‘সরোয়ার-তামিম গ্রুপের’ ৫ জঙ্গি গ্রেপ্তার

আপডেট: মার্চ ২২, ২০১৭, ১২:১৯ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক



ঢাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ জেএমবির ‘সরোয়ার-তামিম গ্রুপের’ সন্দেহভাজন পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করার কথা জানিয়েছেন র‌্যাব।
র‌্যাবের গণমাধ্যম শাখার সহকারী পরিচালক মিজানুর রহমান জানান, সোমবার রাতে অভিযান চালিয়ে ওই পাঁচজনকে তারা গ্রেপ্তার করেন।
গ্রেপ্তারদের নাম পরিচয় না জানালেও তাদের মধ্যে দুইজন প্রকৌশলী রয়েছেন বলে এই র‌্যাব কর্মকর্তার ভাষ্য। তাদের কাছ থেকে বেশ কিছু উগ্র মতবাদের বই ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করার কথাও বলেছেন তিনি।
মিজানুর রহমান বলেন, মঙ্গলবার কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।
আশকোনায় আত্মঘাতী বিস্ফোরণে এবং খিলগাঁওয়ে তল্লাশি চৌকিতে ‘হামলা চেষ্টার সময়’ গুলিতে দুই জঙ্গি নিহত হওয়ার তিন দিনের মাথায় জেএমবি সদস্যদের গ্রেপ্তারের এই খবর এল।
গত বছরের ৮ অক্টোবর ঢাকার আশুলিয়ার এক বাড়িতে র‌্যাবের অভিযানের সময় পাঁচতলা থেকে পড়ে একজনের মৃত্যু হয়। পরে র‌্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়, ওই ব্যক্তির প্রকৃত নাম সারোয়ার জাহান এবং তিনি শায়খ আবু ইব্রাহীম আল হানিফ নাম নিয়ে তামীম চৌধুরীর সঙ্গে মিলে জেএমবির নতুন একটি অংশকে সংগঠিত করেন।
সরোয়ার নিহত হওয়ার আগে ২৭ অগাস্ট নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ায় এক জঙ্গি আস্তনায় অভিযানে নিহত হন তামিম আহমেদ চৌধুরীসহ তিনজন।
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী জেএমবির এই গ্রুপকেই গুলশান ও শোলাকিয়াসহ সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলাগুলোর অধিকাংশ ঘটনায় দায়ী করে আসছে। এই অংশটিকে পুলিশ বলছে ‘নব্য জেএমবি’, র্যাব বলছে সারোয়ার তামিম গ্রুপ।
গতবছর জুলাই মাসে গুলশান ও শোলাকিয়ায় হামলার পর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক অভিযানের মধ্যে বেশ কিছুদিন পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও মার্চের শুরু থেকে বেশ কয়েকটি ঘটনার মধ্য দিয়ে জঙ্গিরা নতুন করে তাদের তৎপরতার জানান দিতে শুরু করে।
গত শুক্রবার র‌্যাবের একটি ব্যারাকের সীমানায় ঢুকে পড়ার পর শরীরে বাঁধা বোমার বিস্ফোরণে নিহত হয় সন্দেহভাজন এক জঙ্গি। পরদিন ভোরে খিলগাঁওয়ে একটি তল্লাশি চৌকিতে গুলিতে নিহত হন এক ব্যক্তি, যিনি বিস্ফোরক বহন করছিলেন বলে র‌্যাবের ভাষ্য।
এর আগে গত ৭ মার্চ কুমিল্লায় একটি বাসে তল্লাশির সময় পুলিশের দিকে বোমা ছোড়ার পর ধরা পড়ে দুই জঙ্গি। তাদের মধ্যে একজনকে সঙ্গে নিয়ে ওই রাতে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও বোমা উদ্ধার করে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট।
এরপর ১৫ মার্চ চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড পৌর এলাকার আমিরাবাদের এক বাড়ি থেকে বিস্ফোরকসহ এক জঙ্গি দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রেমতলা এলাকায় আরেক বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখানে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ও গুলিতে এক নারীসহ চার জঙ্গি নিহত হন। পরে বোমায় বিক্ষত এক শিশুর লাশ পাওয়া যায়।
কুমিল্লা ও সীতাকুণ্ডে গ্রেপ্তার ও নিহত সবাই নব্য জেএমবির সদস্য বলে পুলিশ কর্মকর্তাদের ধারণা।- বিডিনিউজ