সরকারই জঙ্গি ইস্যু তৈরি করছে : বিএনপি || বালখিল্যের রাজনীতি আর কত কাল ?

আপডেট: এপ্রিল ৪, ২০১৭, ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন ভারত সফরকে কেন্দ্র করে বিরোধী শিবিরে ব্যাপক হই-চই শুরু হয়েছে।  কিন্তু এসব হই-চইয়ের যৌক্তিক বিষয়ের চেয়ে অনুমানের ওপর নির্ভর করেই বেশ সমালোচনা চলছে। অথচ সরকারকে চাপে রাখতে যে ধরনের রাজনৈতিক বুদ্ধিবৃত্তিক অবস্থান প্রয়োজন ছিল তা বিএনপির কাছ থেকে আসছে না। বরং তাদের মুখপাত্র উদ্দেশ্যহীন ও বালখিল্য বিবৃতি- বক্তব্য দিচ্ছেন তা হাস্যস্কর ও স্ববিরোধিতায় ভরা। এ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে, আলোচনা সমালোচনা হচ্ছে।
সম্প্রতি বিএনপির মুখপাত্র বলেছেন ভারতের সাথে ‘প্রতিরক্ষা চুক্তি’ করতেই দেশে জঙ্গি ইস্যু তৈরি করা হচ্ছে। প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে গিয়ে এই বক্তব্য স্ববিরোধিতায় পর্যবসিত হয়েছে। জঙ্গি ইস্যু যদি সরকারের তৈরিই হয় তা হলে জঙ্গি ইস্যুতে বিএনপির জাতীয় ঐক্যের ডাক কতটুকু যৌক্তিক। দেশে যখন জঙ্গিই নাই- সরকারই জঙ্গি ইস্যু তৈরি করছে তা হলে জাতীয় ঐক্য কেন? বিএনপি কোনটা সত্য বলছে? শুধু তাই নয়Ñ জাতীয় ঐক্যের আহবানও জানান হচ্ছে, আবার সিলেটের আতিয়া মহলের অভিযানের জন্য বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া সেনাবাহিনীকে প্রশংসাও জানাচ্ছেন। সেনাবাহিনী তো সরকারের সিদ্ধান্ত মোতাবেক অভিযান পরিচালনা করে সফল হয়েছে। তা হলে সেই সেনাবাহিনীকেও সরকার জঙ্গি ইস্যু তৈরির কাজে ব্যবহার করছে? বিএনপি কী নিজের মধ্যে আছে নাকি নিজের মধ্যেই হারিয়ে নিজেকেই তালগোল পাকিয়ে খুঁজে ফিরছে? তারা কী বলছে, কী জন্যে, কার উদ্দেশ্য বলছে, তার কিছুই পরিকল্পিত বলে মনে হচ্ছে না। বালখিল্য আচরণ তো রাজনীতির জন্য অতি ভয়ঙ্কর। দেশের মানুষের আশা-আকাক্সক্ষা নিয়ে তো বালখিল্যতা চলে না। কেননা জনগণই এর ভুক্তভোগি হয়।  এ থেকে সাময়িক ফল পাওয়া যেতে পারে হয়ত কিন্তু এর পরিণতি খুবই ভয়ঙ্কর ও আত্মঘাতী।
বিএনপি দেশের অন্যতম একটি বড় রাজনৈতিক দল। তাদের কাছ থেকে দায়িত্বশীল আচরণই সবার জন্য কাম্য। কিন্তু দলটির নেতাদের চটুল ও অপরিণামদর্শী বক্তব্য- বিবিৃতি মানুষকে হতাশ করছে।  রাজনীতিকদের অবশ্যই ভবিষ্যতমুখিন হতে হয়।  নতুবা সিদ্ধান্ত কিংবা পরিকল্পনা বা কৌশল নির্ধারণের ক্ষেত্রে মারাত্মক ভুল-ত্রুটির অবকাশ থেকে যায়। এতে করে রাজনৈতিক শঠতা, হঠকারিতা ও চমক সৃষ্টির প্রবণতাই রাজনীতির মূল উপজীব্য হয়ে উঠে যা দলের চেইন অব কমান্ডকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। রাজনৈতিক দলের বিশ্বাসযোগ্য ও গ্রহণযোগ্যতা হ্রাস পেতে থাকে।
বিএনপির কাছ থেকে জনগণ দায়িত্বশীল আচরণই প্রত্যাশা করেÑ এ প্রত্যাশা গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখার জন্য। প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরকে কেন্দ্র করে বিএনপি বুদ্ধিবৃত্তিক অবস্থান থেকে নিজেদের বক্তব্য স্পষ্ট করতে পারতো। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এবং প্রধানমন্ত্রীর সফর থেকে তাদের প্রত্যাশার বিষয়টিও জনগণের কাছে তুলে ধরতে পারতো। এতে করে ক্ষমতাসীনদের ওপর বাড়তি চাপও সৃষ্টি করা যেতোÑ যা দেশের মানুষের কাছেও বিচার বিশ্লেষণ করে দেখবার সুযোগ সৃষ্টি হতো। কিন্তু তারা সে দিকে না গিয়ে এক ধরনের স্টান্টবাজির আশ্রয় নিয়েছে যা মানুষের কাছে খুবই হালকা বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারটি বিএনপির কাছে যদি তাদের সমর্থন বৃদ্ধির মত আত্মঘাতী অনুভব সৃষ্টি হয়Ñ তাতে প্রবঞ্চিত হওয়ার আশংকা থাকে। কেননা কুসিকের জয় বিএনপির ভবিষ্যত রাজনীতির জন্য জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে কি না সে দিকে মনোনিবেশ করাই উচিৎ হবে। কেননা ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পরাজিত হয়েও সামগ্রিক রাজনীতিতে কয়েক ধাপ এগিয়ে গেছে। বিএনপির অনেক দাবি- যা কয়েক বছর ধরে করে আসছে সে গুলোকে আর ইস্যু বানানো সম্ভব নাও হতে পারে।
রাজনৈতিক দলে নাম লিখলেই তো রাজনীতিক হওয়া যায় না। দলের মধ্যে রাজনীতিটা থাকতে হয়। রাজনীতি থাকলেই কেবল রাজনীতিক ও রাজনীতিবিদ তৈরি সম্ভব হয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ