সম্ভাবনাময় অর্থকরি ফসল লাক্ষা চাষ রাজশাহী অঞ্চলে সক্ষমতা বাড়াতে হবে

আপডেট: অক্টোবর ১৫, ২০২১, ৬:৫২ পূর্বাহ্ণ

দেশে বহুমুখি ব্যবহার্য লাক্ষার চাহিদা প্রায় দশ হাজার মেট্রিক টন। বর্তমানে সর্বোচ্চ ২০০ মেট্রিকটন উৎপাদন হচ্ছে। বাকি চাহিদা পূরণ করতে বিদেশে থেকে আমদানি করা হচ্ছে।
সম্ভাবনাময় এই অর্থকারী ফসলের মোট উৎপাদনের এক চর্তুথাংশই উত্তরের জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলায় হয়ে থাকে। তবে নানা সংকটে ধুকছে লাক্ষা চাষ। অনেক চাষীর লাক্ষা চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়ার যে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যা কাম্য নয়। লাক্ষা চাষের বিভিন্ন প্রতিবন্ধকাগুলো দূর করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে উদ্যোগ নিতে হবে।
বড়ই, পলাশ, বাবলা জাতীয় পোষক গাছে লাক্ষা নামীয় পোকা থেকে প্রক্রিয়াজাত করে কাঠের আসবাবপত্র ও পিতল বার্নিশ করা, স্বর্ণালংকারের ফাঁকা অংশ পূরণ, ওষুধের ক্যাপসুলের কোটিং, চকলেট ও চুইংগামের কোটিং, ডাকঘরের চিঠি বা পার্সেল সিলমোহরের কাজ, লবণাক্ত পানি থেকে জাহাজের তলদেশ রক্ষা বা লবণাক্ততায় নষ্ট হওয়া লৌহ ঠিক করার কাজে, অস্ত্র ও রেল কারখানার কাজে, পুতুল, খেলনা ও টিস্যু পেপার তৈরিসহ বহুমূখী কাজে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
‘অর্থকারি ফসল লাক্ষা বহুল ব্যবহারেও সঙ্কটে চাষ’ শিরোনামে সোনার দেশে বৃহস্পতিবার একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। যেখানে লাক্ষা চাষের সমস্যা ও সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়েছে। যেখানে চাঁপাইনবাবগঞ্জের লাক্ষা গবেষণা কেন্দ্র সূত্র জানিয়েছে, গত সাত বছর আগে পরিচালিত একটি জরিপ অনুযায়ী চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৭০০ থেকে ৮০০ মেট্রিক টন লাক্ষার চাষ হতো। বর্তমানে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলায় বছরে চাষ হয় ১৫০ মেট্রিক টন। একসময় চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, শিবগঞ্জের বিশাল এলাকাজুড়ে লাক্ষার চাষ হলেও বর্তমানে শুধু নাচোলের কাজলাগ্রাম ও মাকতাপুরে লাক্ষার চাষ করা হচ্ছে।
সেখানকার চাষীরা বলছেন, লাক্ষা চাষে তেমন খরচ নেই। তবে এর বীজ (লাক্ষা পোকা) পেতে সমস্যা হয়। আবার বিক্রির সময় কৃষক পর্যায়ে ভালো দাম পাচ্ছেন না। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই অর্থকরি ফসল চাষে আগ্রহ বাড়বে বলে মনে করছে তারা। এক্ষেত্রে চাষীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণসহ সমস্যাগুলোর সমাধানে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরসহ কারখানা এবং ওষুধ কোম্পানিগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ