সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে পুলিশ

আপডেট: মার্চ ২৮, ২০১৭, ১:২৩ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


নগরীর আম চত্বর এলাকায় মোটর সাইকেল আরোহীকে তল্লাশী করছেন পুলিশ সদস্যরা- সোনার দেশ

সিলেট, চট্রগ্রাম, ও ঢাকায় সংঘটিত ঘটনার প্রেক্ষিতে রাজশাহী জেলা এবং নগরীতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। জেলা ও নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি ভবন, স্থাপনা, আদালত, শাহ মখদুম বিমানবন্দর, রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার, জেলার জঙ্গিপ্রবণ এলাকা এবং নগরীর প্রবেশদ্বারে নেয়া হয়েছে সর্বোচ্চ সতর্কতা। এমনকী পুলিশ ও র‌্যাবসহ সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা যেন হামলার শিকার না হয়- সে ব্যাপারে বিশেষ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এছাড়া রাজশাহীতে বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তার বিষয়টিও জোরদার করা হয়েছে।
নগরীতে নিরাপত্তার বিষয়ে রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র সিনিয়র সহকারী কমিশনার ইফতে খায়ের আলম বলেন, নিরাপত্তার বিষয়টি সবসময়ই সর্বোচ্চ গুরুত্বের পর্যায়ে রয়েছে। নগরীর সরকারি ও বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয়গুলোতে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা সার্বক্ষণিক নজরদারি করছেন। আদালত এলাকায় পুলিশ সদস্যের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। নগরীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কোন ধরনের ইস্যুর মাধ্যমে অরাজক পরিস্থিতি কেউ যেন সৃষ্টি করতে না পারে, সে ব্যাপারে আমরা সজাগ রয়েছি। এছাড়া নগরীর চারটি প্রবেশদ্বারসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশি করা হচ্ছে। নিয়মিতভাবে সন্দেহপ্রবণ বাড়ি ও ছাত্রাবাসে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। আরএমপি’র কমিশনার শফিকুল ইসলাম সার্বক্ষণিক দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে তিনি নিয়মিত বৈঠক করছেন। যেকোনো ধরনের নাশকতামূলক কর্মকা- প্রতিরোধে আরএমপি এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা নেয়া হয়েছে।
এদিকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হয়েছে সতর্কতা। কারাগারের বাইরে এবং মূল ফটকের সামনে নিরাপত্তারক্ষীর সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। এ ব্যাপারে সিনিয়র জেল সুপার হামিলা খাতুন বলেন, রাজশাহী কারাগারে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। কারাগারের প্রাচীরের বাইরে এবং মূল ফটকের সামনে নিরাপত্তারক্ষী বৃদ্ধি করা হয়েছে। এছাড়া রাস্তা সংলগ্ন যে ফটক দিয়ে দর্শনার্থীরা প্রবেশ করছেন সেখানেও বিশেষ নিরাপত্তারক্ষী বাড়ানো হয়েছে। নিরাপত্তরক্ষীরা দর্শনার্থীদের ভালোভাবে তল্লাশির পর ভেতরে প্রবেশ করতে দিচ্ছেন। এছাড়া করাগারের ভেতর যেসব চিহ্নিত দুর্ধর্ষ আসামি, দ-প্রাপ্ত ব্যক্তি এবং জেএমবি’র বন্দিরা রয়েছে তাদের ব্যাপারে সজাগ রয়েছি আমরা। আমরা সার্বক্ষণিক নজরদারি করছি।
রাজশাহী শাহ মখদুম বিমানবন্দরেও নেয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা। বিমানবন্দরের নিজস্ব নিরাপত্তারক্ষী, আনসার এবং পুলিশ সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন। বিমানবন্দরের পার্শ্ববর্তী রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কের পাশ থেকে মূল ফটক পর্যন্ত সাদা পোশাকে নজরদারি রয়েছে। এছাড়া বিমানবন্দরে প্রবেশকারী যাত্রী এবং তাদের সঙ্গে আগতদের ব্যাপারে সজাগ রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। তাদের তল্লাশি করে ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে।
এদিকে নগরীর শাহ মখদুম দরগাহ এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। এছাড়া বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের সময়ে নগরীর যেসব এলাকায় একসময় জামায়াত-শিবির কর্মীরা নিয়ন্ত্রণ করতো, সেসব এলাকাতে সার্বক্ষণিক টহল দিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এসব এলাকাতে আকস্মিকভাবে কোন গোষ্ঠি যেন নাশকতামূলক কর্মকা- চালাতে না পরে, সে ব্যাপারে সজাগ রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এসব এলাকায় সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা সার্বক্ষণিক নজরদারি করছেন।
জেলায় সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ সম্পর্কে রাজশাহীর পুলিশ সুপার (এসপি) মেয়াজ্জেম হোসেন ভুইয়া বলেন, আমরা নিরাপত্তার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়েছি। পুলিশ সদর দফতর থেকে বিশেষ নির্দেশনা দেয়ার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো জোরদার করা হয়েছে। ইতোমধ্যে মহান স্বাধীনতা দিবসের সকল কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে পালিত হয়েছে। জেলার কোথাও কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে নি। জেলার সর্বত্র আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সজাগ রয়েছেন। আর যেকোনো ধরনের নাশকতামূলক কর্মকা- প্রতিরোধে আমরা ‘জিরো টলারেন্স’ এ রয়েছি।
প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশজুড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ সদর দফতর। চট্টগ্রামের মীরসরাই ও সীতাকু-, ঢাকার আশকোনা এবং সিলেটের দক্ষিণ সুরমাসহ কয়েকটি স্থানের ঘটনায় শনিবার (২৫ মার্চ) রাতে দেশের ৬৪ জেলার পুলিশ সুপারকে (এসপি) এ সতর্ক বার্তা দেয়া হয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ