সমঝোতা করলেন না বিদ্রোহীরা || রাজশাহী জেলা পরিষদ নির্বাচন

আপডেট: ডিসেম্বর ৫, ২০১৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও সমঝোতা করলেন না আওয়ামী লীগের দুই বিদ্রোহী প্রার্থী। তারা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন না বলে জানিয়েছেন। কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ বিদ্রোহী দুই প্রার্থীকে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করার অনুরোধ করলে তারা প্রত্যাহার করবেন না বলে জানিয়েছেন। গত শনি ও রোববার ওই দুই প্রার্থীকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ করেন জেলা কমিটি।
এবছর রাজশাহী জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী নগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মাহবুব জামান ভুলু। একই পদে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান বাদশা ও আওয়ামী লীগের সমর্থক ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলী সরকার।
গতকাল জেলা কমিটির পক্ষ থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ দলের ২ অভিমানী প্রার্থীকে তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের জন্য অনুরোধ করেন। এরই অংশ হিসেবে গত ৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহা. আসাদুজ্জামান আসাদের নেতৃত্বে ৪ সদস্যের একটি টিম নগরীর আলুপট্টি এলাকায় অবস্থিত রাজশাহী জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান বাদশার অফিসে যান এবং আ’লীগের নেতা হিসেবে তাকে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের জন্য অনুরোধ করেন। এই টিমে ছিলেন, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ অ্যাড. লায়েব উদ্দিন লাভলু, অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান মান্জাল, কামরুজ্জামান চঞ্চল ও উপ-দপ্তর সম্পাদক প্রভাষক শরিফুল ইসলাম। এছাড়া গতকাল সন্ধ্যা ৭টায় আরেক অভিমানী প্রার্থী শিল্পপতি মোহাম্মদ আলীর উপশহরের বাসভবনে জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহা. আসাদুজ্জামান আসাদের নেতৃত্বে ৬ সদস্যের আরেকটি টিম যায়। তাকে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশনা বিস্তারিত বলা হয় এবং মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের জন্য অনুরোধ করা হয়। এই টিমে ছিলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অ্যাড. মকবুল হোসেন খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. লায়েব উদ্দিন লাভলু, কামরুজ্জামান চঞ্চল, সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম আসাদুজ্জামান, উপ-দপ্তর সম্পাদক প্রভাষক শরিফুল ইসলাম ও মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক নেতা প্রভাষক জিয়াউর রহমান।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের সঙ্গে দেখা করে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করার অনুরোধ করা হয়েছে। তারা প্রত্যাহার করবেন না বলে জানিয়েছেন।
যোগাযোগ করা হলে মুঠোফোনে চেয়ারম্যান প্রার্থী অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান বলেন, আমি আগেও বলেছি, এখনো বলছি, কেন্দ্রীয় হাইকমান্ড যদি সুনির্দিষ্ট ও সুপষ্টভাবে নির্দেশনা দেয়, তাহলে আমি অবশ্যই মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেব। কারণ আমার কাছে দলের চেয়ে চেয়ারম্যান পদ বড় না।’ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারে জেলা কমিটির বক্তব্যের বিষয়ে তিনি বলেন, জেলা কমিটির সেক্রেটারি আসাদ আমার কাছে এসে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের জন্য অনুরোধ করেছেন। এর বাইরে কিছু বলেন নি। তারা সেভাবে কোনো চাপও দেননি।’ অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান বলেন,  হাইকমান্ড থেকে যদি নির্দেশনা এলে আমি অবশ্যই মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেব।
আরেক প্রার্থী মোহাম্মদ আলী সরকারের ফোন বন্ধ পাওয়ায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ