সরকারের কথা না শুনতে ইসিকে খালেদার আহ্বান

আপডেট: জুন ৪, ২০১৭, ১:০৭ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


সুষ্ঠু ভোট আয়োজনে নির্বাচন কমিশনের প্রতি নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে সরকারের ‘আবদার’ পালন না করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
শনিবার দলের নেতা-কর্মীদের নিয়ে ইফতার মাহফিলে তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশনের কাছে আহ্বান করব, এই সরকার আপনাদের কাছে যা কিছু আবদার করবে, আপনারা তা বাস্তবায়ন করবেন না।
“আপনারা জনগণের মতামত নেবেন, সকল রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে তবেই যেটা সকলে মতামত দেবে, সেটার ভিত্তিতে আপনারা নির্বাচন কমিশন পরিচালনা করবেন।”
নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচনের দাবি জানিয়ে বিএনপি প্রধান বলেন,“নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ বুঝতে পারবে তাদের পায়ের নিচে মাটি আছে কিনা, জনগণের সাথে তাদের কোনো সম্পর্ক আছে কিনা, সেটা প্রমাণ হবে।”
বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার আমলে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো সাবেক অতিরিক্ত সচিব কে এম নুরুল হুদাকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে আপত্তি জানালেও কয়েক মাসের মাথায় তার কাছে এই আহ্বান জানালেন খালেদা জিয়া।
বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টারের নবরাত্রি হলে বিএনপি এবং এর সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের সম্মানে এই ইফতারের আয়োজন করেন খালেদা।দলের বিভিন্ন পর্যায়ের কয়েক হাজার নেতা এতে অংশ নেন।
প্রস্তাবিত বাজেটের সমালোচনা করে খালেদা জিয়া বলেন, জনগণের উপর ‘করের বোঝা’ চাপানোয় নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়বে।
তিনি বলেন, “দেশের মানুষের প্রতিনিয়ত এত সমস্যা, তার মধ্যে একটা বাজেট দিয়েছে, তাতে যেভাবে কর বসানো হয়েছে, এতে জিনিসপত্রের দাম বাড়বে। এই বাজেটের ফলে দুর্নীতি করার সুযোগ হয়েছে।”
গ্যাসের দাম বৃদ্ধির সমালোচনা করে তিনি বলেন, “এতে বুঝতে পারছেন, সরকার কী করতে চায়। এই সরকার হল জনগণবিরোধী সরকার। তাদের সাথে জনগণের কোনো সম্পর্ক নাই। কারণ তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয় নাই। সেজন্য জনগণের সমস্যা, জনগণের কষ্ট তাদের চোখে পড়ে না।”
খালেদা জিয়া বলেন, তার দেওয়া ‘ভিশন ২০৩০’ বাস্তবায়ন হলে আগামীতে দেশে সমস্যা থাকবে না।
অর্থপাচারের জন্য ক্ষমতাসীদের দায়ী করে তিনি বলেন, “যেভাবে টাকা পাচার হচ্ছে, সম্পদ পাচার হচ্ছে, দুর্নীতি হচ্ছে, তার সঙ্গে জড়িত সরকারের লোকজন, যারা ধরাছোঁয়ার বাইরে।”
সরকারের প্রতি রমজান মাসে ‘জুলুম-নির্যাতন বন্ধ’ এবং দেশে ‘গণতন্ত্র ফিরে আসার’ সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান বিএনপি নেত্রী।
“আমরা মনে করি, গণতন্ত্র তখনই ফিরে আসবে, যখন দেশে সত্যিকার অর্থে একটা অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ এবং সকলের অংশগ্রহনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।”
শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না দাবি করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ইফতারে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, হাফিজউদ্দিন আহমেদ, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, সেলিমা রহমান, খন্দকার মাহবুব হোসেন, আবদুল আউয়াল মিন্টু, মীর মো. নাসির, শামসুজ্জামান দুদু, আহমেদ আজম খান, এজেডএম জাহিদ হোসেন, আমানউল্লাহ আমান উপস্থিত ছিলেন।
জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে হারুনার রশীদ, উকিল আবদুস সাত্তার, শাহজাহান ওমর, অধ্যাপক আবদুল মান্নান, আবদুল কাইয়ুম, ফজলুর রহমান, কবীর মুরাদ, সঞ্জীব চৌধুরী, সুকোমল বড়ুয়া, সিরাজ উদ্দিন আহমেদ, আতাউর রহমান ঢালী, মাহবুবউদ্দিন খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, ফজলুল হক মিলন, কামরুল ইসলাম, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, নজরুল ইসলাম মঞ্জু, জিএম ফজলুল হক, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, শামা ওবায়েদ, নাজিমউদ্দিন আলম, শাহ আবু জাফর, আবদুল হালিম ডোনার, মোরশেদ হাসান খান উপস্থিত ছিলেন।
সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের মধ্যে সাইফুল আলম নিরব, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, মোরতাজুল করীম বাদরু, আনোয়ার হোসেইন, ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, সাদেক আহমেদ খান, শফিউল বারী বাবু, আবদুল কাদের ভুঁইয়া, সুলতানা আহমেদ, হেলেন জেরিন খান, হাফেজ এম এ মালেক রাজিব আহসান, আকরামুল হাসান প্রমুখ ইফতারে অংশ নেন।
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ