সবুজ গাছ আর লাইটিংয়ে সৌন্দর্যবর্ধন করছে রাতের রাজশাহী

আপডেট: January 6, 2020, 1:10 am

তারেক মাহমুদ


রাজশাহী নগরীকে আলোকিত করা হয়েছে। ছবিটি নগরীর উপশহর থেকে তোলা সোনার দেশ

রাসিক নগর ভবন। সামনের রাস্তা, ফুটপাত বেশ সুসজ্জিত। ফুটপাতের ধার ঘেষে দৃষ্টি নন্দন বসার জায়গা। সেখানে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছে কলেজ শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেন। সাব্বির বলেন, ‘এখানে তারা মাঝে মাঝেই বসে ক্লাসের বন্ধু-বান্ধবীদের নিয়ে। সবুজে ঘেরা মনোরম পরিবেশে লাল-নীলের ঝলকানি বেশ মজার। গাছগুলোর লাল-নীল বাতিগুলো দেখতে চমৎকার। যা অন্য শহরে নেই।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী জুয়েল বলেন, ‘এখানে বেশ ভালোই সময় কাটে। আড্ডার সঙ্গে বিভিন্ন নাস্তাও পাওয়া যায়। তবে মজার বিষয় হচ্ছে, খাবারের দোকানগুলোর অর্বজনা রাস্তায় পড়ে থাকে না। এতে করে অপরিস্কার হয় না আশ-পাশ। এর সবই অবদান সিটি মেয়র এইচএম খায়রুজ্জামান লিটন।
এদিকে রাজশাহী নগরীর তালাইমারী থেকে রেলগেট থেকে লক্ষ্মীপুরসহ সিন্ডবি কোর্ট বাজারের রাস্তা, সাহেব বাজারের সড়কগুলোতে ভরে উঠেছে সবুজ গাছ আর ফুল এর সাথে সাথে রাতের লাইটিং এ রাতের পরিবেশটা এখন মায়াবী এক সৌন্দর্যে ভরে উঠেছে। বিকেল হলেই নগরীর প্রধান প্রধান মোড়সহ বিনোদনের জায়গাগুলোতে আড্ডায় মেতে উঠে বিভিন্ন ছোটবড় সবাই। নগরীর রাস্তাগুলোর মাঝখান দিয়ে চলে যাওয়া সড়ক বিভাজনে এখন শোভা পাচ্ছে হাজার হাজার পামওয়েল গাছ। প্রতিটি সড়কে ফুল আর সবুজ আর রাতের লাইটিংয়ে সড়কেগুলোতে এখন প্রাণ ফিরেছে।
গতকাল সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, নগরীর সড়কগুলোতে ফুল ও সবুজ গাছে ভরে গেছে। ফুলগুলোর মাঝে দিনের বেলায় যেমন সৌন্দর্য ধরে রাখছে রাতেও লাইটিং সৌন্দর্যের মাত্রাটি আরো বেড়ে যাচ্ছে। সবুজ গাছের সাথে এখন পলাশ, কৃষ্ণচূড়া, কানকচূড়া, গাঁদাচূড়া, হাইকো, চেরি, কাঠকরলসহ নানা জাতের ফুলে ভরে আছে সড়কগুলোতে। গতকাল সোমবার বিকেলে নগরীর সিএন্ডবি এলাকার সামনে দাঁড়িয়ে বন্ধুদের সাথে ছবি তুলতে মীম ও তার বন্ধুরা।
মীম বলেন, রাজশাহীর সকল পয়েন্টে এখন নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। আগে কিছু অপরিপূর্ণ থাকলেও এখন তার চিত্র পাল্টে যাচ্ছে। রাস্তার মোড়ে মোড়ে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার সাথে বিভিন্ন ফুলের গাছ। বিকেল শেষে সন্ধ্যার পরে এই সৌন্দর্যের মাত্রাটাও অনেক বেড়ে যায়। নগরীর শিরোইল এলাকার বাসিন্দা সাবিনা ইয়াসমিন জানান, বর্তমানে নগরীর সকল গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় সৌন্দর্য বর্ধনে নতুন করে আরো গাছ লাগানো হয়েছে। এতে শহরের পরিবেশ আরো সুন্দর হয়ে উঠেছে। বাইরে থেকে অনেক আত্মীয়-স্বজন এসে আমাদের শহরের প্রশংসা করে। রাতে তাদের সাথে বাইরে বের হলে এমন সুন্দর পরিবেশে ছবি তুলে ফেসবুকেসহ সামাজিক মাধ্যমে দেয় প্রশংসা করে। এটা আমাদের জন্য গর্বের।
এদিকে রাসিকের সূত্র মতে, রাস্তার ফুলগুলোতে পানির গাড়িতে করে নিয়মিত গাছের গোড়ায় পানি নেওয়া হয় এবং সঠিকভাবে পরিচর্যা করা হয়। অন্যদিকে ২০১৬ সালে এই রাজশাহী সারা বিশ্বের মাঝে পরিবেশে দূষণেরোধে প্রথম স্থান দখল করেছিলো। রাসিক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের উদ্যোগে নগরীর সড়কেই ৮ হাজার নতুন গাছের চারা রোপনের কাজ হয়েছে। এছাড়া নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে ২০০ টি করে গাছের চারা ও শিক্ষা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৮ হাজার গাছের চারা রোপন করা হয়েছে।
রাসিকের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক বলেন, রাজশাহী নগরীকে আরো সুন্দর করার জন্য নতুন নতুন বিভিন্ন জাতের গাছ লাগানো হয়েছে। শহরের মাঝে রাতের সৌন্দর্য বাড়াতে গত অক্টোবর মাসে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ হাতে নেওয়া হয়েছে। এর আগে চায়নার একটি প্রতিনিধি দলের সাথে শহরের রাতের সৌন্দর্য নিয়ে নতুন পরিকল্পনা নেয়া হয়। এই পরিকল্পনা শেষ করতে এক বছর সময় লাগবে। পরিকল্পনাটি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হলে গোটা রাজশাহী নগরী আরো সুন্দরভাবে সাজবে।