সরকারিভাবে দুর্নীতিবিরোধী দিবস পালন || রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রতিফলন হোক

আপডেট: জুলাই ১২, ২০১৭, ১:২৪ পূর্বাহ্ণ

৯ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবস এখন থেকে প্রতিবছর সরকারিভাবে পালিত হবে। সরকার এমনই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সোমবার  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার সাপ্তাহিক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দেশের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়েছে।
২০০৪ সাল থেকে প্রতি বছর বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় সব দেশেই দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। এরই অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানকে আরো সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে এবং বিশেষ করে সাধারণ জনগণের মধ্যে দুর্নীতিবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশে ২০১৩ সাল থেকে ৯ ডিসেম্বর ‘আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস’ কে সরকারিভাবে স্বীকৃতির ঘোষণার দাবি ওঠে। টিআইবি এই দাবিতে সোচ্চার ছিল। বিলম্বে হলেও বাংলাদেশ সরকারিভাবে দিবসটি পালনের ঘোষণা দিল। নিঃসন্দেহে সরকারের এই উদ্যোগ দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাদের নীতিগত অবস্থানকেই স্পষ্ট করলো।
জাতিসংঘের উদ্যোগে ২০০৩ সালের ৯ ডিসেম্বর মেক্সিকোর মেরিডাতে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে অংশ নেয়া ১২৯টি দেশের মধ্যে ৮৭টি দেশ দুর্নীতিবিরোধী সনদটিতে স্বাক্ষর প্রদান করে। স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশও অন্যতম।
সরকারের সিদ্ধান্ত মতে দুর্নীতি বিরোধী দিবস ‘খ’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবে। দিবসটি যথাযথভাবে পালনে এ সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় গেজেট নোটিফিকেশন ইস্যুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। দিবসকে জাতীয় পর্যায়ে উদযাপনের সিদ্ধান্ত নেয়ায় সরকারকে আন্তরিক অভিনন্দন ও স্বাগত জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। টিআইবির মতে জাতিসংঘের দুর্নীতিবিরোধী সনদভুক্ত অন্যতম সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে সরকারিভাবে এ দিবস পালনের সিদ্ধান্ত দুর্নীতি প্রতিরোধে বাংলাদেশ সরকারের প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি রক্ষায় রাজনৈতিক সদিচ্ছারও সর্বোচ্চ বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।
একটি শোষণমুক্ত মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠার চেতনায় একটি জনযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। আর মানবিক রাষ্ট্র গঠনের প্রধান প্রতিবন্ধকতাই হলো দুর্নীতি। দেশে সুশাসন নিশ্চিত করতে হলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অবস্থান নেয়ার আর অন্য কোনো বিকল্প নেই। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেও দুর্নীতির বিরুদ্ধে গণজাগরণ সৃষ্টি করাও সময়ের দাবি।
অন্যথায় সুুশাসন কায়েম করা কিংবা এসডিজির ১৬ নং অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জন করা দূর পরাহতই হয়ে থাকবে।
সরকারিভাবে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস পালনের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক সদিচ্ছারই প্রতিফলন। নিশ্চয় দেশের মানুষ গতানুগতিক ধারায় দিবসটি পালনের মধ্যে দায়িত্বের অবস্থান দেখতে চায় না।
দেশের মানুষ চায় প্রকৃত অর্থেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের দৃঢ় অবস্থান। আমরা আশা করি সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ জিরো টলারেন্স দেখাবে এবং একইভাবে নানা উদ্যোগ ও কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দেশের মানুষকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ও উদ্বুদ্ধ করবে। সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ