সরবরাহ বাড়ায় কমেছে সবজি ও পেঁয়াজের দাম, বেড়েছে তেল ও মুরগির দাম

আপডেট: অক্টোবর ২২, ২০২১, ১০:১৭ অপরাহ্ণ


নিজস্ব প্রতিবেদক:


সরবরাহ বাড়ায় কমেছে সবজি ও পেঁয়াজের দাম, বেড়েছে সোয়াবিন তেল ও মুরগির দাম। শুল্ক কমানো ও সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০ টাকা কমেছে। শীতকালীন সবজির সরবরাহ বেশি হওয়ায় প্রায় সব সবজি আগের তুলনায় কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা কমেছে বিক্রি হচ্ছে। অপরদিকে এক সপ্তাহের ব্যবধানে ভোজ্যতেলের দাম খোলা বাজারে আরও এক দফা বেড়েছে, লিটারপ্রতি বোতলজাত তেলের দাম বেড়েছে ৭ টাকা। এছাড়াও ব্রয়লার ও সোনালী মুরগির দাম কেজি প্রতি ১০ টাকা বেড়েছে।

শুক্রবার (২২ অক্টোবর) সকাল ৯ টায় নগরীর বিভিন্ন বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, খোলা বাজারে ১৩৩ টাকার পরিবর্তে ১৪০ টাকায় এবং বোতল জাত ১৪৫ টাকার পরিবর্তে ১৫২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তেলের দাম বাড়ানোর বিষয়ে কোট বাজারের মুদি ব্যবসায়ী শাহীন আলী বলেন, বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়তি। যেসব প্রতিষ্ঠানগুলো তেল আমদানি করছে, তারা তেলের দাম বাড়াচ্ছে। আমরা বেশি দামে এনে তো আর লোকসান দিয়ে বিক্রি করব না। আমাদের তো লাভও হচ্ছে না, কিন্তু ব্যবসা ধরে রাখতে কম করে তেল রাখছি।
ব্যবসায়ীরা ডাকাতি করছে অটোচালক তমিজ উদ্দিন বলেন, কথা নেই, বার্তা নেই ব্যবসায়ীরা দাম বাড়াচ্ছে। আমরা জিম্মি হয়ে আছি।

সাহেব বাজারে চাকরিজীবি শরিফুল ইসলামের সঙ্গে কথা হয়। তিনি তেলের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে বলেন, করোনায় আমাদের আয় কমে গেছে। যাতায়াত ও ঘর ভাড়ার টাকা যোগাতে কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু এ সময় নতুন করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার হিড়িক লেগেছে। সরকারের উচিত বাজার নিয়ন্ত্রণে আনা। না হয় আমাদের না খেয়ে মরতে হবে।

শুক্রবার (২২ অক্টোবর) সকালে নগরীর সবচেয়ে বড় মাস্টার পাড়া বাজার ঘুরে দেখা গেছে দেশি পেঁয়াজ কেজিপ্রতি বিক্রি হয় ৪৫ টাকায়। সাত দিন আগেও এই পেঁয়াজের দাম ছিল ৫৫ টাকা। একই সঙ্গে,গত সপ্তাহের তুলনায় পেঁয়াজের পাশাপাশি সবজির দাম কমেছে কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা। এছাড়াও কাঁচ মরিচের দাম কেজি প্রতি ২০ টাকা কমেছে, ৮০ টাকা কেজি কাঁচা মরিচ গত সপ্তাহে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

পেঁয়াজের দাম কমার বিষয়ে সাহেব বাজার মাস্টারপাড়া কাঁচা বাজার ব্যবসায়ী সুকুর আলী জানান, দুর্গাপূজার ছুটি কাটিয়ে ফের সচল হয়েছে দেশের দ্বিতীয় স্থলবন্দর হিলি। ফলে আমদানি বেড়েছে কিন্তু বাজারে ক্রেতা সংকট, পেঁয়াজ আমদানিতে শুল্ক প্রত্যাহার এবং অতিরিক্ত গরমের কারণে দাম কমতে শুরু করেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম কমেছে আট টাকা।

নগরীর মাষ্টারপাড়া কাঁচা বাজারে সবজিসহ অন্য পণ্য কিনতে এসেছেন চাকরিজীবী মতিউর রহমান। তিনি বলেন, ছোট একটি চাকরি করে সংসার চালাতে হয়। অল্প বেতনের মধ্যে সংসারের সব খরচ মেটাতে হয়। এর মধ্যে বাজারে তেলের দাম কিছুটা বেশি হলেও আমাদের নাগালের মধ্যে আছে শাক সবজি ও মাছ, মাংসের দাম। কিছুদিন আগেও পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ ও সবজির দাম বেশি ছিল।

অপরদিকে, ব্রয়লার ও সোনালী মুরগির দাম ১০ টাকা বেড়েছে আর দেশি মুরগির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ব্রয়লার মুরগি ১৭০, সোনালী ৩০০ টাকার ও দেশী মুরগী ৪০০ টাকায় বিক্রি হয়। যার দাম গত সপ্তাহে ছিল ব্রয়লার মুরগি ১৬০ টাকা, সোনালী ২৯০ টাকা ও দেশী মুরগী মুরগি ৪০০ টাকা। সেই সাথে গরু ও খাসির মাংসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

ব্যবসায়ী অন্তু শেখ বলেন, আমদানি কম হওয়ার কারণে ব্রয়লার ও সোনালী মুরগির দাম বেড়েছে। কিন্তু বিক্রি কম হবার কারণে দেশি মুরগির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
এছাড়াও রাজশাহী নগরে সবচেয়ে বড় মাস্টার পাড়া বাজারে শীতের কাঁচা বাজারে আমদানি বাড়াই পণ্যের দাম কমেছে। আলু বিক্রি হচ্ছে ১৪ টাকা যা ছিল ১০ টাকা কেজি, পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা কেজি যার দাম ছিল ৪৫ টাকা, রসুন বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজি যার দাম ছিল ৪৫ টাকা কেজি, আদা বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা কেজি যার দাম ছিল ৭০ টাকা কেজি। সবজির বাজারে করলা বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ যার দাম ছিল ৪০ থেকে ৪৫ টাকা কেজি, পটল বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা যার দাম ছিল ৩০ টাকা, বাঁধাকপি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা যার দাম ছিল ৫০ টাকা, ঢেড়স বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকা কেজি যার দাম ছিল ৪০ টাকা, বরবটি বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি যার দাম ছিল ৫৫ টাকা, গাজর ১০০ টাকা, শসা ৬০ টাকা, লাউ প্রতি পিচ ২০ টাকা, শিম ১০০ টাকা, কুরিকচু ৩০ টাকা, টমেটো ১৫০ টাকা, পেঁপে কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ টাকা।

মাছের বাজারে গিয়ে দেখা যায়, কার্প জাতীয় মাছের দাম গত সপ্তাহের তুলনায় কেজি প্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা কমেছে। বড় রুই মাছ কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ৩৭০ টাকা, বড় কাতল মাছ ১৪০ থেকে ৩৮০ টাকা, বড়ো সিলভার ও কার্প জাতীয় মাছ ১০০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও বাটা মাছ ১৬০ টাকা, চিংড়ি মাছ ৮০০ টাকা, পাঙ্গাশ মাছ ১২০ টাকা, মৃগেল মাছ ১৬০ টাকা প্রতি কেজি বিক্রয় হতে দেখা গেছে। এছাড়াও বেড়েছে দেশি ও নদীর মাছের দাম।

মাছ বিক্রেতা সাজাহান আলী জানান, পূজার কারণে মাসের আমদানি বেশি কিন্তু বিক্রি কম হয় মাছের দাম কেজি প্রতি ৫০ থেকে ৬০ টাকা কমেছে। তাই এই সপ্তাহে মাছের দাম কেজি প্রতি ৫০ থেকে ৬০ টাকা কমেছে।

মুদি সামগ্রীর দাম গত সপ্তাহের তুলনায় অপরিবর্তিত রয়েছে, চিনি কেজি প্রতি ৭৮ টাকা, মসুর ডাল ১০০ টাকা, সোনা মুগ ১৪০ টাকা, ছোলা বুট ৭০ টাকা, খেসারি ডাল ৮০ টাকা, কালাই ডাল ১৩০ টাকা, লবন ৩০ টাকা। চালের বাজারে আটাশ চাল ৫০ টাকা, মিনিকেট ৬০ টাকা, জিরাশাল ৬০ টাকা, বাসমতি ৬৮ টাকা, পায়জাম ৬০ টাকা, নাজিরশাল ৬৬ টাকা, কাটারিভোগ ৮৫ টাকা, শরনা ৪৮ টাকা, কালজিরা ৮০ থেকে ৯০ টাকা, চিনিগুড়া ৯৫ থেকে ১০০ টাকা, আউশ ৫৫ টাকা, বালাম ৬৫ কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ