সরকারি ঘোষণার পরেও নাটোরে শুরু হয় নি খোলাবাজারে চাল বিক্রি

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৭, ১:১০ পূর্বাহ্ণ

নাটোর অফিস


চালের বাজার স্থিতিশীল রাখতে ওপেন মার্কেট সেল (ওএমএস) বিক্রি শুরু হয় নি উত্তরের জেলা নাটোরে। গতকাল রোববার থেকে সারা দেশের মতো নাটোরে খোলা বাজারে এ চাল বিক্রি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও কোন চাল বিক্রি করা হয় নি। এদিকে, মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে ওএমএস চালের। এরআগে ১৫ টাকা দরে ওএমএস’র চাল বিক্রি হলেও এবারই দাম বাড়িয়ে দ্বিগুণ করা হয়েছে। তবে আটা বিক্রির কোন সিদ্ধান্ত হয় নি বলে জানান খাদ্য বিভাগ।
সূত্র জানায়, হঠাৎ চালের মূল্য বৃদ্ধির কারণে বাজার স্থিতিশীল রাখতে খোলা বাজারে চাল বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এই অবস্থায় গতকাল রোববার থেকে সারা দেশের মতো নাটোরেও ছয় জন ডিলারের মাধ্যমে ওএমএস এর চাল বিক্রি শুরু হওয়া কথা। কিন্তু জেলা খাদ্য বিভাগের জটিলতার কারণে চাল বিক্রি শুরু করতে পারে নি ডিলাররা। গতকাল ছয় জন ডিলারের চাল বিক্রির স্থান সরেজিমনে ঘুরে কোথাও চাল বিক্রি করতে দেখা যায় নি।
জেলা খাদ্য বিভাগ সূত্র জানায়, একজন ডিলার প্রতিদিন গড়ে একটন চাল উত্তোলন করতে পারবে। সেক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত ৩০ টাকা দরে মোট ২৮ হাজার ৫শ টাকা ব্যাংকের মাধ্যমে জমা দিতে হবে ডিলারকে। একজন ক্রেতা প্রতিদিন পাঁচ কেজি করে চাল কিনতে পারবেন।
নাটোর শহরের ওএমএস’র ডিলার ছামছু উদ্দিন বলেন, সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী খোলা বাজারে ওএমএস চাল বিক্রি শুরু করার জন্য গত বৃহস্পতিবার জেলা খাদ্য বিভাগ তাকে ফোনে জানিয়েছে। কিন্তু শুক্রবার এবং শনিবার দুই দিন সরকারি ছুটি থাকার কারণে ব্যাংক ড্রাফট করা সম্ভব হয় নি। যার কারণে কোনো ডিলার ওএমএস’র চাল গোডাউন থেকে তুলতে পারে নি এবং বিক্রিও শুরু করতে পারে নি। তিনি আরো বলেন, একজন ডিলারকে প্রাথমিকভাবে তিন দিনের চাল বরাদ্দ দিয়েছে খাদ্য বিভাগ। তিন দিনের বরাদ্দকৃত চাল শেষ হলে আবার উত্তোলন করা হবে। তবে বাজারে যেহেতু মোটা চালের দাম বেশি রয়েছে, সে কারণে কম দামে ওএমএস’র চালের চাহিদা সাধারণ মানুষের মাঝে ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে বলে আশা করছি।
স্টেশন বাজার এলাকার ওএমএস ডিলার আকরামুল হক আক্কু বলেন, এবারই চালের দাম বৃদ্ধি করে দ্বিগুণ করা হয়েছে। আগে ১৫ টাকা দরে বিক্রি করলেও এবার সরকারিভাবে প্রতি কেজি চাল ৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ডিলাররা গোডাউন থেকে সাড়ে ২৮ টাকা দরে কিনে খুচরা বাজারে ৩০ টাকা দরে বিক্রি করবে। আজ সোমবার থেকে চাল বিক্রি শুরু করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মনিরুল ইসলাম বলেন, গত বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয় থেকে ওএমএস’র চাল বিক্রির আদেশ পেয়েছি। যেহেতু দুই দিন সরকারি ছুটি থাকার কারণে ব্যাংক বন্ধ ছিল, সে কারণে প্রথম দিন খোলা বাজারে চাল বিক্রি করা সম্ভব হয় নি। সোমবার থেকে ছয়টি ডিলারের মাধ্যমে শহরের ছয়টি স্থানে চাল বিক্রি শুরু হবে।