সম্ভাবনাময় পবার পদ্মাপাড়

আপডেট: অক্টোবর ২০, ২০১৯, ১:০২ পূর্বাহ্ণ

মাহাবুল ইসলাম


পদ্মার আবহমান সৌন্দর্য কাছে টানে সবাইকে। পড়ন্ত বিকেলের আনন্দের উৎস হয়ে ওঠে পদ্মার রূপলীলা। অবসর বিকেলটা গর্জনহীন পদ্মার ভরা যৌবনের অবিরাম ছুটে চলা দেখতে দেখতেই পার হয় সৌন্দর্য প্রেমিদের। পদ্মার মাঝে জেগে ওঠা চর আর গজিয়ে ওঠা কাশবন, দমকা হাওয়ায় ঢেউখেলা সবুজের মায়াবী রূপ, প্রায়শই অমীয় আলোর পরশ বুলিয়ে নিঃশব্দে বিদায় নেয়া সূর্যরথ। আর ভেলকি দিয়ে উঁকি দেয়া চাঁদ এসবই পদ্মার সৌন্দর্য।
এই সৌন্দর্যের টানে সৌন্দর্যপ্রেমিরা ছুটে আসেন পদ্মাপাড়ে। পদ্মাপাড় রাজশাহীতে সকলের পরিচিত। তবে নগরীর পদ্মাপাড় ছাড়াও জেলা শহরে রয়েছে পদ্মার বিশাল অংশ। নগরীর যথাযথ উদ্যোগ ও অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্ত হওয়ায় পদ্মাপাড়ের ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে, আধুনিক হয়েছে। কিন্তু পিছিয়ে রয়েছে জেলার বাকি অংশের পদ্মাপাড়ের উন্নয়ন। পবা উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের বিশাল এলাকাজুড়ে রয়েছে পদ্মা পাড়। যেখানে হাতছানি দেয় পর্যটন-সম্ভাবনা। শহর রক্ষা বাঁধকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে এসব স্থানে বেড়েছে ভ্রমণপিপাসু মানুষের সংখ্যা। প্রতিদিনিই পদ্মা ও প্রকৃতির টানে আসছেন মানুষ। খাবারের পসরা নিয়ে বসছেন দোকানিরা। উন্নয়ন বাঁধ নির্মাণের সময় কয়েক জায়গায় তৈরি হয়েছে কৃত্রিম টিলা। এটাকে কেন্দ্র করে উদ্বেলিত শিশু, কিশোরসহ অভিভাবকরাও। আনন্দের মাত্রাকে বাড়িয়েছে এসব টিলা। ভ্রমণ স্পট হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠছে পবার পদ্মাপাড়ের কিছুস্থান। এখানকার জেগে ওঠা চর, ব্যতিক্রমি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, নৌকায় মাঝিদের কর্মযজ্ঞ, গ্রামীণ মানুষের জীবনাচরণ এসব আকৃষ্ট করছে মানুষকে। এছাড়াও রয়েছে সম্ভাবনাময় চর মাঝারদিয়ার। অনেকেই সেখানে ভ্রমণে যাচ্ছেন, পিকনিকের আয়োজন করছেন। বিদেশি পর্যটকও মাঝে মাঝে ভ্রমণ করেন।
এখানে ঘুরতে আসা ইব্রাহিম বলেন, আমরা প্রায়ই এখানে ঘুরতে আসি। আগে বন্ধুরা একসাথে এখানে গোসল করতে আসতাম। মজা করতাম। খুব ভালো লাগতো। তবে এখন আর সে রকম গোসল করতে আসা হয় না। তবে সময় পেলেই বিকেলে ঘুরতে আসি। আর এ জায়গাটা ক্রমশ পরিবর্তন হচ্ছে। উন্নয়ন বাঁধটা করাতে সৌন্দর্য যেমন বেড়েছে জনসমাগমও বেড়েছে। এখানে শহর থেকেও অনেকেই ঘুরতে আসে। আগে তো ভ্রমণের জন্য তেমন কোনো নৌকা ছিল না। মাছ ধরা নৌকা ছিল, টলার ছিল আর চরে পারাপারের জন্যে কয়েকটা নৌকা ছিল- আমরা সেটাতেই ঘুরতাম। কিন্তু এখন বাঁধের ধারেই ঘোরার জন্যে নৌকা দাঁড়িয়ে থাকে। এসব জায়গাকে একটু উদ্যোগ নিয়ে অবকাঠামোগত উন্নয়ন করতে পারলে পর্যটন এলাকাই পরিণত হতে পারে।
রাকিব হাসান বলেন, মন খারাপ থাকলে এখানে আসার পর মন ভালো হয়ে যায়। আগে তো এখানে শুশুক দেখা যেত। এখন দেখতে পাই না। আসলে সিটির পদ্মার পাড়গুলোর আগে অবস্থা খারাপ ছিল। উদ্যোগ নিয়ে জায়গাগুলা সুন্দর করা হয়েছে। এখানকার পদ্মাপাড় পানি কমলে যে চরগুলো জেগে উঠে সেগুলো অন্য রকম সৌন্দর্য থাকে। মিনি কক্সবাজার বললেও ভুল হবে না। এখানে যদি একটু নজর দেয়া হয় জায়গাটা অনেক সুন্দর হবে।
জনৈক ফাস্টফুড বিক্রেতা জানান, এখানে বিকালে অন্য রকম পরিবেশ সৃষ্টি হয়। বেচাবিক্রিও ভালো হচ্ছে। ছুটির দিনে ভিড়টা বেশি হয়। আগে তেমন মানুষ আসতো না কিন্তু বাঁধটা করাতে আগের চেয়ে মানুষ বেশি আসছে। ঈদের সময়তো বিনোদন কেন্দ্রের মতো ভিড় হয় এখানে। আমরা আশা করছি ভবিষ্যতে পুরো পরিবেশের পরিবর্তন হবে।
পবার হরিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বজলে রেজবি আল হাসান জানান, এখানে পর্যটনের ভালো সম্ভাবনা আছে। বিশেষ করে চরমাঝারদিয়ারে প্রচুর সম্ভাবনা আছে। তবে পর্যটন কেন্দ্র বা পর্যটক আকৃষ্ট করার মতো প্রকল্প করতে যে অর্থ দরকার সেই অ্যাবিলিটি আমাদের নাই। আমরা কাঁঠালবাড়িয়া থেকে গহমাবোনা পর্যন্ত ৯ কিলোমিটার বাঁধ সংস্কারের জন্য আবেদন করেছিলাম। এর মধ্যে ৪ কিলোমিটারের কাজ হয়েছে। এখনো ৫ কিলোমিটারের কাজ বাকি আছে। তবে আমাদের এখানে যারা ঘুরতে আসবে তাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা আমরা অবশ্যই করবো।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ