সবাইকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে না ফেরার দেশে সাগর

আপডেট: মার্চ ১, ২০২৪, ৫:৩০ অপরাহ্ণ


শাহীন রহমান, পাবনা :অভাবী সংসারের হাল ধরতে ঢাকায় সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি নিয়েছিলেন সাগর হোসেন (২০)। কিন্তু তার স্বপ্ন পূরণ হওয়ার আগেই আগুন কেড়ে নিল সব। বাবা-মা সহ সবাইকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন সাগর।

বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানীর বেইলি রোডে মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মৃত্যুর মিছিলে যোগ হয়েছে তার নামটিও।
নিহত সাগর পাবনার ফরিদপুর উপজেলার হাদল ইউনিয়নের ধানুয়াঘাটা পূর্বপাড়া গ্রামের হাসান আলী ও সাবিনা খাতুনের ছেলে। এবছর এইচএসসি পাশ করেছেন তিনি।

দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে সাগর ছিলেন সবার বড়। তার বাবা দিনমজুর, মা গৃহিণী।
ধানুয়াঘাটা গ্রামের বাসিন্দা ঢাকায় কর্মরত মনিরুল ইসলাম মনির জানান, গারদা শিলড সিকিউরিটি কোম্পানির মাধ্যমে সিকিউরিটি হিসেবে ২৭ ফেব্রুয়ারি ক্লথিং ব্যান্ড ইপিলিয়ন শোরুমে জয়েন করেছিল ওই ভবনে। সেখানে কর্মরত অবস্থায় আগুনে আটকা পড়ে মারা যায় সাগর।

শুক্রবার (১ মার্চ) বিকেলে তার গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসির ভিড়। শোকে পাথর বাবা-মা। মাঝে মাঝে ছেলের জন্য আর্তনাদ করছেন তারা। তাদের সান্ত¦না দেয়ার ভাষাও হারিয়ে ফেলেছেন প্রতিবেশিরা। শোকে ভারী হয়ে উঠেছে গ্রামের বাতাস

সাগরের বাবা হাসান আলী বলেন, দিনমজুরি করে কোনো রকমে সংসার চালাই। ছেলেকে লেখাপড়া করানো খুব কঠিন হয়ে পড়েছিল। বাবা ছেলে আলোচনা করে কর্মের সন্ধানে তাকে ঢাকায় যেতে বলি। ৪ মাস আগে সে ঢাকায় গিয়ে সিকিউরিটি কোম্পানিতে চাকরি শুরু করে। মাঝে মধ্যে কিছু টাকা পাঠাতো। তা দিয়ে মোটামুটি সংসার চলছিল। গতরাতে একটার দিকে জালসা শুনে বাড়ি ফেরার পর আমি শুনতে পাই আমার ছেলে নাই। এখন আমি কী নিয়ে বাঁচবো।

সাগরের মা সাবিনা খাতুন বলেন, দুদিন আগে ছেলের সাথে মোবাইল ফোনে কথা হয়েছে। বেতন তুলে দশ তারিখে বাড়ি আসবে বলেছিল সাগর। আমি বলেছিলাম যে টাকার দরকার নাই, তুমি বাড়ি চলে আসো। কিন্তু তার আগেই আমার ছেলেটা পৃথিবী থেকে চলে গেল বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন সাগরের মা।

হাদল ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম হোসেন বলেন, সাগর আমাকে দাদা বলে ডাকতো। ঢাকা থেকে এসে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছিল সে। ঢাকা যাবার আগেও আমার সাথে কথা বলেছে সে। শুক্রবার সকালে ফেসবুকের মাধ্যমে জানলাম বেইলি রোডের আগুনের ঘটনায় সাগর মারা গেছে। এটি একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। তার পরিবারটি খুবই অসহায়। আমি এবং উপজেলা পরিষদের মাধ্যমে এই অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবো। সেইসাথে দাবি জানাই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় যেন পরিবারটি ক্ষতিপূরণ পায়।