সরকারি উদ্যোগে খাদ্য বিতরণ শুরু বিত্তশালীরাও শ্রমজীবী মানুষের সহায় হোন

আপডেট: এপ্রিল ১, ২০২০, ১২:২৪ পূর্বাহ্ণ

করোনাভাইরাস সংক্রমণরোধে সরকার ঘোষিত ছুটির মধ্যে শ্রমজীবী মানুষ বিপাকে পড়েছেন। দিনের আয়ে জীবিকানির্বাহের এই মানুষগুলোকে খাদ্য নিরাপত্তার মধ্যে আনা জরুরি হয়ে পড়েছে। নতুবা এক বিপদ সামলাতে গিয়ে নানাবিধ বিপদের মুখোমুখি হতে হবে বাংলাদেশকে। সে ক্ষেত্রে সরকার দ্রুতই সিদ্ধান্ত নিয়ে ওই সব মানুষদের ঘরে ঘরে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেয়ার কর্মসূচি শুরু করেছে। সময়ের কাজ সময়েই শুরু করা গেছেÑ নিঃসন্দেহে সরকার এ ক্ষেত্রে সাধুবাদ পেতে পারে।
কিন্তু জাতির অভিজ্ঞতায় গর্ব করার মতো অনেক বিষয় আছে যেমন- তেমনি ন্যক্করজনক ঘটনার উদাহারণও কম নেই। দুস্থদের জন্য বরাদ্দ খাদ্যপণ্য ও অর্থ বিতরণে নয়-ছয় করার তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা দেশবাসীর জানা আছে। আবার মহান মুক্তিযুদ্ধকালে এ দৃষ্টান্তও আছে যে, দেশের মানুষ যার যা ছিল তাই নিয়েই একে অপরের সাহায্যে হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল। সে ছিল এক অন্যরকম ঐক্য। পরস্পরের প্রতি সহমর্মিতা, সহানুভূতির বিরল দৃষ্টান্ত। করোনা ভাইরাস নিয়ে বর্তমান পরিস্থিতি মোটেও হেলাফেলার কোনো বিষয় নয়। এমন একটা অসুখ যা পৃথিবীর সব মানুষকে এ কাতারে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। গরিব দেশ কিংবা ধনি দেশ, রাজা-রানি, রাষ্ট্রপতি- প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী-এমপি, ধনি-গরিব কেহই করোনাভাইরাসের ঝুঁকির বাইরে নয়। করোনাভাইরাস পুরো মানব জাতিকে তার প্রতিপক্ষ বানিয়ে ফেলেছে। বিশ্বের মানুষ এখনো অনেকটা দিশাহীনভাবে যুদ্ধ করে যাচ্ছে। প্রতিরোধের জন্য নিরন্তর লড়াই করে যাচ্ছে। উন্নত দেশগুলোও অসহায়- কেননা এই ভাইরাস নির্মূলে এখনো কোনো প্রতিষেধক আবিষ্কার করা সম্ভব হয় নি। তবুও মানুষের প্রান্তক প্রচেষ্টা অব্যাহত আছেÑ করোনাভাইরাসনামক দানবকে পরাস্ত করার। নিশ্চয় মানুষই জিতবে- সেটা সময়ের ব্যাপার। প্রশ্ন করোনাভাইরাস দেশে কতটা বিপর্যয় সৃষ্টি করবে।
এখন সময় জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করা। প্রথমত সচেতনতা এবং দ্বিতীয়ত এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে নিয়ম মেনে লড়াইটা চালিয়ে যাওয়া। সমাজে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি না হয়Ñ এ দায়িত্ব প্রতিটি নাগরিকের। যে কোনো বিশৃঙ্খলা করোনাভাইরাসের জন্য সহায়ক হবে। যা জাতীয় জীবনকে বিপর্যস্থ করে তুলতে পারে। মুক্তিযুদ্ধ সময়ের মতোই ঐক্য প্রয়োজন। একে অপরের প্রতি সহানুভুতিশীল হওয়ার সময় এখন। এটা কারো প্রতি দয়া বা করুণা নয়। নিজের সুষ্ঠুভাবে বেঁচে থাকার প্রয়োজনেই যার যার সামর্থমত অন্যের সাহায্যে এগিয়ে আসতে হবে।
সংবাদ মাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী সরকার শ্রমজীবী মানুষের তালিকা করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তাদের খাদ্য সহায়তা দিতে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) নির্দেশনা দিয়েছে। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী খাদ্য বিতরণের কাজও শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত বিতরণ নিয়ে কোনো ধরনের অভিযোগ উঠেনি। এটাই এ সময়ে সবচেয়ে প্রত্যাশিত। কোনো ধরনের দুর্নীতি, অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি পরিস্থিতিকে বিগড়ে দিতে পারেÑ এটা দায়িত্বশীল সবাইকেই বুঝতে হবে। সীমিত আকারে হলেও ব্যক্তি উদ্যোগেও শ্রমজীবী মানুষের খাদ্য সহায়তা নিয়ে অনেকেই এগিয়ে এসেছেন। সমাজের যারা বিত্তশালী এবং যাদের যতটুকু পরিমাণ সহায়তার সুযোগ আছে তাদেকেও এগিয়ে আসতে হবে। অন্তত এই নিশ্চয়তা সরকার এবং দেশের স্বচ্চল নাগরিকদের দিতে হবে যে, ঘরবন্দি শ্রমজীবী মানুষের জন্য খাদ্য নিরাপত্তার কোনো ঘাটতি হবে না। এই নিশ্চয়তা করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ জয়েরও বার্তা হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ