সম্মেলনকে ঘিরে সেজেছে নগর লিটনকে ‘গুরুত্বপূর্ণ পদে’ দেখার প্রত্যাশা নাগরিক ব্যক্তিত্বদের

আপডেট: অক্টোবর ১৬, ২০১৬, ১১:৫৪ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলন উপলক্ষে সাজতে শুরু করেছে নগর। ইতোমধ্যেই দলীয় কার্যালয়গুলো আলোকসজ্জায় সজ্জিত হয়েছে। নগরের মোড়ে মোড়ে বড় বড় ব্যানারে শোভা পাচ্ছে সম্মেলনের তারিখ।  মোড়ে মোড়ে তৈরি হচ্ছে তোরণ, রাস্তাগুলো সাজছে বর্ণিল সাজে। এখন নগরীর আলোচনার মূল বিষয় ২২ ও ২৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে ঘিরে। কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য কে কে হবেন, কে কোন গুরুত্বপূর্ণ পদ পাবেন, কেন্দ্রীয় কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে কে কে স্থান পাবেন।
নাগরিক ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে কথা বলে একটা বিষয় পরিষ্কার হওয়া গেছে, তারা চান রাজশাহী অঞ্চলের রাজনীতিকে চাঙ্গা করতে এই অঞ্চল থেকে কেন্দ্রীয় কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে নেতা নির্বাচন। এক্ষেত্রে তারা জাতীয় চারনেতার অন্যতম শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামানের সন্তান এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনকে গুরুত্বপূর্ণ পদে মনোনয়ন প্রত্যাশা করেন।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সাবেক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. আবদুল খালেক বলেন, রাজশাহী অঞ্চলে জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান ও আব্দুল জলিল মারা যাবার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা পূরণ হয় নি। আসন্ন কেন্দ্রীয় সম্মেলনে গুরুত্বপূর্ণ পদে রাজশাহী থেকে নেতা নির্বাচন করার মাধ্যমে সেই শূণ্যতা দূর হবে বলে মনে করি। আবদুল খালেক বলেন, এক্ষেত্রে শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামানের পুত্র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা রাখে। গত পাঁচ বছর রাজশাহী সিটির মেয়র থাকাকালে তিনি রাজশাহীর প্রভূত উন্নয়ন করেছেন। একজন সফল মেয়র হিসেবে তিনি সমধিক পরিচিত। ফলে দলের গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্ব নেয়ার সক্ষমতা রাখেন। এছাড়া জাতীয় চার নেতার পুত্র হিসেবেও তিনি কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্বাচিত হবার যোগ্যতা রাখেন।
আব্দুল খালেক বলেন, দলের প্রয়োজনে বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চারনেতার পরিবার অনেক গুরুত্বপূর্ণ। সে হিসেবে লিটনকে গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্বাচিত করা উচিত। লিটনকে নির্বাচিত করার মধ্য দিয়েই রাজশাহী অঞ্চলে যে রাজনৈতিক শুন্যতা তৈরি হয়েছে তা দূর হবে।
ভাষাসৈনিক আবুল হোসেন বলেন, কেন্দ্রীয় সম্মেলন উপলক্ষে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগ থেকে গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্বাচিত হওয়া উচিত। এখন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে এই অঞ্চল থেকে নেতৃত্ব তৈরি হয় নি। যারা নেতৃত্ব দেয়ার মতোন আছেন, তারা ঠিক সেইভাবে কাজ করতে পারছেন না। কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন না। ভুলভ্রান্তি থাকতেই পারে, তা শুধরে কেন্দ্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে রাজশাহী থেকে নেতা নির্বাচিত করা উচিত।
আবুল হোসেন বলেন, রাজশাহী অঞ্চলের রাজনীতিতে শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান অনেক গুরুত্বপূর্ণ। শুধু রাজশাহী অঞ্চলে না, সমগ্র বাংলাদেশেই তিনি গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় চারনেতার অন্যতম। তার পুত্র হিসেবে খায়রুজ্জামান লিটন সেই জায়গায় যেতে না পারলেও রাজশাহী অঞ্চলের রাজননৈতিক অঙ্গন গতিশীল করতে তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
নগর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা ডা. আবদুল মান্নান বলেন, সম্মেলন উপলক্ষে অন্যান্য জেলা ও নগরের মতো রাজশাহীতেও সাজসাজ রব পড়ে গেছে। রাজশাহীতে রাজনৈতিক শূণ্যতা অনুভব করছি। এবছর কাউন্সিল অধিবেশনে কেন্দ্রীয় কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে খায়রুজ্জামান লিটনকে গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্বাচিত করে সেই শূণ্যতা দূর করা হবে বলে মনে করি। কারণ লিটনের বিকল্প কেউ নেই, তিনি গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্বাচিত হবার যোগ্য।
আবদুল মান্নান বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে উপজেলা ও পৌরসভার নির্বাচনে লিটনের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শুধু জেলায় না জেলার বাইরেও তিনি প্রার্থীদের হয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন। এজন্যই তিনি এ অঞ্চলের গণমানুষের নেতা।
চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মনিরুজ্জামান মনি বলেন, আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন দেশের রাজনীতির জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই সম্মেলন উপলক্ষে ইতোমধ্যে নগরীতে আনন্দঘন পরিবেশ বিরাজ করছে। এই উৎসব তখনই ফলপ্রসূ হবে যখন রাজশাহী থেকে কেন্দ্রীয় কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে খায়রুজ্জামান লিটনকে নির্বাচিত করা হবে। তার সিটি করপোরেশনের মেয়রের দায়িত্ব পালন করা দেখে মনে হয়েছে, তিনি শুধু সাংগঠনিকভাবেই দক্ষ না, একজন দক্ষ প্রশাসকও। তাকে নির্বাচিত করার মধ্য দিয়ে রাজশাহীর রাজনীতি আরো চাঙ্গা হবে বলে মনে করি।