সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষিত কিস্তি আদায়ে চাপ ও হুমকি অমানবিক

আপডেট: জুলাই ১৪, ২০২০, ১২:০৪ পূর্বাহ্ণ

সরকারি নির্দেশনা থাকার পরও ক্ষুদ্র ঋণদাতা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো কিস্তি আদায় অব্যাহত রেখেছে। করোনাভাইরাসের প্রভাবে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নেতিবাচক পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ক্ষুদ্র ঋণের কিস্তি আদায় স্থগিত থাকবে। ওই সময় পর্যন্ত কোনো ঋণ বা ঋণের কিস্তিকে বকেয়া বা খেলাপি করা যাবে না। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ঋণের গ্রাহকদেরকে ঋণের কিস্তি পরিশোধে বাধ্য করা বা চাপ দেয়া যাবে না। এনিয়ে ২৩ জুন মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অর্থরিটি (এমআরএ) থেকে একটি সার্কুলার জারি করে ক্ষুদ্র ঋণ দানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান নির্বাহীর কাছে পাঠানো হয়েছে। এতে বলা হয়, ‘কোনো গ্রাহক নিজ ইচ্ছায় ঋণের কিস্তি পরিশোধ করলে তা নিতে কোনো বাধা থাকবে না।’
দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় এ সংক্রান্ত রাজশাহী ও নওগাঁ জেলার ক্ষুদ্র ঋণ আদায় বিষয়ক পৃথক দুটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। ওই দুটি প্রতিবেদনে ঋণগ্রহীতা দরিদ্র, হতদরিদ্র মানষগুলোকে চাপ সৃষ্টি ও হুমকি দিয়ে ঋণ আদায় হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। যদিও ঋণদানকারি সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে তারা কোনো চাপ দিচ্ছে না। বরং যারা স্বেচ্ছা- প্রণোদিত হয়ে কিস্তি পরিশোধ করছে- কেবল তাদের অর্থই জমা নেয়া হচ্ছে। কিন্তু প্রতিবেদনের সরেজমিন তথ্য এ বক্তব্যকে সমর্থন করে না।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী ঋণদানকারি সংস্থাগুলো চাপ দিয়ে কিস্তির টাকা আদায় করছে। অনেকটাই গোপনে কিস্তি আদায় করছে এমন অভিযোগ করেছেন বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নেয়া সদস্যরা। সদস্যরা জানায়, কিস্তির লোকজন আগের দিন বাড়িতে এসে বলে যাচ্ছে টাকার জমা দেয়ার কথা। তারা এও বলছে, করোনার লকডাউন উঠে গেছে। এখন কিস্তির টাকা দিতে হবে। কিস্তির টাকা না দিলে আগামিতে ঋণ দেয়া হবে নাÑ এমন হুমকিও দিয়ে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট এনজিও কর্মীরা। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অশালীন আচরণও করা হচ্ছে ঋণ গ্রহীতাদের সাথে। ঋণ গ্রহীতারা জানাচ্ছেন, করোনাকালে নিজের সংসার চালাতে হিমসিম খেতে হচ্ছে। তার পরে আবার ঋণের জ্বালা। এনিয়ে অনেকটাই দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে মানুষগুলোর। তাদের দাবি- কর্মজীবন স্বাভাবিক হলে তারা কিস্তির টাকা দেবে।
মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অর্থরিটি (এমআরএ) ক্ষুদ্র ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান নির্বাহীর কাছে সার্কুলার জারি করে পাঠিয়েই ক্ষান্ত হয়েছেন কিন্তু মাঠ পর্যায়ে কোনো প্রতিষ্ঠান এর ব্যত্যয় ঘটালে তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে কিংবা কোন কর্তৃপক্ষ এ দায়িত্ব পালন করবেন সেটা দৃশ্যমান নয়। অর্থাৎ নজরদারির কোনো ব্যবস্থা আছে বলে মনে হয় না। অথচ ঋণদানকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মিরা মাঠ পর্যায়ে ঠিকই কিস্তি আদায়ে চাপ সৃষ্টি করে চলেছে।
করোনাকালে বিপর্যন্থ অর্থনীতির বিষয়টি সকলেরই জানা। নিম্ন আয়ের মানুষ প্রকৃতঅর্থেই জীবন-জীবিকা নিয়ে দিশেহারা। দারুণ এই অসহায় মুহূর্তে সরকারের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ঋণদানকারি প্রতিষ্ঠানগুলো কিস্তি আদায়ে তৎপর আছে। এটা ওই সব মানুষের জন্য ‘মরার ওপর খাড়ার ঘা।’ ঋণদানকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর অমানবিক তৎপরতা বন্ধ হওয়া দরকার। এ ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ নিবেÑ এই প্রত্যাশাই করি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ