সমাজে বিশেষ অবদানের জন্য ১৪ জনকে গুণিজন সম্মাননা প্রদান

আপডেট: মার্চ ৫, ২০১৭, ১:১৯ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক



নগরীতে সমাজে বিশেষ অবদানের জন্য ১৪ জনকে ‘গুণিজন সম্মাননা-২০১৭’ প্রদান করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল ১০ টায় নগরীর অনুরাগ কমিউনিটি সেন্টারে দৃষ্টি সাহিত্য সংসদের ২৮তম প্রতিষ্ঠাবাষির্কী ও সাহিত্য সম্মেলন উপলক্ষে কয়েকটি ক্যাটাগরিতে ক্রেস্ট দিয়ে তাদের গুণিজনদের সম্মাননা প্রদান করা হয়।
গুণিজন সম্মাননা প্রাপ্তরা হলো- ফোকলোর গবেষণায় অবদানের জন্য ‘ড. আসাদুজ্জামান’ পদক গ্রহণ করেন অধ্যাপক ড. আবদুল খালেক, দৃষ্টি সাহিত্য সংসদ পদক গ্রহণ করেন রাবি বাংলাভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষক কবি অনিক মাহমুদ, কবি নাসিরুদ্দীন আহমদ পদক গ্রহণ করেন দৈনিক সোনালী সংবাদের সম্পাদক লিয়াকত আলী, সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের জন্য কবি নাসিরুদ্দীন আহমদ পদক গ্রহণ করেন দৈনিক সোনার দেশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আকবারুল হাসান মিল্লাত, আবদুর রশীদ চৌধুরী, ড. অমৃতলাল বালা, মুকুল কেশরী, রোকেয়া রহমান, কাজী আসাদুর রহমান, খেলাফত হোসেন পদক গ্রহণ করেন দ্বিজেন্দ্রনাথ ব্যানার্জী, বেগম আশরাফুন্নেছা পদক গ্রহণ করেন তামিজ উদ্দীন, হামিদা হক, খান আকতার হোসেন ও খেলাফত হোসেন পদক গ্রহণ করেন সিদ্দিকুর রহমান খান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমান খান কবি, গবেষক ও সাহিত্যিক ড. আসাদুজ্জামানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, রাজশাহীর সংস্কৃতি ও সাহিত্য অঙ্গণে তার অবদান অপ্রতুল। দৃষ্টি সাহিত্য সংসদ প্রতিষ্ঠার এতো বছর পরেও তাকে আমরা স্মরণ করছি শ্রদ্ধায়।
তিনি বলেন, সাহিত্য ও সংস্কৃতি একটি জাতির ভূষণ। ভাষা ও সাহিত্যের ধারা এগিয়ে নিতে না পারলে জাতি তার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ও বৈচিত্র হারিয়ে ফেলে। ভাষা ও সাহিত্য চর্চার মধ্য দিয়ে জাতির উন্নত মনন ও সাহিত্য-সমৃদ্ধি সম্ভব হয়। সার্বিক উন্নয়ন ধারণায় ভাষা ও সাহিত্যের বিকাশকে কোনোভাবেই অবহেলার সুযোগ নেই। বাঙালির সাহিত্য ও সংস্কৃতির ঐতিহ্যকে বেগবান ও পরিশীলিত করতে হলে বাংলা ভাষাকে আরো পরিশীলিত ও সমৃদ্ধ করতে হবে।
গুণিজন সম্মাননা পর্বে সভাপতিত্ব করেন, দৃষ্টি সাহিত্য সংসদের উপদেষ্টা ও রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিরিন সুফিয়া খানম। অতিথির বক্তব্য দেন, দৃষ্টি সংসদের উপদেষ্টা ও নর্থ বেঙ্গল ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক রাশেদা খালেক, নিউ ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ফরিদা সুলতানা ও রাবি ফোকলোর বিভাগের অধ্যাপক ড. আবুল হাসান চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন, দৃষ্টি সাহিত্য সংসদের সাধারণ সম্পাদক রেবেকা আসাদ। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন, দৃষ্টি সাহিত্য সংসদের সভাপতি মাহবুবা আহমেদ।
সম্মাননাউত্তর অনুভূতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন, নর্থবেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. আব্দুণ খালেক, কবি অনীক মাহমুদ,

দৈনিক সোনালী সংবাদের সম্পাদক লিয়াক আলী, দৈনিক সোনার দেশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আকবারুল, কবি হামিদা বানু, মুকুল কেশরী প্রমূখ।
এছাড়া অন্যান্য গুণিজন সম্মাননাপ্রাপ্তরা বলেন, দৃষ্টি সাহিত্য সংসদ দীর্ঘদিন ধরে সংস্কৃতি ব্যক্তিত্ব ও কবিদের নিয়ে সাহিত্য চর্চায় অবদান রাখছেন। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষকে বিশেষ অবদানের সম্মাননা প্রদান করছেন। যাতে কাজের গতিকে আরো বেশি সমৃদ্ধিশালী করতে পারে। এজন্য সাহিত্য প্রেমীদের বিভিন্ন অবদানে সম্মাননা দেওয়া অভিনন্দন জানায় দৃষ্টি সাহিত্য পরিবারকে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন ও  গীতা পাঠ করা হয়। এরপর অতিথিদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। এছাড়া রাবি শিক্ষক গবেষখ ড. আসাদুজ্জামানের স্মরণে ১ মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। এরপর সম্মাননাপ্রাপ্তদের নিয়ে ফটোসেশন অনুষ্ঠিত হয়।
এরপর দুপুরে অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন, ড. মাসুমা খানম। অতিথি ছিলেন, ড. সরোচিষ সরকার, হাসান আখতার, হামিদুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর আলী, অধ্যাপক ড. মাযহারুল ইসলাম তরু। মোড়ক উম্মোচন করেন, সমকালীন দৃষ্টিলোক। আলোচক ছিলেন, অধ্যাপক মহম্মদ আবদুল গফুর ও ড. মুবাররা সিদ্দিকা। তৃতীয় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন, কবি অনীক মাহমুদ। অতিথি ছিলেন, ড. চন্দন আনোয়ার, কবি সুখেন মুখোপাধ্যায়, সৈয়দ মোস্তাক হাসান, কবি মোহা. ইব্রাহীম, কবি মোস্তফা রহমান, কবি আলাউদ্দিন আহমেদ। অনুষ্ঠানের শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে পরিবেশিত হয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ