সহনশীল পরিবেশ সৃষ্টির পক্ষে মত দিলেন রাজনৈতিক নেতারা

আপডেট: জুলাই ২৫, ২০১৭, ১১:৫৭ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


আলোচনা সভায় রাজশাহীর বিভিন্ন দলের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ-সোনার দেশ

দেশ ও জনগণের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে সহনশীল পরিবেশ সৃষ্টির পক্ষে মত দিয়েছেন রাজশাহীর স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে রাজশাহী মহানগরীর মাস্টার শেফ সম্মেলন কক্ষে ‘সমৃদ্ধ রাজনৈতিক পরিবেশ: প্রতাশা ও করণীয়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় স্থানীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এই অভিমত প্রকাশ করেন।
সম্মেলনে একই মঞ্চে আওয়ামীলীগ ও বিএনপির স্থানীয় নেতারা উপস্থিত থেকে সরকার ও দেশ পরিচালনা এবং নির্বাচন নিয়ে গঠনমূলক সমালোচনা করেন। এ সময় তারা অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক চর্চা এবং সংলাপের মাধ্য দলগুলোর মাধ্যে দূরত্ব কমানোর ব্যাপারে একমত হন। এছাড়া সুস্থ ধারার রাজনৈতিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানান।
ইউকে এবং ইউএসএইডের সহযোগিতায় ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি মো. বদরুজ্জামান রবু। এছাড়া জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট তোফাজ্জাল হোসেন তপু, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান মন্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন, জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মর্জিনা পারভিন, রাজশাহী বরেন্দ্র উন্নয়ন প্রচেষ্টার পরিচালক ফয়জুল্লাহ চৌধুরী, দৈনিক সোনার দেশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হাসান মিল্লাত বক্তব্য রাখেন।
মূল বক্তব্য তুলে ধরেন ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের সিনিয়র রিজিওনাল কোর্ডিনেটর আফসানা বেবী।
বক্তারা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য রাজনৈতিক দলগুলো করণীয়, স্থানীয় প্রশাসন কীভাবে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেতে পারে, সহনশীল রাজনৈতিক পরিবেশ কেন দরকার, নাগরিক সমাজ কীভাবে এতে সহায়তা করতে পারে, সহাবস্থানের জন্য কী কী করা যেতে পারে ইত্যাদি বিষয়ে সুনির্দিষ্ট মতামত প্রকাশ করেন।
আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ বলেন, সমৃদ্ধ রাজনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টিতে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোকে মৌলিক বিষয়গুলোর সাথে ঐকমত্য ও বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতিটি স্তর জাতির গৌরব ও মর্যাদার সাথে জড়িয়ে আছেÑ এগুলোকে অস্বীকার করে উন্নত রাজনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টি করা দুরুহ ব্যাপার। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি নিবিড় আস্থা ও বিশ্বাস এবং জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে স্পষ্ট রাজনৈতিক অবস্থানই উন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।
বিএনপি নেতৃবৃন্দ বলেন, সকল রাজনৈতিক অরাজকতার পেছনে রয়েছে হাইব্রিড নেতাদের কর্তৃত্ব। তাদের কারণে রাজনীতিতে সহিষ্ণুতার অভাব দেখা দিয়েছে। তারা অবৈধ অর্থ রক্ষায় পেশি শক্তির ব্যবহার করছে। এই হাইব্রিড নেতা কর্মীদের হাত থেকে রাজনীতিকে মুক্ত করতে হবে।
বিএনপি নেতারা বলেন, শাসন ক্ষমতা এখন জনগণের হাতে নেইÑ সেখানে অন্য শক্তির উত্থান হয়েছে। যে শক্তি রাজনৈতিক শক্তিকে উঠে দাঁড়াতে দিচ্ছে না।