাদ হচ্ছে। দাম ভালো থাকায় অনেকে অগ্রিম ফসলও তুলছেন।

কৃষকরা জানান, চলতি মৌসুমে যারা তুলনামূলক নিচু জমিতে মরিচসহ সবজির আবাদ করেছিলেন; তারা শঙ্কায় ছিলেন। কেননা বর্ষণ হলেই সেই আবাদ নষ্ট হয়ে যেত। কিন্তু এবার বিঘাপ্রতি গড়ে ২৫ থেকে ৩০ মণ কাঁচা মরিচ ঘরে তোলার প্রত্যাশা করছেন কৃষকরা। মৌসুমের শুরুতেই এসব মরিচ প্রতিমণ এক হাজার টাকা দামে বিক্রি করছিলেন তারা। এরপর ১০ থেকে ১৫ দিনের মাথায় একই মরিচ বিক্রি করা হচ্ছিল ৮ হাজার টাকা দরে। এমনিভাবে অধিক দাম পাওয়ায় কৃষক আনন্দিত। কিন্তু এরইমধ্যে বাজারে চাহিদার চেয়ে আমদানি বেশি থাকায় বর্তমানে প্রতি মণ দেশি মরিচ ৬ হাজার টাকা দামে বিক্রি করছে কৃষক। এমন দাম স্থিতিশীল থাকলে দ্বিগুণেরও বেশি লাভ থাকবে বলে জানান তারা।

পবার হুজুরিপাড়া ইউনিয়নের সাইরপুকুর গ্রামের কৃষক ইসরাফিল ও তার স্ত্রী মিনা তাদের খেত থেকে মরিচ তুলে মন খুলে হাসছিলেন।
পবা উপজেলার সাইরপুকুর গ্রামের কৃষক ইসরাফিল জানান, বর্গা নিয়ে ১৮ শতক জমিতে জিয়া জাতের মরিচ আবাদ করেছেন। ফলনও হয়েছে অনেক ভালো। সার-কীটনাশতসহ অন্যান্য খরচ বাদে দ্বিগুণেরও বেশি লাভ থাকবে তার।

বড়গাছী ইউনিয়নের দাদপুর পূর্বপাড়া এলাকার পটল চাষি রবিন নওহাটা হাটে এক মণ পটল ৭৫০ টাকায় বিক্রি করেছেন। তিনি জানান, গত হাটে পটল ৯০০ টাকা মণ দরে বিক্রি করেছিলাম। গেল বছর অধিক বর্ষণে পটলের আবাদ ভালো হয় নি এবং বাজারেও দাম ছিল না। তাই পটলের আবাদে ব্যাপক লোকসান গুনতে হয়েছিল। কিন্তু এই মৌসুমে খেতের ফসল ভালো হয়েছে এবং বাজারে দামও বেশি পাচ্ছি। ফলে দ্বিগুণেরও বেশি লাভের আশংকা করছেন তিনি।

মোহনপুর উপজেলার পটল ব্যবসায়ী সালাম জানান, গত হাটে দাম বেশি ছিল। আজকে আমদানি বেশি হওয়ায় ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকায় কিনছি। দাম আরো বাড়বে বলে জানান তিনি।

নওহাটা হাঁটের পটল ব্যবসায়ী মোহম্মদ আলী জানান, ভালো মানের পটল ৯ শো থেকে এক হাজার টাকা দরে কিনছি। কিন্তু গত হাটে আমদানি কম থাকায় ১১ শো থেকে ১২ শো টাকা দরে প্রতি মণ পটল কিনতে এসেছি। গত বছরে এই সময়ে ২শো থেকে ৬ শো টাকা মধ্যে পটলের বাজার ছিল। বিগত কয়েক এই বছরে তুলনায় কৃষকরা প্রতিটি ফসলে অধিক দাম পাচ্ছেন।

মৌমাছি ইউনিয়নের হরিহর পাড়া এলাকার কৃষক দুলাল হোসেন নওহাটা হাঁটে তিন মণ করলা বিক্রি করেছেন এ সপ্তাহে। তিনি জানান, হাটে আমদানি বেশি থাকায় প্রতি মণ করলা ৭২০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। গত হাটে তিনি ১৪ শো টাকায় বিক্রি করেছিলেন।
নওহাটা হাঁটের সততা এন্টারপ্রাইজের ব্যবসায়ী আয়েন উদ্দিন জানান, এ সপ্তাহে ঢেড়স ১৪ শো টাকা দরে কিনছেন। গত কয়েক বছরের তুলনায় দাম অনেক বেশি। এছাড়াও প্রতি মণ মূলা ১৩ শো টাকা দরে, বেগুন ৪ হাজার টাকা দরে, কচু ১৪ শো টাকা মণ দরে এবং কাকরাইল ১৪ টাকা কেজি ও আলু ২২ টাকা কেজি দরে কিনেছেন।

পবা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে পবায় করলা ২ শো হেক্টর, ঢেড়স ১৮০ হেক্টর, বেগুন ১৭৫ হেক্টর এবং ৭ শো হেক্টর জমিতে মরিচের আবাদ হয়েছে। মরিচের পাশাপাশি খরিফ-১ মৌসুমের শাকসবজি আবাদে চাষিদের লাভবান করতে মাঠপর্যায়ে কাজ করা হচ্ছে। কৃষকদের প্রণোদনা দেয়াসহ নানাভাবে সহযোগিতা করা হচ্ছে।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. মোজদার হোসেন জানান, চলতি খরিফ- ১ মৌসুমে প্রায় এক হাজার হেক্টর জমিতে সবজির আবাদ হয়েছে। এরমধ্যে জেলায় ২ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে কাঁচা মরিচ রয়েছে। এছাড়াও জেলায় করলা ৬৪৮ হেক্টর, পটল এক হাজার ৩৪ হেক্টর, বেগুন ১২ শো ৮৬ হেক্টর, ঢেড়স ৪৭৪ হেক্টর আবাদ হয়েছে। এ বছর ফলন ও দাম ভালো থাকায় কৃষকরা লাভবান হচ্ছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ