পহেলা ফাল্গুনে বিদ্যার দেবীর আরাধনা II সাজছে সরস্বতী পূজোর

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৪, ১১:০২ অপরাহ্ণ


নিজস্ব প্রতিবেদক:আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পহেলা ফাল্গুন। আবার এই দিনে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। আবার এই দিনে হবে বিদ্যার দেবীর আরাধনা। অর্থাৎ ১৪ ফেব্রুয়ারি সরস্বতী পূজা উৎসব। তিন উৎসবই এবার পালন করা হবে এক সাথে। সরস্বতী পূজার প্রতিমার তৈরির কাজ চলছে পুরোদমে। এখন শুধু বাকি রঙতুলির আঁচড় দেওয়া।

সরস্বতী পূজা হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব। শুক্লা পঞ্চমীতে শেত-শুভ্র কল্যাণময়ী বিদ্যাদেবীর আবাহন হয়। মা সরস্বতী জ্ঞানদায়িনী বিদ্যাদেবী সরস্বতী শ্বেত-শুভ্র বসনা। তার এক হাতে বীণা অন্য হাতে বেদপুস্তক। অর্থাৎ বীণাপানিতে যার তিনি বীণাপানি-সরস্বতী। আর এ থেকেই বাণী অর্চনার প্রচলন।

এই দিনে মন্দির ও গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভক্তরা বিদ্যা ও জ্ঞানের অধিষ্ঠার্থী দেবী সরস্বতীর পাদপদ্মে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করেন। মণ্ডপে মণ্ডপে পূজার আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াও হাতেখড়ি, প্রসাদ বিতরণ, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সন্ধ্যারতি, আলোকসজ্জা ও মেলা বসে।

হিন্দু ধর্ম মতে, দুর্গার মেয়ে সরস্বতী। আর বিদ্যাদেবী হিসেবে সরস্বতী পূজোর তাদের কাছে বিশেষভাবে পূজনীয়। তাই মাঘ মাসের শুক্লা পঞ্চমী তিথিতে, সাদা রাজহাঁসে চড়ে, জ্ঞানের দেবী আসেন ধরায়। এই দিনে জ্ঞান বৃদ্ধির আশায়, উপবাসে থেকে দেবীর নামে অঞ্জলী দিয়ে বিশেষ প্রার্থনা করে থাকেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।

সনাতন ধর্ম মতে, বিদ্যা, জ্ঞান এবং সঙ্গীতের দেবী মা সরস্বতীর পুজোর হয় মাঘ মাসের শুক্লা পঞ্চমী তিথিতে। তিথিটি শ্রীপঞ্চমী বা বসন্ত পঞ্চমী নামেও সকলের কাছে পরিচিত। বাঙালীর প্রতিটি ঘরে ঘরে খুব ধুমধাম করে পালিত হয় সরস্বতী পূজা।

সরস্বতী পূজোর নিয়মের মধ্যে, সরস্বতী পূজোর দিন সকালে উঠে স্নান সেরে শুদ্ধ বস্ত্র পরতে হয়। তবে পূজোর আগে শরীর ও মনের শুদ্ধির জন্য এদিন নিম ও হলুদ বাটা মাখার রীতি প্রচলিত রয়েছে। পূজার স্থানে একটি পিঁড়ির ওপর সাদা কাপড় পেতে সরস্বতীর মূর্তি স্থাপন করে থাকেন হিন্দু ধর্মের সরস্বতী ভক্তরা। মূর্তির সামনে জলভর্তি ঘটি বসিয়ে তার ওপরে রাখতে হয় আম্রপত্র। এরপর তার ওপর পান পাতা রেখে দিতে হয়। পূজার স্থানে একপাশে হলুদ, কুমকুম, চাল, সাদা ও বাসন্তী রঙের ফুল-মালা দিয়ে সাজিয়ে রাখা হয়।

এছাড়াও থাকে কুলসহ নানান প্রকারের ফল। কারণ কুলই সরস্বতী পূজার প্রধান ফল। সরস্বতী পূজোর আগে কুল খাওয়ার রীতি প্রচলিত নেই। বরং পূজার অঞ্জলির পরই সাধারণত কুল খাওয়া হয়ে থাকে। এবং সরস্বতী মূর্তির এক পাশে রাখা হয় দোয়াত, খাগের কলম ও বই। আমের মুকুল, পলাশ ফুল অর্পণ করবেন। সঙ্গীত বা নৃত্যশিল্পী হলে এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত সামগ্রীও মূর্তির পাশে রাখা হয়ে থাকে। এরপর সরস্বতী পূজার মন্ত্রপাঠ পূর্ণ করে দেবীকে ভোগ নিবেদন করে থাকেন সনাতনী সমাজ।

এই পূজা হয় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। এছাড়াও হয় বাড়িতে। সরস্বতী পূজা শুধু শিক্ষার্থী আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এই সরস্বতী দেবী বা বিদ্যাদেবীর পূজা, প্রতিটি গ্রামে, প্রতিটি মহল্লায়, প্রতিটি শহরের আনাচে-কানাচেই হয়ে থাকে। এর আয়োজকও হয় শিক্ষার্থীরা।

সরস্বতীর প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন শিল্পী অরুণ কুমার পাল। রাজশাহী বৈষ্ণব সভা মন্দিরের ছাদে চলছে এই কাজ। মন্দিরটি নগরীর গণকপাড়ায় অবস্থিত। অরুণ কুমার পাল জানান, সরস্বতী পূজা উপলক্ষে তারা অন্তত ১০ জন কাজ করছেন। শীতকে উপেক্ষা করে প্রতিদিন সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত প্রতিমা তৈরি ও রং করায় ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। কাজের চাপে একটু দম ফেলারও যেন ফুরসত নেই তাদের। সরস্বতী দেবীর প্রতিটি প্রতিমা সর্ব নিম্ন দেড় হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

বিদ্যা দেবী সরস্বতীর আগমনের আনন্দে উদ্বেলিত হিন্দু সম্প্রদায়ের কয়েকজন ভক্ত। তারা জানান, প্রতিবছরই তারা সরস্বতী পূজোর দেবীর কাছে বিদ্যার জন্য প্রার্থনা করেন। এবারও তারা দেবীর কাছে বিদ্যা ও দেশ-জাতির মঙ্গল কামনা করে প্রার্থনা করবেন।

নগরীর রেশমপট্টির বাসিন্দা প্রিয়ন্তি বণিক। রাজশাহী ভোলানাথ বিশ্বেশ্বর হিন্দু অ্যাকাডেমি অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, ‘আমার এলাকার সবাই চাঁদা তুলে সরস্বতী পূজোর করি। এলাকার দাদা-দিদিদের পূজা করতে বেশ আনন্দই লাগে। এ পূজোর আনন্দই আলাদা। দেবী সরস্বতী আমাদের বিদ্যার দেবী এজন্য তার কাছে আমরা যেনো মেধাবী হয় এটাই এখন বড় কামনা।’

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অনিল কুমার সরকার বলেন, ‘স্কুল-কলেজ ও পাড়া-মহল্লার ক্লাবের উদ্যোগে এবং বাসা-বাড়িতে স্বরসতী পূজা উদযাপিত হয়ে থাকে। আশা করছি কোনো ধরণের বাধা-বিপত্তি ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে জাঁকজমক পরিবেশে পূজা সম্পন্ন হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও তৎপর থাকেন। যেকোনো পূজায় আমরা তাদের পাশে পায়।’

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ