সম্পত্তি ও বাড়ি হাতিয়ে নিতে মামলা দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগি পরিবার

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২০, ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


সম্পত্তি ও বাড়ি হাতিয়ে নিতে মামলা দিয়ে ফাঁসানো হচ্ছে একটি পরিবারকে। শুধু তাই নয়, একের পর এক হুমকিতে অনেকটাই অসহায় ভুক্তভোগি পরিবারের লোকজন। এমন অভিযোগ তুলে গতকাল রোববার বেলা ১১টার দিকে নগরীর একটি রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগি নিলুফা বেগম ও তার পরিবার।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, নিলুফা বেগম। এসময় উপস্থিত ছিলেন, তার স্বামী জাহাঙ্গীর আলম স্বাধীন ও ছেলে জাবিদ ইকবাল। তারা নগরীর ফিরোজাবাদ সপুরার এলাকার বাসিন্দা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মামলায় চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের ৫ তারিখে আমি (নিলুফা) আমার বাবা তৈয়বুর রহমান ও ছেলে জাবেদ ইকবালের নামে কোর্টে মামলা দায়ের করেন মহাসিন আলী প্রামাণিক। মহাসিন আলী সম্পর্কে আমার ফুফা হন। এই মামলায় বাড়ি বিক্রির নামে ৫২ লাখ ও পাসপোর্ট করে দেয়ার নাম করে ১৪ লাখ টাকা দিয়েছে আমার ছেলে জাবেদ ইকবালকে এমন অভিযোগ তোলা হয়। কেউ পার্সপোর্ট ও ভিসার জন্য ১৪ লাখ টাকা দেয়া নিয়ে সন্দেহ থেকেই যায়। তাহলে প্রশ্ন মহাসিনের এতো টাকা উৎস কি? যাদি মহাসিন একজন কৃষক।
অভিযোগে আরো বলা হয়েছে, জাবেদ ভারতের ভেলোরে নিয়ে মহাসিন আলী ও তার স্ত্রীর চিকৎসা করাতে নিয়ে যার নামে ১৪ লাখ টাকা নিয়েছে। প্রকৃত ঘটনা হচ্ছে, জাবেদের থেকে ৯ লাখ ৮৫ হাজার টাকা নিয়েছেন মহাসিন আলী। এনিয়ে জাবেদের করা মহাসিনের বিরুদ্ধে একটি মামলা চলমান রয়েছে। যার মামলা নাম্বার ৭৪টি/১৯। মূলত এই টাকা না দেয়ার জন্যই তিনি এমন মামলা করেছেন বলে মনে করেন ভুক্তভোগি পরিবার।
এছাড়া মামলার অভিযোগে আরো বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের ২২ এপ্রিল বিকেলে ৫২ লাখ টাকা দেয়া হয় জাবেদকে। এছাড়া নিলুফা ৩০ জুন ২০১৯ তারিখের মধ্যে বাঁকি ৮ লাখ টাকা নিয়ে বাড়ি রেজিস্ট্রি করে দেয়ার কথা বলে। এই অভিযোগগুলো মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
মহাসিন আলী স্বার্থ হাসিলের জন্য এই মিথ্যা অভিযোগগুলো তুলেছেন। যদিও মহাসিন আলী প্রামাণিক আত্মীয়তার সুবাদে আমার (নিলুফার) বাড়ি-ঘর ও জমি জায়গার বিষয়ে সব জানেন। তিনি বিভিন্নভাবে আমার বাড়িটি হাতিয়ে নেয়ার উদ্দেশ্যে একের পর এক অপচেষ্টা ও ষড়যন্ত্র করে আসছে।
নিলুফা আরো বলেন, টাকা পয়সা লেন-দেনের বিষয়ে তার সঙ্গে কখনো কোনো কথা হয়নি। এছাড়া এই বাড়িটি আমার শেষ সম্বল। এই বাড়ি বিক্রি করলে সন্তানদের নিয়ে যাওয়ার জয়গা নেই। তাই বাড়িটি বিক্রির প্রশ্নই আসে না।
যদিও মহাসিন আলী আমার আত্মীয় হয়। তাকে আমি আত্মীয়ের চোখে দেখি। পরিবারের মান-সম্মানের কথা ভেবে আমি ফুফা মহাসিন আলীর সঙ্গে বেশ কয়েকবার কথা বলেছি। এছাড়া নিকট আত্মীয়ের মাধ্যমেও জানতে চেয়েছি তিনি আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও মিথ্যা মামলা করেছেন কেনো? আমার (নিলুফা) জানা মতে, বাবা-চাচাদের নিজের মধ্যে কোনো ধরনের সমস্যা থাকতে পারে। কিন্তু সে বিষয়গুলো তো আমাদের জানা নেই। তবে তৈয়বুর রহমানের আপন বোনের স্বামী এই মহাসিন আলী প্রামানিক। তাদের নিজের মধ্যের সমস্যাগুলো নিয়ে আমাকে মামলায় জড়াচ্ছে। এমনও হতে পারে।
তবে মহাসিন আলী এই বিষয়গুলো নিয়ে আমার ও আমার আত্মীয়ের কারো সঙ্গে কথা বলেননি। উল্টো তিনি আমার ছেলে জাবেদের উপরে বিভিন্ন অভিযোগ তুলেছেন। তবে সব অভিযোগ ভিত্তিহীন হওয়ায় আত্মীয়ের সামনে প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। মহাসিন আলীর কথা তাকে মোটা অঙ্গের টাকা দিতে হবে।
এবিষয়ে মেহাসিন আলী প্রমানিক বলেন, ৬৬ লাখ টাকা নিয়েছে। সেই বিষয়ে কোর্টে মামলা চলছে। এছাড়া আমি (মহাসিন) ৯ লাখ ৮৫ হাজার টাকা নেয়নি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ