সব রপ্তানিমুখী কোম্পানি একই কর দেবে

আপডেট: জুন ৯, ২০২২, ৮:০৯ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক:


সব ধরনের রপ্তানি খাতকে উৎসাহিত করে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশে তৈরি পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে তৈরি পোশাকের মত রপ্তানিমুখী অন্য কোম্পানির করহারও ১২ শতাংশ করা হয়েছে।

আর কারখানা পরিবেশবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলা হলে করপোরেট করে আরও ছাড় মিলবে, দিতে হবে ১০ শতাংশ।
বৃহস্পতিবার ২০২২-২০২৩ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সার্বিকভাবেই করপোরেট করহার দুই দশমিক ৫ শতাংশ পয়েন্ট কমানোর প্রস্তাব করেছেন।

তার প্রস্তাব অনুযায়ী, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত না হলে কোনো কোম্পানির করহার হবে সাড়ে ২৭ শতাংশ। আর তালিকাভুক্ত হলে শর্তসাপেক্ষে কর দিতে হবে সাড়ে ২২ ও ২০ শতাংশ। অর্থমন্ত্রীর প্রস্তাব অনুযায়ী, অন্যান্য রপ্তানিমুখী শিল্পের ক্ষেত্রে করপোরেট করহার কমিয়ে রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্পের সমপর্যায়ে নিয়ে আসা হয়েছে।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, “তৈরি পোশাক এর বিদ্যমান প্রযোজ্য করহার এর ক্ষেত্রে সাধারণ ফ্যাক্টরির জন্য ১২ শতাংশ এবং গ্রিন ফ্যাক্টরির জন্য ১০ শতাংশ করহার এর বিধান প্রচলিত রয়েছে।

“রপ্তানি খাতে পণ্যের বৈচিত্র্যকরণকে উৎসাহ প্রদান ও সব ধরনের রপ্তানি শিল্পকে সমতাভিত্তিক সুবিধা প্রদানের নিমিত্ত গার্মেন্টসের ন্যায় অন্যান্য পণ্য বা সেবা রপ্তানি খাতকে হ্রাসকৃত করহার সুবিধা তথা সাধারণ শিল্পের জন্য ১২ শতাংশ এবং গ্রিন শিল্পের জন্য ১০ শতাংশ কর হার এর প্রস্তাব করছি।“

এমন ছাড় দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের জিডিপিতে রপ্তানি খাতের অবদান বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিগত অর্থবছরে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ পণ্য ও সেবাকে দীর্ঘমেয়াদি কর প্রণোদনা প্রদান করা হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডকে গে¬াবাল ব্র্যান্ডে পরিণত করার লক্ষ্যে রপ্তানির নতুন ক্ষেত্র সৃষ্টি এবং পণ্যের বৈচিত্র্যকরণ ও নতুন বাজার তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

“এ ধরনের রপ্তানিবান্ধব উদ্যোগের ফলে বাণিজ্য ঘাটতি নিম্নখী হবে। ফলে অর্থনীতির অন্যতম প্রধান সূচক বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্যে (কারেন্ট অ্যাকাউন্ড ব্যালেন্স) ঘাটতি হ্রাস পাবে।“
চলতি ২০২১-২০২২ অর্থবছরের বাজেটে দেশে নতুন শিল্প ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ শিরোনামে ১০ বছরের করমুক্ত সুবিধা ঘোষণা করা হয়েছিল।

এর সঙ্গে করপোরেট করহার হ্রাস করে উপাদনমুখী, রপ্তানিমুখী ও আমদানি বিকল্প শিল্পের সুবিধা বাড়ল।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক অতিমারীর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতির পুনরুদ্ধারকে সামনে রেখে রাজস্ব প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি অর্থনীতিতে গতিসঞ্চারের লক্ষ্যে ২০২২-২০২৩ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।

একইসাথে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের প্রস্তুতি গ্রহণ, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও জিডিপির প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা, স্থানীয় শিল্পের বিকাশ, প্রতিরক্ষণ ও বাণিজ্য সহজীকরণের মাধ্যমে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, রপ্তানিমুখী ও ভারী শিল্পের বিকাশের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান, মেইড ইন বাংলাদেশ শ্লোগান অব্যাহত রাখাসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ