সাংবাদিককে পুলিশ কর্মকর্তার ক্রসফায়ারের হুমকি|| মানবাধিকার কমিশনে অভিযোগ

আপডেট: নভেম্বর ১৩, ২০১৬, ১২:০৩ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক



স্থানীয় এক সাংবাদিককে ক্রসফায়াররে হুমকি দিয়েছেন রাজশাহীর তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মির্জা আব্দুস সালাম। দৈনিক যুগান্তরের তানোর উপজেলা প্রতিনিধি ইমরান হোসাইনকে এ হুমকি দেয়া হয়। শুধু তাই নয়, ইতোমধ্যে চাঁদাবাজি ও অপহরণের মতো মিথ্যা অভিযোগ এনে গাঁজা ব্যবসায়ী এবং তার প্রতিপক্ষ খুঁজে বের করে তাদের দিয়ে দু’টি মামলা করান ওসি।
এসব মামলা রেকর্ড করে প্রতিনিয়িতই তাড়িয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছেন ওসি মির্জা আব্দুস সালাম। সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী ও স্থানীয় সাংসদ ওমর ফারুক চৌধুরী ওসিকে সাজানো মামলা প্রত্যাহার করার নির্দেশ দিলেও বিষয়টি আমলে নেননি ওসি। তার এই ধরনের আচরণে ঘরছাড়া হয়ে আছেন ওই সাংবাদিক।
ওসির এ ধরনের কর্মক-ে জীবন ও অধিকার রক্ষায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান বরাবর একটি আবেদন করেছেন সাংবাদিক ইমরান হোসাইন। গত বুধবার (৯ নভম্বের) মানবাধিকার কমিশনে আবেদন করেন এই সাংবাদিক। এছাড়া যুগান্তরের পাশপাশি দৈনিক করতোয়া ও রাজশাহী থেকে প্রকাশিত দৈনিক উত্তরা প্রতিদিন পত্রিকার তানোর উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন ইমরান।
মানবাধিকার কমিশনে করা আবেদনে ইমরান জানিয়েছেন, বর্তমান ওসি থানায় যোগদান করেই গ্রেফতার বাণিজ্যে নেমে পড়েন। এলাকার মানুষ অতিষ্ট হয়ে বিষয়টি নিয়ে সংবাদ কর্মীদের দ্বারস্থ হন। এরপর ওসির গ্রেফতার বাণিজ্য নিয়ে অনুসন্ধানি প্রতিবেদন করেন তিনি। প্রতিবেদনটি প্রথমে বরেন্দ্র নিউজ নামের স্থানীয় একটি অনলাইন পত্রিকায় গত ২৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হয়। এতে ওসি ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিপক্ষ আব্দুল মান্নানকে বাদী করে ইমরানের বিরুদ্ধে গত ২৭ সেপ্টেম্বর ‘মিথ্যা’ অভিযোগে চাঁদাবাজির সাজানো মামলা থানায় রুজু করেন। পরে দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় ওসির বিরুদ্ধে আরো একটি প্রতিবেদন গত ২৮ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হয়।
যুগান্তর পত্রিকায় খবর প্রকাশের পর ওসির আক্রোশের শিকার হন স্থানীয় এই সাংবাদিক। ওসির এ ধরনের  বেপরোয়া অবস্থা বুঝে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে গত ২ অক্টোবর প্রতিকারের জন্য আবেদন জানান ইমরান। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৬ অক্টোবর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমিত চৌধুরী থানায় গিয়ে গোপনে ও প্রকাশ্যে ওসির অনিয়ম তদন্ত করেন। পরে আরও বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এডিশনাল ডিআইজি নিশারুল আরিফ ১৫ অক্টোবর থানায় গিয়ে তদন্ত করেছেন।
ওসির অনিয়ম তদন্তের খবর রাজশাহী থেকে প্রকাশিত একটি পত্রিকায় গত ১৭ অক্টোবর প্রকাশিত হলে ওসি ক্ষিপ্ত হয়ে গত ৩০ অক্টোবর পুলিশের সোর্স উপজেলার যশপুর গ্রামের কফিলকে দিয়ে অপহরণ ও চাঁদাবাজির অভিযোগে রাজশাহীর আদালতে মামলা করান।
এরপর থেকে এলাকা ছাড়তে হয় সাংবাদিক ইমরানকে। কিন্তু তাতেও ওসির ক্ষুব্ধতা কমে নি। তার একাধিক সোর্স দিয়ে আরও ৫০টি মামলা আদালত ও থানায় করানোর হুমকি দেন ওসি। তাদের সোর্সদের মাধ্যমে ক্রসফায়ারে হত্যা করাও হুমকি দেন ওসি।
এদিকে পুলিশের আইজিপি বরাবর প্রতিকারের আবেদনের পর পুলিশ হেডকোয়ার্টার থেকে সহকারী পুলিশ সুপার (ডিএন্ডপিএস) শাহজার হোসেন শরীফ তদন্ত শুরু করেছেন ওসির বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মির্জা আব্দুস সালাম বলেন, সাংবাদিক ইমরান উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে আমার বিরুদ্ধে সংবাদ পরিবেশন করেছেন। আর যারা তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন, তাদেরকে আমি চিনি না। তাই এ ব্যাপারে কিছু বলতো পারবো না।