‘সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ’ বিষয়ক সেমিনারে বিপিএটিসির রেক্টর অপ্রত্যাশিত সময়ের জন্য প্রজাতন্ত্রের কর্মচারিদের প্রস্তুত থাকতে হবে

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২১, ৯:৩৫ অপরাহ্ণ

সেমিনারে বিপিএটিসির সেক্টর মো. সমজুর হোসেন সহ অন্যরা

নিজস্ব প্রতিবেদক:


‘সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ’ বিষয়ক সেমিনারে বিপিএটিসির রেক্টর মো. মনজুর হোসেন বলেছেন, অপ্রত্যাশিত সময়ের জন্য প্রজাতন্ত্রের কর্মচারিদের সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রত্যেককে দক্ষতা ও সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।
তিনি বলেন, ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের ইশতেহার বাস্তবায়নের দায়িত্ব প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তাদের। সে ভাবেই প্রশাসনকে দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে হবে, কোনোরূপ ছিদ্র রাখা বাঞ্ছনীয় হবে না।
তিনি মঙ্গলবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।
জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিপিএটিসির এমডিএস (প্রকল্প ও উন্নয়ন) সৈয়দ মিজানুর রহমান এনডিসি।
রাজশাহী জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মো. জিয়াউল হক, রাজশাহী রেঞ্জ অতিরিক্ত উপ-মহা পুলিশ পরিদর্শক (প্রশাসন ও অর্থ) জয়দেবকুমার ভদ্র।
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, রাজনৈতিক ইশতেহার বাস্তবায়নের তিনটি ধাপ হল-‘সরকার, প্রাতিষ্ঠান ও ব্যক্তি। এই তিন উদ্যোগই ইশতেহার বাস্তবায়নের মূলমন্ত্র। তিনি বলেন, আমরা এখনো উন্নত বিশ্বে নয় উন্নয়নশীল বিশ্বে আছি। তাই যদি সকলে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সরকারের নীতি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করি, তবে ২০১৮ সালের আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার ‘সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ’ সার্বিক সাফল্যমন্ডিত করা সম্ভব হবে তথা আমরা উন্নত বিশ্বের দিকে অগ্রসর হতে পারবো।
বিপিএটিসির রেক্টর মনজুর হোসেন আরো বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছেন ‘শিক্ষাকে শ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ’- বিনিয়োগ হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। তাঁর এই দর্শন বর্তমান বিশ্বের জন্য প্রাসঙ্গিক। শিক্ষাকে সর্বাধিক অগ্রাধিকার দিতে হবে কারণ বিশ্বে এর চেয়ে ভাল বিনিয়োগ হতে পারে না। বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার পর সাড়ে তিন বছর সময়ে জাতিকে শুধু স্বপ্নই দেখান নি, তিনি স্বপ্ন বাস্তবায়নের রূপরেখাও দিয়ে গেছেন। সেই রূপরেখা তাঁরই যোগ্য উত্তরসূরি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাস্তবায়ন করছেন। তাঁর দেয়া ইশতেহারের সঠিক বাস্তবায়নের ওপর দেশের সার্বিক উন্নয়ন নির্ভরশীল।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের ১০৬.১ মিলিয়ন কর্মক্ষম জনসংখ্যার মধ্যে সরকারি-বেসরকারি মিলে ৬২.১ মিলিয়ন কাজে লাগান সম্ভব হয়েছে। অবশিষ্ট সক্ষম জনগোষ্ঠি কাজে লাগানোর জন্য নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন করা অতীব জরুরি, না হলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব না।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল বলেন, নির্বাচনে বিজয়ী রাজনৈতিক দলের ইশতেহার বাস্তবায়নের দায়িত্ব অর্পিত হয় প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের উপর। তাই এখনই সঠিক সময় ইশতেহারের অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করার। এটা আমাদের কাছে নতুন চ্যালেঞ্জ।
তিনি আরো বলেন, সরকারের এজেন্ডা বাংলাদেশের মানুষের এজেন্ডা। তাই আমাদের উন্নয়নের প্রধান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে, সরকারের ভিশন ও মিশন বাস্তবায়নে মানসিকভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করে কাজ করতে হবে। সেজন্য আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবে প্রশিক্ষিত হতে হবে বলেও জানান তিনি।
মুক্ত আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ মতামত প্রদান করেন, স্থানীয় সরকার শাখা উপ পরিচালক (উপসচিব) ড. চিত্রলেখা নাজনীন, উপপরিচালক (স্থানীয় সরকার) শাহানা আখতার জাহান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মুহাম্মদ শরিফুল হক, সহকারি পুলিশ সুপার (এসএএফ) মো. নিয়াজ মেহেদী, উপ-পুলিশ কমিশনার (বোয়ালিয়া) দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আকবারুল হাসান মিল্লাত, রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার, বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা, রাজশাহী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী রোকনুজ্জামান খান ও বাংলাদেশ বেতার কর্মকর্তা মনিরুল হাসান।
মুক্ত আলোচনায় বক্তারা বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের জনবল বৃদ্ধি করতে হবে এবং শিশুদের আদর্শ শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে। কলকারখানায় কর্মচারীদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। মর্ডান যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে মেট্রোপলিটন সরকার বাস্তবায়ন করতে হবে।
তারা আরো বলেন, রাজশাহীর বরেন্দ্র ভূমির উন্নয়নের জন্য বৃষ্টির পানি হারভেস্ট করতে হবে। পাশাপাশি পানিকে রিসাইকেল করে ব্যবহার করতে হবে। এছাড়াও বর্ষাকালে পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। বরেন্দ্র অঞ্চল সহ সকল এলাকার সুষম উন্নয়ন করতে হবে। সরকারি ব্যাংকের পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেসরকারি ব্যাংকে টাকা জমা রাখতে হবে। বিশেষ করে কৃষিকাজে উন্নয়নের জন্য কৃষি ব্যাংক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
এছাড়াও বক্তারা বলেন, এখন তথ্য প্রযুক্তির যুগ তাই তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে দক্ষ জনবল বৃদ্ধি করতে হবে। লোকাল গভারমেন্টকে উন্নত করতে ইউনিয়ন পর্যায়ে পুলিশের পাশাপাশি মহিলা পুলিশ এর সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে। আমাদের দেশের এক তৃতীয়াংশ শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে। তাদের কারিগরি ও সৃজনশীল শিক্ষার মাধ্যমে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করতে হবে। বর্তমান সরকারকে মাদক সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। সে ক্ষেত্রে তালেবান সরকারের কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে তা আমাদের বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করতে হবে।