সরকারের বিরুদ্ধে বৈষম্যের অভিযোগ, স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন গুজরাটের ৬০০ মুসলিম মৎস্যজীবীর

আপডেট: মে ৯, ২০২২, ৭:১৮ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক:


স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন ৬০০ মৎস্যজীবী।
ঘটনাটি ঘটেছে গুজরাটের পোরবন্দরে। সেখানকার গোসাবারা জলাভূমির মৎস্যজীবীদের নেতা আল্লারাখা ইসমাইলভাই থিম্মার গুজরাট হাইকোর্টে আবেদন করেছেন, তাঁদের অর্থনৈতিক অবস্থা দিনে দিনে চরম খারাপ হয়েছে।

তার কারণ বিজেপি শাসিত গুজরাট সরকারের বৈষম্য। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে জীবনধারণ করাটাই দুর্বিষহ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই তিনি এবং তাঁর সঙ্গে ৬০০ জনকে স্বেচ্ছামৃত্যুর অনুমতি দিক আদালত।

হাইকোর্টে একই আবেদন জানানো হয়েছে, গোসাবারা মুসলিম ফিশারমেনস সোসাইটির তরফেও। ওই সংগঠনের অভিযোগ, একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মৎস্যজীবীরা সরকারের বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন। ওই সম্প্রদায়ের মৎস্যজীবীদের কোনওরকম সরকারি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে না। নানাভাবে হেনস্থা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ।

আবেদনে জানানো হয়েছে, ওই সম্প্রদায়টি ‘রাজনৈতিক নিপীড়নে’র শিকার। বিভিন্নভাবে স্থানীয় প্রশাসন তাদের হেনস্থা করেছে। এলাকার ১০০টি পরিবারের ৬০০ লোক মৎস্য ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। মাছ ধরার জন্য তাঁদের মৎস্য দপ্তরের অনুমতিপত্রও রয়েছে। তা সত্ত্বেও গোসাবারা এবং নভি বন্দরে তাঁদের নোঙর করতে দেন না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ২০১৬ সাল থেকে তাঁদের এই ধরনের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বলে আদালতে জানিয়েছে পোরবন্দরের মুসলিম মৎস্যজীবীরা।

এদিকে, আবেদনকারী মৎস্যজীবীদের আইনজীবী ধর্মেশ গুর্জার বলেছেন, ‘২০১৬ সাল থেকে গোসাবারা বন্দরে মুসলিম মৎস্যজীবীদের নৌকো চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অনুমতিপত্রেরও তোয়াক্কা করা হচ্ছে না।’ থিম্মার অভিযোগ, হিন্দু মৎস্যজীবীদের সরকার সবরকম সুবিধা দিচ্ছে, অথচ তাঁদের দিকে কেউ ফিরেও তাকাচ্ছে না। তাঁর দাবি, ‘আমাদের ভাতে মারার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’

মুসলিম মৎস্যজীবীদের অভিযোগ, বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানানো হলেও কোনও লাভ হয়নি। অথচ তাঁরা বেআইনি কাজকর্মের সঙ্গে জড়িত নন বলেই দাবি। বরং পাকিস্তানের মদতপুষ্ট দুষ্কৃতীদের গতিবিধি সম্পর্কে নিরাপত্তাবাহিনীকে সবসময় অবহিত করেন এবং সহযোগিতা করেন বলে দাবি করেছেন মুসলিম মৎস্যজীবীরা। এই খবরে বিরোধীরা মোদি–শাহকে তীব্র কটাক্ষ করতে শুরু করেছে।
তথ্যসূত্র: আজকাল

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ