সর্বজনীন পেনশন রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রতিফলন

আপডেট: জানুয়ারি ২৭, ২০২৩, ১২:৪৬ পূর্বাহ্ণ

দেশের সব নাগরিককে পেনশনের আওতায় আনতে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ‘সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাপনা বিল-২০২৩’ পাস করা হয়েছে। ২৪ জানুয়ারি সংসদ অধিবেশনে পাসকৃত বিলে ১৮ বছর থেকে ৫০ বছর বয়সী সব নাগরিকের জন্য নির্ধারিত হারে চাঁদা পরিশোধ করে ৬০ বছর পূর্তির পর আজীবন পেনশন সুবিধা ভোগ করার বিধান রাখা হয়েছে।
এছাড়া বিশেষ বিবেচনায় পঞ্চাশোর্ধ্বরাও এই আইনের আওতায় নিরবচ্ছিন্ন ১০ বছর চাঁদা পরিশোধ করে পেনশন সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে স্কিমে অংশগ্রহণের তারিখ থেকে নিরবচ্ছিন্ন ১০ বছর চাঁদা দেওয়া শেষে তিনি যে বয়সে উপনীত হবেন, সে বয়স থেকে আজীবন পেনশন প্রাপ্য হবেন। আজীবন বলতে পেনশনারের বয়স ৭৫ বছর পর্যন্ত বিবেচনা করা হয়েছে।
সর্বজনিন পেনশন ব্যবস্থা চালু হলে দেশের আট কোটির বেশি মানুষ এই ব্যবস্থার আওতায় আসবে বলে সরকার আশা করছে। বিলটি পাস হওয়ায় সবার জন্য পেনশন কর্মসূচী চালু করার আইনি ভিত্তি তৈরি হলো। এখন কর্তৃপক্ষ এবং বিধিমালা তৈরি করে পেনশন ব্যবস্থা চালু করতে পারবে।
কিন্তু জাতীয় সংসদেই এই বিলের সমালোচনা করে বিরোধীরা বলছে, এই বিল অনেকটা ব্যাংকের ডিপিএসের মতো হয়ে গেছে। এখানে সরকারের অংশগ্রহণ কী হবে, তা পরিষ্কার হয়নি। পেনশন তহবিলে জমা টাকার ব্যবহার নিয়েও তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। বলা হচ্ছে- যেভাবে আইনটি প্রস্তাব করা হয়েছে, তাতে কিছু সমস্যা আছে। যেমন, একজন টাকা জমা দিয়ে যাবে, পরে সে ইন্টারেস্টসহ টাকা ফেরত পাবে। কিন্তু সরকার কী পরিমাণ টাকা দেবে, সেটা তো সুনির্দিষ্টভাবে বলা হয় নাই। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, পরবর্তীতে যে বিধিমালা তৈরি করা হবে, সেখানে এসব বিষয় উল্লেখ করা হবে।
সংসদে পাশ হওয়া আইনে বলা হয়েছে, সামাজিক নিরাপত্তা প্রদান, বেকারত্ব, ব্যাধি, পঙ্গুত্ব বা বার্ধক্যজনিত কারণে নাগরিকদের সরকারি সাহায্য দেয়া, বয়স্ক জনগোষ্ঠীকে আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে এই সর্বজনিন পেনশন ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে।
এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে শুধুমাত্র সরকারি, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী পেনশন সুবিধা পেয়ে থাকেন।
নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এটি একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী ক্ষমতাসীন দলের সরকার ‘সর্বজনিন পেনশন ব্যবস্থাপনা বিল-২০২৩’ সংসদে পাস করেছে। এটি রাজনৈতিক সদিচ্ছারই প্রতিফলন। এর বাস্তব রূপ দেয়ার জন্য আরো কিছু পক্রিয়া আছে। প্রক্রিয়া শেষেই বলা যাবে সর্বজনিন পেনশনে অংশিজনেরা কীভাবে উপকৃত হবে। তবে ইতোমধ্যেই যে প্রশ্নগুলো উঠেছে অবশ্যই সেগুলো বিবেচনার দাবি রাখে। আইন বাস্তবায়নে কেবল সামাজিক নিরাপত্তা দেয়ার বিষয়টিই যাতে মুখ্য হয়Ñ সেটাই নিশ্চিত করতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ