সরকারি জায়গা থেকে উচ্ছেদের দাবিতে ইউএনও অফিস ঘেরাও!

আপডেট: এপ্রিল ১০, ২০১৭, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ

সিংড়া প্রতিনিধি


নাটোরের সিংড়া উপজেলার বড়চৌগ্রাম পুকুরপাড় এলাকার একই পরিবারের চার দাঙ্গাবাজের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ও তাদেরকে সরকারি খাস জায়গা থেকে উচ্ছেদের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ঘেরাও করেছে এলাকাবাসী। গতকাল রোববার দুপুরে বড় চৌগ্রাম এলাকার প্রায় ৪শ নারী-পুরুষ ঘণ্টাব্যাপী ইউএনও অফিস ঘেরাও করে রাখে।
এসময় তারা তাদের দাবি সম্বলিত একটি কপি সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে হস্তান্তর করে। সম্প্রতি পুকুরপাড় এলাকায় নির্মিয়মান একটি মসজিদের মাটি ভরাটকে কেন্দ্র করে ওই চারজন মসজিদ কমিটির বর্তমান সহসভাপতির ছোট ভাই ও ভাস্তেকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় আহতদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক হেলাল হোসেন ও সহসভাপতি আবদুল হামিদ শেখ জানান, ২০১০ সালে ১৪ শতক সরকারি খাস জায়গা পত্তন নিয়ে মসজিদ নির্মাণ করা হয়। এলাকাবাসী ওই মসজিদের নিয়মিত মুসল্লি। প্রায় একই সময়ে পার্শ্ববর্তী গ্রামের মকবুল হোসেন তার সন্তান রনি, গোলাম ও স্ত্রী রমিছা বেগমসহ মসজিদের জায়গার পার্শ্ববর্তী প্রায় ২৫ শতক খাস জায়গার দখল নিয়ে বাড়ি-ঘর নির্মাণ করে বসবাস করতে থাকে। মুসল্লিদের মতামত ও সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে মসজিদটির পাকাঘর নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করে মসজিদ কমিটি। সিদ্ধান্তের বাস্তবায়নের অংশ ইউনিয়ন ভূমি সার্ভেয়ারের মাধ্যমে মসজিদের জায়গার সীমানা নির্ধারণ করা হলেও মকবুল ও তার পরিবারের সদস্যরা তা প্রকাশ্যে তুলে ফেলে দেয়। এছাড়া গত শুক্রবার (৭ এপ্রিল) মসজিদের জায়গায় মাটি ফেলতে গেলে গাড়ির ড্রাইভারকে মারতে উদ্যত হয় মকবুলরা। এসময় বাধা দিতে গেলে মকবুল ও তার পরিবারের অপর তিন সদস্য আবদুল হামিদের ছোট ভাই হালিম ও ভাতিজা শামিমকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপাতে থাকে। এসময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে হালিমের মেরুদণ্ডের পাশে জখম হয়ে যায়। তাদের দুইজনকেই বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এঘ টনায় শনিবার আবদুল হামিদ শেখ বাদী হয়ে উল্লেখিত চারজনের বিরুদ্ধে সিংড়া থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ রমিছা বেগম ছাড়া তিনজনকে গ্রেফতার করে। সকল আসামিদের গ্রেফতার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও মুসল্লিদের ইবাদত এবং সাধারণ গ্রামবাসীদের শান্তিপূর্ণ বসবাসের স্বার্থে সরকারি খাস জায়গা থেকে তাদেরকে উচ্ছেদের দাবিতে রোববার দুপুরে ইউএনও অফিস ঘেরাও করে গ্রামবাসী।
জানতে চাইলে সিংড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন এবং মামলার আইও এসআই শাহআলম জানান, রোববার বিকেলে তিন আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে ইউএনও (ভারপ্রাপ্ত) মুশফিকুর রহমান গ্রামবাসীদের বিক্ষোভ ও দাবি সম্বলিত কাগজ প্রাপ্তির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে পুলিশকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।