সম্পত্তি বেহাত হওয়ার আশঙ্কায় পিতাকে খুন

আপডেট: জানুয়ারি ২০, ২০২২, ১০:১৩ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


তিন সন্তানের জনক বৃদ্ধ সাজ্জাদ হোসেন। বয়স ৭০ ছুঁইছুই। দুই মেয়ে ও এক ছেলের কোলজুড়েও রয়েছে সন্তান। এরমধ্যেই প্রিয়তমা স্ত্রীর মৃত্যুতে নতুন সংসার গড়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন সন্তানদের। প্রায় এক বছর ধরে স্ত্রীর শূন্যতা ও সন্তানদের অযত্ম-অবহেলা থেকে মুক্ত হতে একরকম বিয়ের তোড়জোড় শুরু করেছিলেন সাজ্জাদ হোসেন। কিন্তু বাবার বিয়ে হলে সম্পত্তিতে তৈরি হবে নতুন অংশীদার, বেহাতও হতে পারে সম্পত্তি -এমন শঙ্কা থেকেই রাজশাহীতে সাজ্জাদ হোসেনকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে ছেলে রাসেল আলী ওরফে স্বপন (৩২)।

প্রথমে ঘুমন্ত অবস্থায় সাজ্জাদের গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করে ছেলে স্বপন। টের পেতেই বাবা- ছেলের মধ্যে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে আসামি খাটের নিচে থাকা কাঠের লাঠি দ্বারা তাকে আঘাত করে নিস্তেজ করে ফেলে। পরবর্তীতে ধারালো চাকু দিয়ে গলা কেটে হত্যা নিশ্চিত করে। এরপর মৃতদেহকে বাড়ির দক্ষিণ পাশে টয়লেটের সেফটি ট্যাংকের ভিতরে ফেলে রাখে। পরবর্তীতে হত্যাকা-ের শিকার সাজ্জাদের বড় ভাই সাজদার রহমান হাদী দামকুড়া থানায় নিখোঁজের অভিযোগ করে। দামকুড়া থানা পুলিশ আসামি রাসেলকে সাথে নিয়ে বৃহস্পতিবার (২০ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৩ টার দিকে অভিযান পরিচালনা করে টয়লেটের সেফটি ট্যাংকের ভিতর থেকে সাজ্জাদের মরদেহ উদ্ধার করে।

এর আগে, তার ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আসামি এই হত্যাকা-ের কথা স্বীকার করে। একইসঙ্গে সে পুলিশের সামনে এ হত্যাকাণ্ডের বর্ণনাও দেয়। বৃহস্পতিবার (২০ জানুয়ারি) দুপুর ১২ টায় আরএমপি সদরদপ্তর কনফারেন্স রুমে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) মজিদ আলী বিপিএম এ ঘটনা ব্রিফিং করেন।

তিনি বলেন, ১৯ জানুয়ারি রাত পৌনে ১০ টায় সাজ্জাদের বড় ভাই সাজদার রহমান হাদী দামকুড়া থানায় অভিযোগ করেন তার ভাই সাজ্জাদকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এর প্রেক্ষিতে দামকুড়া থানায় একটি জিডি এন্ট্রি হয়। জিডি এন্ট্রি পরবর্তীতে দামকুড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মাহবুবুর রহমানের নেতৃত্বে এসআই গোলাম মোস্তফা ও তার টিম নিখোঁজ সাজ্জাদের অবস্থান শনাক্তপূর্বক উদ্ধারে অভিযান শুরু করে। অভিযান পরিচালনাকালে দামকুড়া থানা পুলিশের ওই টিম নিখোঁজ সাজ্জাদের বাড়িতে উপস্থিত হয়ে তার ছেলে রাসেলসহ আশেপাশের স্থানীয় ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জিজ্ঞাসাবাদে নিখোঁজ সাজ্জাদের ছেলে রাসেল অসংলগ্ন ও এলোমেলো কথাবার্তা বলতে থাকে। তার এই সন্দেহজনক কথাবার্তার কারণে তাকে থানায় নিয়ে এসে তার পিতার নিখোঁজ হওয়ার ব্যাপারে বিভিন্ন কৌশলে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে রাসেল জানায়, ১৯ জানুয়ারি রাত সাড়ে ১২ টার দিকে সাজ্জাদকে হত্যা করে পাশে টয়লেটের সেফটি ট্যাংকের ভিতরে লাশ ফেলে রেখেছে। এরপর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নেয়া হয়। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এ বিষয়ে দামকুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান জানান, লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আসামির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ