সম্পদের দ্বন্দ্বে ছেলেদের হাতে বাবা খুন || ছেলে ও তার স্ত্রী আটক

আপডেট: জানুয়ারি ১০, ২০১৭, ১২:০৪ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক



নগরীতে সম্পদ ও টাকার জন্য বাবাকে শ্বাসরোধ করে খুন করেছে দুই ছেলে। গতকাল সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর  বহরমপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। নিহতের নাম আবদুল শেখ (৬৫)। তিনি রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী। এ ঘটনায় তার ছোট ছেলে শরিফুল ইসলাম শরিফ (৩৫) ও তার স্ত্রী হাবিবা আক্তার লাইজুকে (৩০) আটক করেছে পুলিশ।
এদিকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপর ছেলে আবু তাহের সুজন পলাতক রয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বাবাকে হত্যার ঘটনায় নিকটাত্মীয় এবং স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। এ ঘটনায় মেজো ছেলে আবু বক্কর সিদ্দিক সুরুজ রাজপাড়া থানায় হত্যামামলা দায়ের করেছেন।
রাজপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমান উল্লাহ বলেন, নিহত আবদুল শেখের তিন ছেলের মধ্যে শুধু ছেলে শরিফ বাড়িতে থাকেন। তার বড় ছেলে আবু তাহের সুজন ও মেজ ছেলে আবু বকর সিদ্দিক সুরুজ  ভাড়া বাসায় থাকেন। গতকাল সকালে গেটের তালা ভেঙে বাড়িতে প্রবেশ করে সুজন। পরে শরিফ ও সুজন মিলে আবদুল শেখকে মারপিট করে মেঝেতে ফেলে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এসময় তাকে উদ্ধারে এগিয়ে আসলেও তারা আবদুস শেখের স্ত্রী আছিয়া বেগমকেও মারপিট করেন। আছিয়া বেগম বাড়ির ছাদে পালিয়ে গিয়ে নিজেকে রক্ষা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে আবদুল শেখকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন বলে জানান ওসি।
তিনি বলেন, নিহত আবদুল শেখের নগরীতে তিনটি বাড়ি রয়েছে। ব্যাংকে রয়েছে মোটা অঙ্কের টাকা। মূলত বাড়ি ও টাকার দ্বন্দ্বের জের ধরেই ছেলেরা তাকে হত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় শরিফ ও তার স্ত্রীকে আটক করা হলেও সুজন পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশের অভিযান চলছে। এছাড়া আটককৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হ্যাকা-ের সঙ্গে জড়িত বলে স্বীকার করেছে। মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া শেষ হলে আটককৃত স্বামী ও স্ত্রীকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হবে।
নিহত আবদুল শেখের নিকটাত্মীয়রা জানান, আবদুল শেখের দুই স্ত্রী। প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর আছিয়া বেগমকে বিয়ে করেন তিনি। প্রথম স্ত্রীর পক্ষে তিন ছেলে ও দ্বিতীয় স্ত্রীর এক মেয়ে। বেশ কিছুদিন  থেকে ব্যাংকে রাখা টাকা এবং সম্পত্তি নিয়ে ছেলে শরিফ ও সুজনের সঙ্গে আবদুল শেখের বিরোধ চলছিল। নিহত আবদুল শেখের স্ত্রী আছিয়া বলেন, দুইটি ব্যাংকে তার স্বামীর নামে ৪০ লাখ টাকা রয়েছে। একটিতে ৩৫ লাখ ও অপরটিতে ৫ লাখ টাকা। সে টাকাসহ জমিজমা লিখে নেয়ার জন্য বেশ কিছদিন থেকে শরিফ ও সুজন চাপ দিয়ে আসছিল বলে জানান তিনি।
নিহতের মেজ ছেলে ও মামলার বাদী আবু বাক্কার সিদ্দিক সুরুজ জানান, ছোট ভাই শরিফ তার কাছ থেকে চার লাখ টাকা ধার নিয়েছিলেন। কিন্তু এ টাকা তিনি ফেরত দিচ্ছিলেন না। এ নিয়ে গত রোববার সন্ধ্যায় স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরের চেম্বারে সালিশ ডাকা হয়। কিন্তু সেখানে কোনো মীমাংসা হয়নি। ওই টাকা নিয়ে গতকাল সকালে বাড়িতে সুজন ও শরিফের সঙ্গে তার বাকবিত-া হয়। এ সময় বাবা তার পক্ষ নিয়ে কথা বলেন এবং সুজনকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। এরপর তিনিও বাড়ি থেকে চলে যান। এর কিছুক্ষণ পর সুজন আবার বাড়িতে আসেন। গেট না খোলায় তালা ভেঙে বাড়ির ভেতর প্রবেশ করেন সুজন। আর শফি আগেই থেকেই বাড়ির ভিতরে ছিল বলেন সুরুজ।


এদিকে গতকাল বিকেলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নিহতের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। রামেকের ফরেনসিক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. এনামুল হক জানান, আবদুল শেখকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে, এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ওসি আমান উল্লাহ জানান, মরদেহ সন্ধ্যায় নিকটাত্মীয়দের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহতের নিকটাত্মীয়রা জানিয়েছেন, নিহত আবদুল শেখের দেশের বাড়ি গাইবান্ধায়। সেখানে তার ভাই-বোনসহ নিকটাত্মীয়রা রয়েছেন। একারণে আজ সোমবার বাদ জোহর তাকে নগরীর হেতমখাঁ গোরস্থানে দাফন করা হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ