সহায়ক সরকারে অনড় নয় বিএনপি

আপডেট: সেপ্টেম্বর ৬, ২০১৭, ১:১২ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


নির্বাচনকালীন সময়ে নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের দাবি তুললেও বিষয়টির উপর অনড় না থেকে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতার পথ খোলা রাখতে চায় বিএনপি।
মঙ্গলবার বিকালে উত্তরার বাসায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই অবস্থানের কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, “আমরা এখনো সংঘাতে যেতে চাই না, আমরা সংঘাত এড়িয়ে যেতে চাই। আমরা সত্যিকার অর্থেই একটা শান্তিপূর্ণ পরিবেশের মধ্যে আগামী নির্বাচন হোক- সেটা আমরা চাই, সিরিয়াসলি চাই। আমরা কখনোই চাই না যে সেই অতীতের পুনরাবৃত্তি হোক।
“আমরা নির্বাচনকালীন সময়ে সত্যিকার অর্থে একটা নিরপেক্ষ সহায়ক সরকার চাই। এটা কিন্তু রিজিড ব্যাপার নয়। আমরা এ নিয়ে আলোচনা করতে চাই, সমঝোতা করতে চাই। আমরা সব সময় আশা করে আছি, সরকারের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে।”
তবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হতে হলে শেখ হাসিনাকে অবশ্যই ক্ষমতা থেকে সরে যেতে হবে মন্তব্য করেন মীর্জা ফখরুল।
“জনগণের এই সরকারের প্রতি আস্থা নেই। আমিই সব- এই দাম্ভিকতা পরিহার করতে হবে। আমি সবকিছু চাপিয়ে দেব- সেই ধারণা বদলাতে হবে।”
দলের অসংখ্য নেতা-কর্মী ও সম্প্রতি কল্যাণ পার্টির মহাসচিব এম এম আমিনুর রহমানকে খুঁজে বের করে দেয়া সরকার ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিকাল ৪টায় উত্তরার ৮ নং রোডের ৪ নং সেক্টরের বাসায় সাংবাদিকদের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন বিএনপি মহাসচিব। এরপর সমসাময়িক রাজনীতিসহ নানা বিষয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবও দেন তিনি।
‘জঙ্গি রাষ্ট্র বানানোর ষড়যন্ত্র চলছে কি না’
জঙ্গি নির্মূলে সরকারের কর্মকাণ্ডের পেছনে ‘জঙ্গি রাষ্ট্র বানানোর কোনো চক্রান্ত’ হচ্ছে কি না তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেন মির্জা ফখরুল।
“এটা (জঙ্গি খুবই সেনসেটিভ একটা ইস্যু। আমরা বার বার বলেছি যে, ট্রান্সপারেন্ট হোন, স্বচ্ছ হোন। যাকে ধরছেন তাকে মেরে না ফেলে, তাকে তদন্ত করুন এবং এর পেছনে কারা আছে, কারা অর্থ যোগান দিচ্ছে, সংগঠক কারা, কারা কী করছে- তা বের করে নিয়ে এসে জনগণের সামনে তুলে ধরুন- এটা সবচেয়ে বড় দরকার।
“তা না করে যেটা করছেন, মেরে ফেলছেন। মেরে ফেলে যেটা হচ্ছে যে, সন্দেহ তৈরি হচ্ছে, স্বাভাবিকভাবেই স্বচ্ছতা থাকছে না, লোকে মনে করছে যে সত্যি সত্যি কী তারা জঙ্গিৃ অনেক গল্প আছে এগুলো নিয়ে। কেন জানি না, আই ডোন্ট নো এক্সাক্টলি। আমার কাছে যেটা মনে হয়ৃ বাংলাদেশকে কি একটা জঙ্গি রাষ্ট্র তৈরি করবার জন্যই ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত চলছে। এটা কিন্তু খুব ইম্পোর্টেন্ট।”
দেশে ফিরছেন খালেদা
লন্ডনে খালেদা জিয়া তার পায়ের চিকিৎসা শেষ করে আগামী সপ্তাহে দেশে ফিরছেন বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব।
তিনি বলেন, ‘‘উনার (খালেদা জিয়া) আর্থাইটিসের যে ব্যাথাটা আছে, উনি মাঝে মাঝে অত্যন্ত অসুস্থ হয়ে পড়েন। এটা চিকিৎসা চলছে এখন। আমরা আশা করি যে, আগামী সাপ্তাহের মধ্যে এটা শেষ হবে। এরপরই উনি চলে আসবেন।”
রোহিঙ্গাদের ইস্যু জাতিসংঘের তোলার আহ্বান
মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির উপর চলমান নিপীড়নের ফলে বাংলাদেশমুখী হাজার হাজার রোহিঙ্গার ঢলের সৃষ্ট মানবিক সংকট জাতিসংঘে কাছে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল।
তিনি বলেন, “আজকে রোহিঙ্গারা যে ধর্মেরই হোক, যে জাতির হোক তারা মানুষ তো। নারী-শিশু নিয়ে কিভাবে আসছে ছবি দেখলে নিজেদেরকে সামলে রাখা যায় না। তাদেরকে আজকে আমরা জায়গা পর্যন্ত দিচ্ছি না। তাদেরকে এই পাড়ে বন্দুক নিয়ে পাহারা দিচ্ছে যাতে তারা ঢুকতে না পারে- এটা অমানবিক।”
মিয়ানমারের সঙ্গে মালদ্বীপের সম্পর্ক ছিন্ন করা ও রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্ররমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরের প্রসঙ্গ তুলে ফখরুল বলেন, “সেখানে আমাদের ভূমিকাটা কী হচ্ছে? আমরা মানুষগুলোকে তো আশ্রয় দিচ্ছি না। কোনো পদক্ষেপও আমরা নিচ্ছি না এসব বন্ধ করার জন্য।
“দুঃখজনক হল যে, মিয়ানমারের মূল যিনি পরিচালক অং সান সুচি- তিনি নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন শান্তির জন্যে। তার দ্বারা আজকে এই মানবিক অপরাধ মানবতাবিরোধী কাজটি হচ্ছে। আমরা এর নিন্দা জানাই। অবিলম্বে সুচিকে এই সহিংসতা বন্ধ করার জন্য আমরা আহ্বান জানাচ্ছি।”
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ