সাঁথিয়া হানাদার মুক্ত দিবস আজ

আপডেট: ডিসেম্বর ৯, ২০১৬, ১২:০৬ পূর্বাহ্ণ

সাঁথিয়া প্রতিনিধি


আজ ঐতিহাসিক ৯ ডিসেম্বর। এদিনে পাবনার সাঁথিয়া থানা সম্পূর্ণ হানাদার মুক্ত দিবস হিসেবে পালন করা হয়। ১৯৭১ সালের এদিনে পাবনার সাঁথিয়া থানা সম্পূর্ণ শত্রু মুক্ত হয়েছিল। মুক্তিযোদ্ধারা বিজয়ের পতাকা হাতে নিয়ে এদিন বিজয় উল্লাস প্রকাশ করেছিলেন।
ইতিহাস সূত্রে জানা যায়, ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের আহ্বানে সারা দিয়ে তৎকালীন জাতীয় পরিষদ সদস্য আ’লীগ নেতা অধ্যাপক আবু সাইয়িদ এর নির্দেশে সাঁথিয়া হাইস্কুলের তৎকালীন শিক্ষক রুস্তম আলী, তোফাজ্জল হোসেন, কাশিনাথপুর হাইস্কুলের শিক্ষক আয়েজ উদ্দিন প্রমুখ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এলাকার ছাত্র সমাজ ও যুব তরণদের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিতে উদ্বুদ্ধ করতে থাকেন। যুদ্ধ অনিবার্য এটা আঁচ করতে পেরে স্বাধীনতাকামীদের নিয়ে সাবেক সাঁথিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিনের নেতৃত্বে এলাকার ছাত্র যুব তরুণরা সংগঠিত হতে থাকে। সাঁথিয়া হাইস্কুল মাঠে এরা প্রশিক্ষণ নিতেও শুরু করে। থানার তৎকালীন ওসি মোহাম্মদ আলী এ সময় সুকৌশলে অস্ত্র-সস্ত্র দিয়ে যুদ্ধ প্রশিক্ষণে সহযোগিতা করেন। সেনা সদস্য কাজী মোসলেম উদ্দিন মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষন দেন। ২৭ মার্চ সাঁথিয়া পশু হাসপাতাল প্রাঙ্গনে যুদ্ধকালীন কমান্ডার নিজাম উদ্দিন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা ফজলুল হক, মকবুল হোসেন মকুল, লোকমান হোসেন, রেজাউল করিম, আলতাব হোসেন, আবু মুসা, আবু হানিফ, মোসলেম উদ্দিন, তোফাজ্জল হোসেন, আব্দুল ওহাব, সোহরাব, রউফ, মতিনসহ যুব তরুণরা বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। দীর্ঘ ৯ মাস সাঁথিয়ার বিভিন্ন স্থানে পাকসেনাদের সাথে সম্মুখ যুদ্ধে বীরমুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক, নজরুল ইসলাম (চাদু), আব্দুস সামাদ, দারা হোসেন, শাহজাহান আলীসহ অসংখ্য নিরীহ মানুষ শহীদ হন। এ সময় সাঁথিয়া থানার বিভিন্ন গ্রামের সহস্রাধিক মানুষকে স্থানীয় রাজাকারদের সহায়তায় পাকবাহিনী নৃশংসভাবে হত্যা করে। এলাকার শত শত যুবতী ও মহিলারা সম্ভ্রম হারান। সাঁথিয়ায় পাকসেনারা এলাকায় বহু লোকের ঘর-বাড়ি জালিয়ে পুড়িয়ে দেয় ও ব্যাপক লুটপাট চালায়। ৮ ডিসেম্বর সাঁথিয়ার সকল মুক্তিযোদ্ধারা একত্রিত হয়ে থানা সদর থেকে ২ কিলোমিটার পশ্চিমে নন্দনপুরে পাক হানাদারদের সাথে চূড়ান্ত মোকাবিলায় অবতীর্ণ হন। মুক্তিযোদ্ধাদের তুমুল আক্রমনে টিকতে না পেরে পাকসেনারা পিছু হটতে বাধ্য হয়। পরদিন ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে পাক হানাদাররা আবার সাঁথিয়া আক্রমনের উদ্দেশ্য আসতে থাকে। মুক্তিযোদ্ধারা বিষয়টি আঁচ করতে পেরে সাঁথিয়া-মাধপুর সড়কের নন্দনপুর-জোড়গাছার মধ্যবর্তী ব্রিজটি বোমা মেরে উড়িয়ে দেয় এবং বাঙ্কার তৈরি করে সেখানেই তারা অবস্থান নেয়। সেদিন বীরমুক্তিযোদ্ধাদের তীব্র বাধার মুখে পাক সেনারা আবার পিছু হটতে বাধ্য হয়। পরদিন ৯ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধারা সাঁথিয়া থানা চত্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন বাংলাদেশের বিজয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে সাঁথিয়া থানাকে শত্রুমুক্ত ঘোষণা দেন। সাঁথিয়া মুক্তিযোদ্ধা সংসদ দিনটি যথাযথভাবে পালনের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ