সরকারের খাদ্যবান্ধব চাল নিয়ে দুর্নীতি দুর্নীবাজদের কঠোর শাস্তিই প্রাপ্য

আপডেট: এপ্রিল ১২, ২০২০, ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ

করোনাভাইরাস শুধু বাংলাদেশ নয়- সারা পৃথিবীর মানুষকে একই প্লাটফরমে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। ধর্ম-বর্ণ, ধনি-গরিব বিবেচনার চাইতে মানুষ রক্ষার তাগিদই সর্বোচ্চ কর্তব্যকাজ বলে পরিগণিত হচ্ছে। এরমধ্যেই মানুষ মানুষের জন্য সেবাব্রত হয়ে মহৎ থেকে মহত্তর হয়ে উঠছেন। পৃথিবীর আর মানুষেরা তাদের স্যালুট জানাচ্ছে। আমাদের দেশে এর উল্টোচিত্রও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কিছু দায়িত্বশীল মানুষ পশুর চেয়েও কতটা নিকৃষ্ট ও হিংস্র হওয়া যায় সেই প্রমাণ রাখছে। মানুষ যখন চারকিকে অসহায়- অনিশ্চয়তার মধ্যে; তখন ওই মানুষরূপী ওই নিকৃষ্টরা দুর্নীতি ও অনিয়ম করে মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার খর্ব করছে।
বর্তমানে করোনাভাইরাস সংক্রমণ এড়াতে সরকার সারাদেশে মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছে। এতে বিপাকে পড়েছেন দরিদ্র শ্রেণির মানুষ। তাদের কোনো কাজ করার সুযোগ নেই- গৃহবন্দি জীবন-যাপন করছেন। তাদের দুর্দশা লাঘবে সরকার খাদ্যবান্ধব ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি করছে। নির্বাচিত ডিলারদের মাধ্যমে এসব চাল জনগণ কিনতে পারবেন।
কিন্তু এই চাল নিয়ে অভিযোগের মাত্রা দিন দিন বাড়ছে। কোথাও কোথাও ডিলাররা চাল বিক্রির সময় ওজনে কম দিচ্ছেন। কোথাও খাদ্য গুদামের কর্মকর্তা নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছেন। কোথাও ব্যবসায়ীর গুদামে মিলছে খাদ্যবান্ধব চাল। আবার কোথাও ডিলার নিজেই চুরি করে সংরক্ষণ করছেন বা বেঁচে দিচ্ছেন অন্যত্র। স্থানীয় জনগণ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সেসব চাল উদ্ধার করে মুখোশ উন্মোচন করে দিচ্ছেন অসাধু ব্যক্তিদের। এসব খবর সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ ও প্রচার হয়েছে।
এসব অসাধু ব্যক্তিরা কম বেশি সরকার দলীয় রাজনীতির সাথে জড়িত। এদের কেউ চেয়ারম্যান, কেউ কাউন্সিলর, কেউবা জনপ্রতিনিধির আত্মীয়-নিকটজন। দেশের এই সঙ্কটকালে যেখানে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবতার পরিচয় দেবেন- নিজেকে বিকশিত করবেন, সেখানে উল্টো চাল চুরি করে দরিদ্রের ভাগ মেরে খেয়ে নিজেকেসহ নিকটআত্মীয়দের মুখেও কালিমা লেপন করছেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে, জয়পুরহাটের আক্কেলপুর, নাটোরের সিংড়া, যশোরের মণিরামপুর, নোয়াখালী সদর উপজেলা, ঝালকাঠির সদর উপজেলা, ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলা, সাতক্ষীরার আশাশুনি, চট্টগ্রামে এক চাল ব্যাবসায়ীর গুদাম থেকে খাদ্যবান্ধব ১০ টাকা কেজি বিপুল পরিমাণ চাল আটক করা হয়েছে।
করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে কর্মহীন ও দরিদ্রদের জন্য বরাদ্দ ১০ টাকা কেজি দরের ওএমএসের চাল কালোবাজারে বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের কঠোর শাস্তি দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার।
শনিবার (১১ এপ্রিল) জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের (আরসি ফুড) কাছে পাঠানো চিঠিতে খাদ্যমন্ত্রী এ নির্দেশনা দেন।
চিঠিতে খাদ্যমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, বেশ কিছু পত্রপত্রিকা ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে জানা যাচ্ছে যে, কতিপয় ব্যক্তি ওএমএসের চাল কালোবাজারে বিক্রি করছে। যা এই কর্মসূচিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। দেশের এই মহাদূর্যোগকালে যারা এ ধরনের অমানবিক কাজের সাথে জড়িয়ে মনুষ্যত্বের অবমাননা করছে- তারা কোনোভাবেই ক্ষমার যোগ্য নয়। তাদের জন্য কঠোর শাস্তিই প্রাপ্য। কোনো পরিচয়েই তারা যেন পার পেয়ে না যায় সেটাই নিশ্চিত করতে হবে। খাদ্যমন্ত্রী যা বলেছেন তা যেন কথার কথাই থেকে না যায়। গোড়াতেই এই দুর্নীতি বন্ধে এখনই সময়-দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ