সাংবাদিক স্বপনের ওপর সন্ত্রাসী হামলার দায়সারা চার্জশিট : পুনঃতদন্তের আবেদন

আপডেট: নভেম্বর ৪, ২০১৯, ১:১৩ পূর্বাহ্ণ

পাবনা প্রতিনিধি


পাবনায় কর্মরত ‘সংবাদ’ এর স্টাফ রিপোর্টার হাবিবুর রহমান স্বপনের ওপর সন্ত্রাসী হামলার দায়সারা গোছের চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ। তাও মামলার বাদী হাবিবুর রহমান স্বপনকে জানানো হয়নি। অতি গোপনে চার্জশিটটি আদালতে (অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদলতে) পাঠানো হয় গত ৯ এপ্রিল। তিনজন আসামীর বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়েছে। মামলার বাদি এবং ভিকটিম হাবিবুর রহমান স্বপন এই তদন্ত রিপোর্টে নাখোশ হয়ে উচ্চ আদালতে (জেলা জজ আদালত, পাবনা) ‘না রাজি’ আবেদন করেছেন। তিনি মামলাটি পুনঃতদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) অথবা সিআইডিকে প্রদানের আবেদন করেছেন।
যাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট প্রদান করা হয়েছে তারা হলো ১. মো. সাদ্দাম হোসেন, পিতা- মৃত তারা শেখ, গোপালপুর (সুচিত্রা সেনের গলি (পাবনা); ২. মো. ইমরান হোসেন সাব্বির (২৪) পিতা-মো. বাবর আলী, সাং কেষ্টপুর সালাম মিয়ার গলি, পাবনা; ৩. মো. আজমল হোসেন রানা (৩২) পিতা আব্দুল খালেক, সাং-দক্ষিণ রাঘবপুর (অনন্ত মোড়), পাবনা। পাবনা সদর থানার সাব ইন্সপেক্টর (ওসি তদন্ত) মো. আসাদুজ্জামান এই চার্জশিট দাখিল করেছেন।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে সাংবাদিক হাবিবুর রহমান স্বপন ২০১৮ সালের ১৩ অক্টোবর রাত ১০ টা ৪০ মিনিটে পাবনা প্রেসক্লাব থেকে রিক্সা যোগে শহরের দিলারপুরস্থ বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হলে সেবা হাসপাতালের সামনে পৌঁছালে হেলমেট পরিহিত মোটর সাইকেলযোগে তিনজন সন্ত্রাসী তার (হাবিবুর রহমান স্বপন) রিক্সার গতিরোধ করে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে লোহার রড দিয়ে এলোপাথারি মারপিট করে। ফলে তার মাথায় জখমসহ হাতের হাড় ও কনুই ভেঙে ডিসপ্লেস হয়ে গুরুতর ছোলা ফোলা জখম হয়। বাদীর চিৎকারে লোকজন এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।
পুলিশ সিসি ফুটেজ দেখে আসামীদের সনাক্ত করেছেন বলে তদন্ত রিপোর্টে উল্লেখ করেছেন। আরও উল্লেখ করেছেন আসামী সাদ্দাম হোসেন স্বেচ্ছায় আদালতে ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে। এছাড়া সাদ্দাম হোসেন আদালতে ১৬৪ ধারায় প্রদত্ত জবানবন্দীতে আরও বলেছেন সাংবাদিক হাবিবুর রহমান স্বপন তার দল বিএপির বিরুদ্ধে সংবাদ পরিবেশন করায় সে এবং তার সহযোগীরা ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে (হাবিবুর রহমান স্বপনকে) আক্রমণ করে মারপিট করেছে। পুলিশী রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়ছে আসামী সাদ্দামের বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক মামলা এবং আসামী রানার বিরুদ্ধে মাদক আইনে পাবনা সদর থানায় বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে।
২০১৮-এর ১৩ অক্টোবর সন্ত্রাসী কর্তৃক আক্রান্ত হওয়ার পর পরই সাংবাদিক হাবিবুর রহমান স্বপনকে ভর্তি করা হয় পাবনা জেনারেল হাসপাতালে এবং পরদিন ১৪ অক্টোবর ঢাকায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এর পর দিন ১৫ অক্টোবর হাবিবুর রহমান স্বপন নিজেই বাদি হয়ে পাবনা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ১৬ অক্টোবর সদর থানা মামলাটি নথিভুক্ত করে।
তদন্তকারী পুলিশ অফিসারসহ সদর থানার ওসি এবং পাবনার পুলিশ সুপারকে মামলাটি যতœ সহকারে তদন্ত করার জন্য সাংবাদিক মহলসহ হাবিবুর রহমান স্বপন বারংবার দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও মামলাটি তদন্তে যথাযথ গুরুত্ব প্রদান করা হয়নি।
ঘটনার পূর্বাপর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পুলিশ সুপার শেখ রফিকুল ইসলাম এবং তদন্তকারী সাব ইন্সপেক্টরকে বারংবার বলার পরেও হাবিবুর রহমান স্বপনের দেওয়া সন্দেহভাজনদের নাম মামলার অভিযোগে আনা হয়নি। পাবনা প্রেসক্লাব থেকে যখন হাবিবুর রহমান স্বপন যখন রওনা হন তখন প্রেসক্লাবের বিপরীত দিকের ইসলামী ব্যাংক এবং এ আর কর্ণারের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখার জন্য পুলিশকে বলার পরেও রহস্যজনক কারণে সেই ফুটেজ সংরক্ষণ করা হয়নি। সাঁথিয়া উপজেলার বিষ্ণুপুর গ্রামে শফিকুল ইসলাম (পিতা-আব্দুল জলিল) কে ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহ করার পরেও তাকে আসামী করা হয়নি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৮ সালে মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেন। এর ৯ জুন (২০১খ্রি.) ‘মাদক বিরোধী অভিযান এবং প্রসঙ্গিক ভাবনা’ শিরোনামে ‘সংবাদ’সহ কয়েকটি পত্রিকায় উক্ত অভিযান সফল করার পক্ষে জোড়ালো যুক্তি দিয়ে একটি উপসম্পাদকীয় লেখেন সাংবাদিক হাবিবুর রহমান স্বপন। এতে কয়েকজন মাদক কারবারীর নাম ছিল। তারাই ক্ষুব্ধ হয়ে সাংবাদিক হাবিবুর রহমান স্বপনের ওপর রাতের আধারে অতর্কিত হামলা চালায় বলে বিচার দাবি করে পাবনার সকল সাংবাদিক, পেশাজীবী, ব্যবসায়ী, সুধীমহল মিছিল, মিটিং এবং মানববন্ধন করেন। পাবনা প্রেসক্লাব, রিপার্টোর্স ইউনিটি, সংবাদপত্র পরিষদসহ সকল আন্দালনকারী মামলাটি সিআইডি অথবা পিবিআই’কে দেওয়ার জন্যও দাবি করেন। কিন্তু পুলিশ তা অগ্রহ্য করে বাদী ও ভিকটিম হাবিবুর রহমান স্বপনকে না জানিয়েই গত ৯ এপ্রিল চার্জশিট দাখিল করে। এ ব্যাপারে তদন্তকারী ইন্সপেক্টর এবং পুলিশ সুপারকে জিজ্ঞাসা করলে তারা সদুত্তোর দিতে পারেননি।