সহপাঠীকে জন্মদিনে উইস করায় সমালোচনার মুখে রাবি ছাত্রলীগ নেতা

আপডেট: June 2, 2020, 9:48 pm

রাবি প্রতিবেদক:


সহপাঠীকে ‘নেত্রী’ সম্বোধন করে জন্মদিন উইস করায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মো. মেজবাহুল ইসলাম। গত সোমবার (১ জুন) তার ফেসবুকে নিজ টাইমলাইনে উইস করেন তিনি। এর কিছুক্ষণ পর ফেসবুকে স্টাটাস দিয়ে সমালোচনা করে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা-কর্মী।
এ ঘটনায় মেজবাহুল ইসলাম ও তার সহপাঠী মেহরিন জাহান মিতু উভয়ই বিব্রতবোধ করে বলেন, ‘ব্যক্তিগত আক্ষেপ এবং রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার লক্ষ্যেই তারা সামাজিক মাধ্যমে এমন মন্তব্য করছেন।’
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ‘২০১৮ সালে ১৬ ডিসেম্বরে ছায়া জাতিসংঘের পক্ষ থেকে মহান বিজয় দিবসে শহীদ মিনারে ফুল দেয়া শেষে ছাত্রদলের এক বন্ধুর সাথে দেখা হয় মিতুর। একই সময় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ব্যানারেও পুষ্পস্তবক অর্পণ কার্যক্রম চলতে থাকে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকায় সেখানে কয়েকজন শিক্ষক মিতুকে ফুলের ডালাটি ধরতে বলে। প্রথমে শিক্ষক সমিতি শিক্ষকদের সংগঠন ভেবেই ডালাটি হাতে নেয়, পরবর্তীতে জানতে পারে সেটা শিক্ষক সমিতির কোন প্রোগ্রাম ছিল না। সেটা ছিল ছাত্রদলের প্রোগ্রাম। পরে ছাত্রলীগ রাবি শাখার সভাপতি গোলাম কিবরিয়া ও সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনুর সাথে কথা বলে বিষয়টির ইতি টানে। পরবর্তীতে তার সহপাঠী মেজবাহুল ইসলাম নেত্রী সম্বোধন করে জন্মদিনে উইস করায় আবারও বিষয়টি আলোচনায় নিয়ে আসেন ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা।
এদিকে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে স্টাটাস দেয়ার মাধ্যমে সমালোচনা করেন ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী। জানতে চাইলে রাবি শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সুপ্ত সাহা বলেন, ‘এক সময় মিতু ছাত্রদল করতো, এখন ছাত্রলীগে আসতে চাইছে। আর এটা ঢাকার জন্যই তিনি মিথ্যা বলছেন। এ বিষয়ে যারা প্রতিবাদ করেছেন তরা কেউ চায় না ছাত্রলীগে এধরণের কর্মী প্রবেশ করুক।’
জানতে চাইলে মেহরিন জাহান মিতু বলেন, ‘২০১৮ সালে ১৬ ডিসেম্বর ছায়া জাতিসংঘের পক্ষ থেকে মহান বিজয় দিবসে শহীদ মিনারে ফুল দিতে যাই। ফুল দেয়া শেষে তারুণ্য ৬৩’র সভাপতি মাহমুদুল মিঠু নামের আমার এক বন্ধু আমার সাথে কথা বলে। আমরা পাশেই থাকায় সেখানে কয়েকজন শিক্ষক আমাদের ফুলের ডালা ধরতে দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক যখন একজন শিক্ষার্থীকে একটা ফুলের ডালা ধরতে বলে তখন নিশ্চই সেটা শ্রদ্ধার জায়গা থেকে ধরা আমাদের কর্তব্য। শিক্ষক সমিতি শিক্ষকদের সংগঠন বলে স্বাভাবিকভাবেই মনে হয়েছে। পরবর্তীতে জানতে পারি সেটা শিক্ষক সমিতির কোন প্রোগ্রাম ছিল না। সেটা ছিল ছাত্রদলের প্রোগ্রাম। বুঝতে পারার পরপরই আমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া ও সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু ভাইকে ব্যপারটা খুলে বলেছি। তখনই মিটমাট হলেও জন্মদিনে উইস করাকে কেন্দ্র্র বেশ কিছু ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা আবারও বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছেন। এতি আমি বিব্রতবোধ করছি।
কেন তারা এমনটা করছেন এই প্রশ্নের জবাবে মিতু বলেন, কারণ টা আমার জানা নেই, হয়তবা ব্যক্তিগত আক্ষেপের জায়গা থেকে তারা এমন করছেন।
ছাত্রদলের সাথে মেহরিন জাহান মিতুর কোন ধরণের সম্পৃক্ততা নেই বলে জানিয়েছেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা ছাত্রদল রাবি শাখার সদস্য ও তারুণ্য ৬৩’র সভাপতি মাহমুদুল মিঠু। তিনি বলেন, আমরা প্রতি বছরের মত শহীদ মিনারে ফুল দিতে যাচ্ছিলাম। এমন সময় মিতুকে দেখে কথা বলি। তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি পন্থী শিক্ষক তৎকালীন কলা অনুষদের ডীন অধ্যাপক শহীদুল হক স্যার। মিতু কলা অনুষদের শিক্ষার্থী জানার পর তিনি ফুল ধরতে বলেন। স্যারের কথা শুনে মিতু ফুল হাতে নেয়। আর এই ঘটনাকে রং মাখিয়ে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী সমালোচনার সৃষ্টি করে।
ফেসবুকে নেত্রী সম্বোধন করে উইস করার কারণে প্রথমত সমালোচনায় পড়ে মেহরিন জাহান মিতু, পরে তা গড়িয়ে পরে রাবি শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মেজবাহুল ইসলামের দিকে। জানতে চাইলে মেজবাহুল ইসলাম বলেন, ‘মিতু আমার সহপাঠী। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষ থেকেই সে আমার খুব কাছের বন্ধু। অনেক ভালো সম্পর্ক থাকায় প্রথম বর্ষ থেকে আমি মিতুকে নেত্রী বলে ডাকি। সর্বশেষ তার জন্মদিনে ‘নেত্রী’ বলে উইস করার কারণে ফেসবুকে আমাকে নিয়ে স্টাটাস দেয়া হয়। রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার লক্ষ্যেই তারা এ ধরণের কাজ করছে বলে আমি মনে করি।
এবিষয়ে জানতে চাইলে রাবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু বলেন, ‘ছাত্রদলের সাথে মেহরিন জাহান মিতুর কোন ধরণের সম্পৃক্ততা নেই। বিজয় দিবসের দিনে শহীদ মিনারে ফুল দেবার আগে ব্যানারের দিকে লক্ষ্য না করেই তিনি ফুলের ডালাটি হাতে নিয়েছিলেন। পরে যখন লক্ষ্য করলো এটি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ব্যানার, তখন যত তারাতারি সম্ভব ঘটনাস্থল থেকে সরে আসেন। পরে আমাকে এবং সভাপতি গোলাম কিবরিয়াকে বিষয়টি অবগত করে। মিতু একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। তাকে নিয়ে অনেকেই নানা মন্তব্য করেছেন, বিষয়টি ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছেও খারাপ লেগেছে। হয়তবা ব্যক্তিগত আক্ষেপের জায়গা থেকে এমনটা করেছে, তারপরেও আমি কয়েকজনকে এধরণের কর্মকাণ্ড থেকে সরে আসতে বলেছি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ