সমন্বিত চাষাবাদে সাবলম্বী কৃষক আওয়াল

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২২, ৯:১৪ অপরাহ্ণ

শিবগঞ্জ প্রতিনিধি:


শিক্ষা জীবন শেষে অল্প পুঁজি নিয়ে মাত্র ২ একর জমিতে ৮ প্রজাতির ফল ও কয়েক ধরনের সবজি উৎপাদনের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন পূরণ এখন বাস্তব হয়েছে কৃষক আওয়ালের।

সিভিল ইঞ্জিনিয়ার ডিপ্লোমায় লেখাপড়া শেষ করে কোন চাকুরীর চেষ্টা না করে কৃষি কাজ করার সিদ্ধান্ত নেয় আওয়াল। ছোট থেকে টেলিভিশন ও মোবাইলের ইউটিউবে কৃষি বিষয়ক অনুষ্ঠান দেখে কিছু শিক্ষা অর্জন করে কাজে নেমে পড়েন।

আওয়াল শিবগঞ্জ পৌরসভাধীন পিঠালীটোলা গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে। তিনি বলেন, আমি ছোট থেকেই পিতার সাথে কৃষি কাজে অংশ গ্রহনের মাধ্যমে কৃষি কাজ আমার কাছে প্রিয় হয়ে উঠে। পড়াশোনা শেষ করে চাকুরির পেছনে না ছুটে কৃষি অফিসার কৃষিবিদ শরিফুল উপসহকারী কৃষি অফিসার গোলাম আজম কনকের সাথে আলাপ করি। তিনি কৃষি কাজের মধ্যে বিশেষ করে কয়েক ধরনের ফল উৎপাদনে কম খরছে অধিক লাভের আশার আলো দেখান। এ ব্যাপারে তিনি সার্বক্ষনিক আমার পাশে থেকে সব ধরনের পরামর্শ দিয়েছেন। তার পরামর্শে নিজের জমি না থাকায় পিঠালিটোলা মাঠে শেরাফত মৌজায় গত ২০২১ সালে বাৎসরিক বিঘাপ্রতি ১৩ হাজার টাকা দরে ৬ জমি ১০ বছরের জন্য বর্গা নিয়ে আমসহ ৮ রকমের ফলের আবাদ শুরু করি। আগে থেকে জমিওয়ালার লাগানো ৭০ ঝাড় আম গাছে টপ ওয়ার্কিং করে কাটিমন আমের জাতের বাগান তৈরি করি। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে এ মৌসুমেই ৩০ মন কাটিমন আম ১০ হাজার মন দরে বিক্রি করে ৩ লাখ টাকা পেয়েছি।

আরো প্রায় ৩৫ মন আম গাছে এখনো আছে। যা আরো এক মাস পর প্রায় ৪ লাখ টাকায় বিক্রি করতে পারবো। কাটিমন আমগুলিকে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বারোমাসি করা হয়েছে। ্বছরে তিনবার মুকুল আসে। তবে একবার মুকুল ভেঙ্গে ফেলি। শুরু থেকে এপর্যন্ত প্রায় ৮ লাখ টাকা খরচ করেছি। ১০ বছরে খরচের টার্গেট ধরা হয়েছে ৫০ লাখ টাকা। আয় হবে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। খরচ বাদে আমার আয় হবে প্রায় ১ কোটি টাকা।

তিনি বলেন, আমার বাগানে মালটা গাছ ২ শো, চায়না কমলা ১ শো, পেয়ারা ২১৫ শো, মরিচ আড়াই শো, আলু বোখরা (এক ধরনের মসলা) ১০ টি, ড্রাগন সাড়ে ৯ শো টি গাছ আছে। এ সাত ধরনের ফল থেকে আগামী ৯ বছরে ৫০ লাখ টাকা আয়ের টার্গেট ধরা হয়েছে। তাছাড়া বাগানের বেড়ার চর্তুর দিকে ঝিংগা, মিষ্টি কুমড়া, লাউ ওলসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি লাগানো হয়েছে। যা থেকে আমার ও ৭ জন শ্রমিকের সবজি কিনতে হয় না। শুধু তাই পরীক্ষামুলকভাবে ৫ কাঠা জমিতে ফিলিপাইনের আখ লাগানো হয়েছে। আশা করি সফল হবো। আরো জমিতে ফিলিপাইনের আঁখের চাষ করবো।

এ ব্যাপারে শিবগঞ্জ পৌরসভার উপ-সহকারী কৃষি অফিসার গোলাম আজম কনক বলেন, আওয়ালকে আমরা অঅমরা সহযোগিতা করে যাচ্ছি। ব্যতিক্রমি আবাদ করে এই কৃষক সাবলম্বী হয়েছেন।