সাংবাদিককে সহযোগিতা করায় বদলি হলেন কর্মকর্তা

আপডেট: এপ্রিল ১৬, ২০২৪, ৯:০৫ অপরাহ্ণ

নওগাঁ প্রতিনিধি:


নওগাঁর রাণীনগরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় শাস্তি হিসেবে বদলি হলেন এক কর্মকর্তা। এমন ঘটনায় অন্যায়কারী শাস্তি না পেয়ে প্রতিবাদকারী শাস্তি পাওয়ায় অন্যান্য কর্মকর্তাদের মাঝে এক আতঙ্ক বিরাজ করছে।

তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায় যে, গত জানুয়ারি মাসে শেষ হওয়া দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচনকালীন সরকারি খরচের অর্থ হরিলুট করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার উম্মে তাবাসসুম। তিনি সরকারি নির্ধারিত কেন্দ্র খরচ প্রদান করেন নিজের ইচ্ছে মাফিক। উপজেলায় বছরের পর বছর চাকরি করছেন এমন কয়েকজন কর্মকর্তার সহযোগিতায় ইউএনও নির্বাচনকালীন প্রদান করা সরকারি খরচের অর্থের আনুমানিক ১০-১৫ লাখ আত্মসাৎ করেন।

সংসদ নির্বাচনে উপজেলার ৫৪টি কেন্দ্রের ৩৬৫টি স্থায়ী বুথ আর ৬৯টি অস্থায়ী বুথের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন কমিশনারের পক্ষ থেকে ভোট গ্রহণের কার্যক্রম পরিচালনায় প্রতিটি কেন্দ্রের জন্য রশি ও অন্যান্য স্টেশনারী সরঞ্জাম কেনার জন্য ২ হাজার টাকা অথবা এর অধিক টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়। এছাড়া অস্থায়ী কক্ষের খরচের জন্যও আলাদা অর্থ বরাদ্দ প্রদান করা হয়।

সেখানে ৮টি বুথের নিচের নির্বাচনী কেন্দ্রের খরচ হিসেবে মাত্র ১ হাজার টাকা, ৮টি বুথের উপরের কেন্দ্রে কাউকে দেড় হাজার আবার কাউকে ২ হাজার টাকা খরচ হিসেবে অর্থ প্রদান করেন ইউএনও। এতে করে কেন্দ্রে যাওয়ার পূর্ব মুহূর্ত্বে উপজেলার অধিকাংশ প্রিজাইডিং কর্মকর্তারা বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানাতে গেলে সেখানে এক অপ্রীতিকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

এরপর কোনো সমাধান না পাওয়ায় প্রিজাইডিং কর্মকর্তারা সরকারি দায়িত্ব পালনে স্ব স্ব ভোট কেন্দ্রে চলে যান। এরপর ভোট সম্পন্ন করে উপজেলা পরিষদে আসলে ইউএনও সাদা কাগজে প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর নিয়ে সকল নির্বাচনী সরঞ্জাম গ্রহণ করেন। এমনকি নির্বাচনী ফলাফল প্রদানের সময় ফলাফল কেন্দ্রে উপস্থিত সংশ্লিষ্ট কারো জন্য কোনো অ্যাপায়নের ব্যবস্থা ছিলো না। তাই ভোটের ফলাফল প্রকাশে কন্ট্রোলরুমের খরচ হিসেবে বরাদ্দকৃত ২ লাখ ৯৩ হাজার টাকার খরচ নিয়ে ব্যাপক গুঞ্জনের সৃষ্টি হয়।

এছাড়া নির্বাচনী সংশ্লিষ্ট সকল সরঞ্জাম পরিবহনের ক্ষেত্রে প্রতিটি কেন্দ্রে পরিবহন খরচের জন্য বরাদ্দ ছিলো ৫ হাজার করে টাকা। সেই অর্থ প্রদান করতে সংশ্লিষ্ট থানার ওসি ও নির্বাচন কর্মকর্তার সমন্বয়ে করতে হয়। কিন্তু রাণীনগর উপজেলার চিত্র পুরোপুরি ছিলো উল্টো। এখানে থানার ওসি ও নির্বাচন কর্মকর্তা কাউকেই অবগত না করে ইউএনও গাড়ি প্রতি তার ইচ্ছে মাফিক টাকা প্রদান করেন। বিষয়গুলো জেলা প্রশাসক স্যারসহ অন্যান্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়।

জেলার অন্যান্য উপজেলায় নির্বাচনী কেন্দ্র খরচ সঠিকভাবে বণ্টন হলেও রাণীনগর উপজেলার অনিয়মের বিষয়টি গণমাধ্যমকর্মীরা জানতে পেরে তথ্য সংগ্রহ করে গত জানুয়ারি মাসের ১৭ তারিখে দেশের জাতীয়, আঞ্চলিক ও বিভিন্ন অনলাইন মিডিয়ায় ‘নওগাঁয় নির্বাচনী কেন্দ্র খরচ প্রদানে ইউএনও’র নয়-ছয়ের অভিযোগ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করেন। সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের চাপে উপজেলার প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের কিছু পরিমাণ টাকা ফেরত দেন ইউএনও উম্মে তাবাসসুম।

তথ্যানুসন্ধানে আরো জানা যায় যে, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সাংবাদিকদের অর্থ দিয়ে ইউএনও’র বিরুদ্ধে মিথ্যে সংবাদ প্রকাশ করেছে মর্মে নির্বাচন কমিশন বরাবর অভিযোগ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে তাবাসসুম। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন সম্প্রতি উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুল মোমেনকে গাইবান্ধা জেলার সাদুল্লাপুর উপজেলায় বদলি করা হয়েছে।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. তারিফুজ্জামান বলেন আব্দুল মোমেন ২০২১সালের ডিসেম্বরের ৫ তারিখে রাণীনগর উপজেলায় নির্বাচন অফিসার হিসেবে যোগদান করেন। নিয়মানুসারে তার বদলির সময় হয়ে গেছে। তাই কোনো অভিযোগের ভিত্তিতে নয় নিয়মিত বদলির নিয়মানুসারে কমিশন তাকে বদলি করেছে।