সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি হচ্ছে না তেল মুরগি ও চালের দাম বাড়ছে

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২১, ৯:৪৮ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


তেল চাল থেকে শুরু করে নিত্য প্রয়োজনীয় সব পণ্যের দাম যেন দিন দিন বাড়তেই আছে। বেশ কিছু পণ্যের দাম সপ্তাহের ব্যবধানে কমতে শুরু করলেও আবার বাড়তে শুরু করেছে। সরকারিভাবে তেলের দাম নির্ধারন করা হলেও দাম বেশি নেওয়ার অভিযোগ করছে সাধারণ জনগণ। তেল পাইকারদের কাছ থেকে বেশি দামে ক্রয় করতে হওয়ায় বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। তেলের সাথে চাল এবং মুরগির দাম চওড়া হওয়ায় বিপাকে পরছেন সাধারণ জনগণ। চাল এবং তেলের দাম বাড়তেই আছে।
শুক্রবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাজশাহীর সাহেব বাজার ঘুরে দেখা যায় এমন চিত্র। সরকারিভাবে ভোজ্য তেলের দাম নিধারণ করা হলেও সেই দামে পাচ্ছেনা জনগণ। বিক্রেতারা বলছেন সরকারিভাবে এখনও ঠিকমতো দাম বেঁধে দেয়নি যার কারণে বাজারে অনেক ব্যবসায়ী চওড়া দামে তেল বিক্রি করছে। তবে সামনে দাম কিছুটা কমার সম্ভাবনা আছে।
বাজারে প্রতিকেজি খোলা সোয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১২৫ টাকা থেকে ১৩০ টাকা। এছাড়া খোলা সোয়াবিন তেল লিটারে বিক্রি হচ্ছে ১১৮ টাকা থেকে ১২০ টাকা এবং প্যাকেটজাত সোয়াবিন তেল ১২৫ টাকা থেকে ১৩০ টাকা।
অপরদিকে চালের দোকান ঘুরে দেখা যায়, প্রতিকেজি আটাশ চাল ৫৫ টাকা থেকে ৬০ টাকা এবং মিনিকেট চাল ৬০ টাকা থেকে ৬৪ টাকা। এছাড়া গুটি স্বর্ণা ৪৬ টাকা থেকে ৪৮ টাকা, চিনিগুড়া চাল ৮৫ টাকা থেকে ৯০ টাকা, বাসমতি চাল ও নাজিশাল চাল ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
ডালের মধ্যে মসুরের ডাল ৭০ টাকা থেকে ১০০ টাকা, মুগের ডাল ১৩০ টাকা, কালায়ের ডাল ১২০ টাকা, বুটের ডাল ৭৫ টাকা থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সবজির আমদানির উপর নির্ভর করে সবজির দাম প্রতি দিনে কম বেশি হচ্ছে। বাজারে কিছু সবজির দাম বেশি হওয়ায় ক্রেতারা কম দামের সবজি কেনার দিকে ঝুকছে। এতে করে তেমন লাভ হচ্ছেনা বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
সবজি ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বাজারে সবজির দাম আগের তুলনায় কম, তবে যে সবজির আমদানি কম সেই সবজির দাম একটু বেশি। নগরীর সবজি বাজারে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকা থেকে ১৫ টাকায়। এছাড়া পেঁয়াজ ২৪ টাকা থেকে ২৫ টাকা, রসুন ১০০ টাকা থেকে ১২০ টাকা, আদা ৬০ টাকা থেকে ৮০ টাকা, বেগুন ১৫ টাকা থেকে ৩০ টাকা, শীম ২০ টাকা থেকে ৩০ টাকা, গাজর ১৫ টাকা থেকে ২০ টাকা, টমেটো ২০ টাকা থেকে ৩০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ২০ টাকা থেকে ২৫ টাকা, পটল ৮০ টাকা থেকে ১২০ টাকা, করলা ৬০ টাকা থেকে ৮০ টাকা, কাঁচামরিচ ৪০ টাকা থেকে ৬০ টাকা, বাধাঁ কপি ১০ টাকা,মটরশুটি ২৫ টাকা থেকে ৩০ টাকা, প্রতিপিচ লাউ ২০ টাকা থেকে ৩০ টাকা, ফুলকপি ৫ টাকা থেকে ১০ এবং কাঁচা কলা ২০ টাকা থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শাকের মধ্যে প্রতি আটি লাল শাক, সবুজ শাক ও পালং শাক বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকা এবং ধনে পাতা ৫ টাকা করে।
অন্যদিকে মাছ মাংসের বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতিকেজি ইলিশ মাছ ৩০০ টাকা থেকে ৯০০ টাকা, চিংড়ি মাছ ৫০০ টাকা থেকে ১০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া রুই মাছ ১৪০ টাকা থেকে ২৫০ টাকা, কাতল মাছ ১৮০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা, মিরকা মাছ ১২০ টাকা থেকে ২০০ টাকা, পাঙ্গাস মাছ ৮০০ টাকা, বোয়াল মাছ ৩০০ টাকা থেকে ৭০০ টাকা, কৈ মাছ ২০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা, শৈল মাছ ৩০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মাংসের মধ্যে গরুর মাংস ৫৫০ টাকা, খাসির মাংস ৮০০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ১৫০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা, দেশ্যি দেশি মুরগি ৩৬০ টাকা থেকে ৩৮০ টাকা, সোনালি মুরগি ২৪০ টাকা থেকে ২৫০ টাকা, লেয়ার মুরগি ১৮০ টাকা থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।