সম্মতি নেই বিয়ের প্রস্তাবে, পাক বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ তরুণীকে গুলি করে খুন

আপডেট: মে ৭, ২০২১, ৮:২৬ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক:


রাজি নয় বিয়ের প্রস্তাবে। পাকিস্তানী বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নারীকে শ্বাসরোধ করে গুলি করে হত্যা করল দুই পাক যুবক। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে পাকিস্তানের (চধশরংঃধহ) লাহোরের ডিফেন্স হাউজিং কমপ্লেক্সে। সেখানেই গত তিনমাস ধরে ভাড়া ছিলেন মৃত ওই ব্রিটিশ নারী।
এই বিষয়ে লাহোরের পুলিশ সুপারিন্টেন্ডেন্ট সিদ্রা খান জানিয়েছেন, মৃত ওই নারীর নাম মায়রা জুলফিকার(২৫)। গত তিনমাস আগে বেলজিয়াম থেকে দেশে ফিরে আসেন মায়রা জুলফিকার । এরপর লাহোরের ডিফেন্স হাউজিং কমপ্লেক্সে তাঁর বন্ধু ইকরার সঙ্গে রুম শেয়ার করে ভাড়ায় থাকতেন তিনি।
এদিকে এই ঘটনায় প্রাথমিক তদন্তে লাহোর পুলিশের অনুমান, বিয়ের প্রস্তাবে প্রত্যাখ্যান হয়ে আক্রোশের বশে এই খুন হয়ে থাকতে পারে। মায়রা জুলফিকারের এই খুনের ঘটনায় পুলিশের সন্দেহভাজনের তালিকায় রয়েছে তাঁর দুই বন্ধু।
শুধু তাই নয়, এই ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে পুলিশ জুলফিকারের বন্ধু সায়েদ আমের বাটকে সন্দেহভাজনের তালিকার শীর্ষে রেখেছেন।
জানা গিয়েছে, মায়রাকে বিয়ে করলে বিদেশের নাগরিকত্ব পাওয়া যাবে সেই লোভে তাঁকে বিয়ে করতে চেয়েছিল বাট ও তার আরও এক বন্ধু। কিন্তু দুজনের প্রস্তাবেই সম্মতি জানায়নি মায়রা। যার মর্মান্তিক পরিণতি এই খুনের ঘটনা।
এই বিষয়ে মায়রার কাকা মহম্মদ নাজির পুলিশের কাছে একটি খুনের মামলা রুজু করে জানিয়েছেন, ঘটনার একদিন আগেও তিনি মায়রার ভাড়া বাড়িতে এসে ঘুরে যান৷
জানা গিয়েছে, বিদেশে যাওয়ার লোভে মায়রাকে ক্রমাগত বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল অভিযুক্ত দুই যুবক সায়েদ আমের বাট এবং জাহিদ জডন। এমনকি তাদের প্রস্তাবে রাজি না হলে তাঁকে খুনের হুমকিও দিয়েছিল ওই দুই যুবক। শেষপর্যন্ত বিয়েতে সম্মতি না দেওয়ায় মায়রাকে গুলি করে খুন করা হয় বলে অভিযোগ।
এদিকে মায়রার কাকার অভিযোগের ভিত্তিতে একটি খুনের মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে লাহোর পুলিশ। এছাড়াও দেহটি ময়না তদন্তে পাঠিয়ে ব্রিটেনে তাঁর মা-বাবার কাছে মেয়ের মৃত্যুর খবর পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে বিবিসির রিপোর্টে প্রকাশিত খবরে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি যুক্তরাজ্য থেকে পাকিস্তানে চলে এসেছিলেন মায়রা। তিনি মিডলসেক্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে স্নাতক ছিলেন।
তথ্যসূত্র: kolkata24x7